Facebook Pixel

বাংলাদেশের অর্থনীতি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মানবসম্পদ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, ডাক ও তার, জনস্বাস্থ্য, বাসস্থান, পরিবার কল্যাণ, সেতু ও বিদ্যুৎ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, শক্তি সম্পদ, নদ-নদী, বৈদেশিক রেমিট্যান্স, উর্বর ভূমি, মৎস্যসম্পদ এবং তৈরি পোশাক শিল্প। এসব উপাদান দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতএব, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এসব সম্পদের সুষ্ঠু পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সর্বোত্তম ব্যবহার একান্ত অপরিহার্য। ক. অর্থনৈতিক কাঠামো কী? খ. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা কীভাবে বিপন্ন করে? গ. উদ্দীপকে নির্দেশিত উপাদানগুলো কোন্ ধরনের? চিহ্নিত কর। ঘ. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উপাদানের তুলনামূলক গুরুত্ব উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিচয়

উৎস: Test Exam Question CVGC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যেসব খাত ও উপখাতের ওপর ভিত্তি করে একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি গড়ে ওঠে, তাকে অর্থনৈতিক কাঠামো বা অবকাঠামো বলে। (খ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থাকে যেভাবে বিপন্ন করেছিল তা নিচে আলোচনা করা হলো: ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন। এই ব্যবস্থার ফলে জমির ওপর কৃষকদের দীর্ঘদিনের মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তারা জমিদারদের প্রজা বা রায়তে পরিণত হয়। এর ফলে কৃষকদের ওপর জমিদারদের চরম শোষণ ও নির্যাতন শুরু হয়। কৃষকরা জমিদারদের ইচ্ছানুযায়ী জমিতে চাষাবাদ করতে বাধ্য হতো এবং অতিরিক্ত খাজনার চাপে অনেক কৃষক তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এভাবে কৃষকদের চরম দারিদ্র্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিপর্যয় ঘটে, যা সামগ্রিকভাবে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থাকে বিপন্ন করে তোলে। (গ) উদ্দীপকে নির্দেশিত উপাদানগুলো হলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর উপাদান। একটি দেশের অর্থনীতি যেসব ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠে তাকে অর্থনৈতিক কাঠামো বলে। এই অবকাঠামোকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: সামাজিক অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো। উদ্দীপকের উপাদানগুলোকে এই দুই ভাগে নিম্নোক্তভাবে চিহ্নিত করা যায়: ১. সামাজিক অবকাঠামো বা উপাদান: মানবসম্পদ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, জনস্বাস্থ্য, বাসস্থান, পরিবার কল্যাণ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ। ২. অর্থনৈতিক অবকাঠামো বা উপাদান: যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, ডাক ও তার, সেতু ও বিদ্যুৎ, শক্তি সম্পদ, নদ-নদী, বৈদেশিক রেমিট্যান্স, উর্বর ভূমি, মৎস্যসম্পদ এবং তৈরি পোশাক শিল্প। (ঘ) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উভয় উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম এবং এরা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। যাতায়াত, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসম্পদ, ব্যাংক ও বিমার মতো অর্থনৈতিক বা ভৌত অবকাঠামো দেশের কৃষি ও শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি করে এবং সরাসরি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া শুধু ভৌত অবকাঠামো দিয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ ও পরিবার কল্যাণের মতো সামাজিক উপাদানগুলো দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে, যা অর্থনৈতিক উপাদানগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং সার্বিক উন্নয়নের পথ সুগম করে। উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে উর্বর ভূমি, নদ-নদী, মৎস্যসম্পদ এবং তৈরি পোশাক শিল্পের মতো অর্থনৈতিক উপাদানগুলো উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ও আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করছে। তবে এই সম্পদগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য দক্ষ কারিগর ও ব্যবস্থাপক প্রয়োজন। উদ্দীপকে উল্লিখিত সম্পদের সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও জনস্বাস্থ্যের মতো সামাজিক উপাদানের উন্নয়ন জরুরি। কারণ আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনা বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার জন্য সুস্থ ও প্রশিক্ষিত মানুষ প্রয়োজন। দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া অর্থনৈতিক উপাদানগুলোর সদ্ব্যবহার বা কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। পরিশেষে বলা যায়, অর্থনৈতিক উপাদান উন্নয়নের শরীর গঠন করে আর সামাজিক উপাদান তাতে প্রাণ সঞ্চার করে। অর্থনৈতিক উপাদান ছাড়া যেমন উৎপাদন সম্ভব নয়, তেমনি সামাজিক উপাদান ছাড়া সেই উৎপাদনের স্থায়িত্ব থাকে না। তাই বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে ভৌত কাঠামোর পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্ব সমান।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Comilla Victoria Govt. College (2026)

বাংলাদেশের অর্থনীতি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মানবসম্পদ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, ডাক ও তার, জনস্বাস্থ্য, বাসস্থান, পরিবার কল্যাণ, সেতু ও বিদ্যুৎ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, শক্তি সম্পদ, নদ-নদী, বৈদেশিক রেমিট্যান্স, উর্বর ভূমি, মৎস্যসম্পদ এবং তৈরি পোশাক শিল্প। এসব উপাদান দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতএব, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এসব সম্পদের সুষ্ঠু পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সর্বোত্তম ব্যবহার একান্ত অপরিহার্য। ক. অর্থনৈতিক কাঠামো কী? খ. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা কীভাবে বিপন্ন করে? গ. উদ্দীপকে নির্দেশিত উপাদানগুলো কোন্ ধরনের? চিহ্নিত কর। ঘ. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উপাদানের তুলনামূলক গুরুত্ব উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

SDG কী?

অর্থনীতির শিক্ষক আসাদ সাহেব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, "সমষ্টিগত অর্থ...

অর্থনৈতিক কাঠামো কী?

অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত?

ইংরেজ শাসকেরা ২০০ বছর এ উপমহাদেশে শাসন ও শোষণ করেছে। পরে পাকিস্তান রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ২৪ বছর নির্বিচার নির্যাতন শোষণ করে...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : এক সময় বাংলা এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী একটি সময়কাল বাংলার অর্থনৈত...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : এক সময় বাংলা এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী একটি সময়কাল বাংলার অর্থনৈত...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দীর্ঘদিনের শাসন ও শোষণের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পরে শি...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দীর্ঘদিনের শাসন ও শোষণের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পরে শি...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : সুপ্রাচীনকাল হতে বাংলাদেশ সুজলা-সুফলা দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।