(ক)
'Natio' বা 'Natus' শব্দের অর্থ হলো 'Birth' বা জন্ম।
(খ)
জাতীয়তার অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ভাবগত বা মানসিক ঐক্য। জাতি গঠনের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভৌগোলিক বা ভাষাগত ঐক্য ছাড়াও একটি জনসমষ্টির মধ্যে যদি অভিন্ন ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মানসিক ঐক্যের বন্ধন বিদ্যমান থাকে, তবে তারা নিজেদের একটি জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। অধ্যাপক স্পেংলারের মতে, জাতীয়তার মূল ভিত্তি বংশগত বা ভাষাগত ঐক্য নয়, বরং এটি হলো ভাবগত ঐক্য। অর্থাৎ, জাতীয়তা মূলত একটি মানসিক ধারণা, যা মানুষের মনের গভীর থেকে উৎসারিত হয়।
(গ)
উদ্দীপকে মি. দুর্জয়ের মধ্যে দেশপ্রেমের অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। দেশপ্রেম হলো নিজের মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা, মমতা এবং দেশের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার মানসিকতা। এটি এমন এক পবিত্র অনুভূতি যা একজন নাগরিককে তার জন্মভূমির মাটি, ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষের সাথে একাত্ম করে তোলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশের নাগরিক মি. দুর্জয় সুদূর প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের জাতীয় দিবসসমূহ যেমন শহিদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস পালন করেন। এছাড়া তিনি বাংলা নববর্ষ ও বসন্তবরণের মতো সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোও উদ্যাপন করেন। প্রবাসে থেকেও নিজ দেশের সংস্কৃতি ও জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি তার এই গভীর অনুরাগ এবং তা চর্চার প্রচেষ্টা স্পষ্টভাবে তার দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। তিনি ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করে মানসিকভাবে নিজ দেশের সাথে যুক্ত আছেন, যা দেশপ্রেমের একটি অনন্য উদাহরণ।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে জাতীয়তার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও গভীর। জাতীয়তা হলো একটি মানসিক ধারণা, যা মূলত দেশপ্রেমের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে।
জাতীয়তা বলতে বোঝায় ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক সান্নিধ্যের সূত্রে আবদ্ধ এমন এক জনসমষ্টিকে, যারা নিজেদের অন্য জনসমষ্টি থেকে আলাদা মনে করে। এই জাতীয়তাবোধের মূলে থাকে নিজের দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা বা দেশপ্রেম। একজন মানুষ যখন তার জন্মভূমির আলো-বাতাস, অন্ন-জল ও সংস্কৃতির প্রতি মমত্ববোধ অনুভব করে, তখনই তার মধ্যে জাতীয়তাবোধের জন্ম হয়। উদ্দীপকে মি. দুর্জয়ের কর্মকাণ্ডে যে দেশপ্রেমের প্রতিফলন দেখা গেছে, তা মূলত তার জাতীয়তাবাদী চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের জাতীয় দিবস ও উৎসবগুলো পালন করছেন, কারণ তিনি নিজেকে বাংলাদেশের জাতীয়তার অংশ মনে করেন।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী নেতারা তাদের দেশপ্রেমের মাধ্যমেই জাতীয়তার চেতনাকে জাগ্রত করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন বা মোস্তফা কামাল পাশার মতো নেতারা তাদের অসীম দেশপ্রেমের মাধ্যমে নিজ নিজ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরিশেষে বলা যায়, দেশপ্রেম হলো জাতীয়তার প্রাণশক্তি। জাতীয়তার চেতনা ছাড়া দেশপ্রেম যেমন অর্থহীন, তেমনি দেশপ্রেম ছাড়া জাতীয়তাও তার ভিত্তি খুঁজে পায় না। তাই জাতীয়তা ও দেশপ্রেম একে অপরের পরিপূরক।