(ক)
ইংরেজি 'Law' শব্দটি টিউটনিক শব্দ 'Lag' থেকে এসেছে।
(খ)
বিশ্বের নাগরিক হিসেবে মানুষ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে সকল অধিকার ভোগ করে, তাকে মানবাধিকার বলে।
'মানবাধিকার' অধিকারেরই একটি বিস্তৃত রূপ, যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সুতরাং, মানবাধিকার বলতে আইনগত ও নৈতিক অধিকারগুলোর মধ্যে সেইসব অধিকারকে বোঝায়, যা পৃথিবীর সকল মানুষ দাবি করতে পারে। এই অধিকারগুলো কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা কালের সীমানায় আবদ্ধ নয়, বরং সর্বজনীন।
(গ)
উদ্দীপকের রোহিঙ্গারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।
মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির যেসব অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা প্রাপ্য, তাকে মানবাধিকার বলে। এটি মানুষের সেই জন্মগত অধিকারের সমষ্টি যা সব ধরনের বঞ্চনা, বৈষম্য ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষা দিতে বিকাশ লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক শান্তিসংস্থা জাতিসংঘের মতে, মানুষ তার জীবনে যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগের দাবিদার এবং যেগুলো ব্যতীত ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয় না, সেগুলোই মানবাধিকার। জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ১৫ নং ধারায় বলা হয়েছে, 'প্রত্যেকেরই জাতীয়তার অধিকার থাকবে।' যা ব্যক্তির অন্যতম ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে মানবাধিকারের আওতাভুক্ত।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন, যা ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত ঘোষণাপত্রের পরিপন্থি। অর্থাৎ রোহিঙ্গারা তাদের জাতীয়তা বা নাগরিকতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার মাধ্যমে নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, যা মানবাধিকারের ১৫ নং ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের রোহিঙ্গারা নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
(ঘ)
'জাতিসংঘ ঘোষিত ঘোষণাপত্রের বাস্তবায়নে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব' কথাটি যথার্থ।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর সকল জাতি ও জনগোষ্ঠীর অগ্রগতির সাধারণ মানদণ্ড হিসেবে সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র জারি করে। এই সনদের ৩ থেকে ৩০ নম্বর ধারা পর্যন্ত ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা জাতিসংঘভুক্ত সকল রাষ্ট্রের জন্য রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। বর্তমান বিশ্বে মাতৃভূমিতে সবচেয়ে নির্যাতিত জাতি হলো রোহিঙ্গা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের হত্যা, বাড়িঘর লুণ্ঠন ও উচ্ছেদের মাধ্যমে সরকার মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করেছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদের বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
১. ৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কারও প্রতি অমানুষিক নির্যাতন অথবা অবমাননাকর আচরণ করা যাবে না। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
২. ৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান এবং বৈষম্য ছাড়াই সকলের আইনের দ্বারা রক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা আইনের সুরক্ষা পায়নি।
৩. ১২ নম্বর ধারায় গৃহের নিরাপত্তা ও যোগাযোগের গোপনীয়তার কথা বলা হয়েছে, যা রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হয়েছে।
৪. ১৫ নম্বর ধারায় জাতীয়তার অধিকারের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু রোহিঙ্গাদের নাগরিকতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
৫. ২২ নম্বর ধারায় সামাজিক নিরাপত্তা লাভের অধিকারের কথা বলা হয়েছে, যা তারা পায়নি।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘ প্রণীত মানবাধিকার সনদের মৌলিক ধারাগুলো লঙ্ঘন করেছে। যদি আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে এবং জাতিসংঘ ঘোষিত এই ধারাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে।