Facebook Pixel

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত, যা ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত ঘোষণাপত্রের পরিপন্থি। ক. নেতৃত্ব কী? খ. আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে রোহিঙ্গারা কোন অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন? ব্যাখ্যা কর। ঘ. জাতিসংঘ ঘোষিত ঘোষণাপত্রের বাস্তবায়নে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব- বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

উৎস: Board Exam Question CB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) নেতৃত্ব হলো ব্যক্তি বা দলের সেই গুণাবলি, যার মাধ্যমে কোনো জাতি বা সমাজকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে উদ্বুদ্ধ ও পরিচালিত করা হয়। (খ) সমাজের সকল স্তরে আইনের প্রাধান্য স্বীকার করে আইন অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করাই হলো আইনের শাসন। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো আইনের দৃষ্টিতে সমতা, অর্থাৎ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ আইনের দৃষ্টিতে সমান। এছাড়া আইনের পূর্ণ প্রাধান্য নিশ্চিত করা হয়, যার ফলে কেউ অবৈধভাবে অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না এবং সরকারও আইন বহির্ভূতভাবে জনগণের অধিকার খর্ব করতে পারে না। (গ) উদ্দীপকের রোহিঙ্গারা 'মানবাধিকার' লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। মানুষ পৃথিবীতে জন্মগতভাবে যেসব সুযোগ-সুবিধার দাবিদার হয় এবং যা ছাড়া মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়, তাকে মানবাধিকার বলে। এটি সর্বজনীন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, বিশ্বের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও শান্তির ভিত্তি হলো সব মানুষের সহজাত মর্যাদা ও অবিচ্ছেদ্য অধিকারের স্বীকৃতি। উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছে, যা জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের পরিপন্থি। কাউকে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা বা দেশ ত্যাগে বাধ্য করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সুতরাং, রোহিঙ্গারা এখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। (ঘ) জাতিসংঘ ঘোষিত ঘোষণাপত্রের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর বিশ্বমানবতার জন্য সর্বজনীন মানবাধিকার বিষয়ক এক ঐতিহাসিক দলিল অনুমোদন করে, যার শিরোনাম 'মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র'। এই দলিলে প্রতিটি মানুষের জন্য কিছু অবিচ্ছেদ্য অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব। ঘোষণাপত্রের প্রাসঙ্গিক বিধানসমূহ নিম্নরূপ: ১. প্রত্যেকেরই জীবনধারণ, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার থাকবে। ২. কাউকে নির্যাতন অথবা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা মর্যাদাহানিকর ব্যবহার ও শাস্তির সম্মুখীন করা যাবে না। ৩. আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান এবং বিনা কারণে কাউকে গ্রেফতার, আটক বা নির্বাসিত করা যাবে না। ৪. প্রত্যেকের নিজ দেশে স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও বসবাসের অধিকার রয়েছে। মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে রোহিঙ্গাদেরও সেখানে স্বাধীনভাবে বসবাস করার আইনি ও মানবিক অধিকার রয়েছে। যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘের এই ঘোষণাপত্রের বিধিবিধানগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে, তবে রোহিঙ্গারা নিরাপদভাবে তাদের নিজ বাসভূমে ফিরে যেতে পারবে। সুতরাং, উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের কার্যকর বাস্তবায়নই পারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2025)

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত, যা ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত ঘোষণাপত্রের পরিপন্থি।

ক. নেতৃত্ব কী?

খ. আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে রোহিঙ্গারা কোন অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. জাতিসংঘ ঘোষিত ঘোষণাপত্রের বাস্তবায়নে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব- বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।