ক.
'Rapport' শব্দের অর্থ 'পেশাগত সম্পর্ক'।
খ.
জনগণের সার্বিক কল্যাণের নিমিত্তে সামাজিক নীতির আলোকে গৃহীত কার্যাবলি ও দায়িত্বের সুসংহত বণ্টন এবং কার্যসম্পাদন প্রক্রিয়াই হলো সমাজকর্ম প্রশাসন। অর্থাৎ সমাজকর্ম প্রশাসন হলো 'এমন একটি প্রশাসন যেখানে প্রতিটি পর্যায় অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, কর্মসূচি গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নসহ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সমাজকর্মের নীতি ও মূল্যবোধকে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়। এখানে সমাজকর্মী তার দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যার্জনে যথাযথ ভূমিকা পালন করে।
গ.
উদ্দীপকে সমাজকর্মের সামাজিক কার্যক্রম প্রক্রিয়ার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।
সমাজকর্মের অন্যতম সহায়ক পদ্ধতি হলো সামাজিক কার্যক্রম। সামাজিক কার্যক্রম পরিকল্পিত ও সংগঠিত উপায়ে সমাজ পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া। উদ্দীপকের বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে সামাজিক কার্যক্রমের বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কারণ সমাজকর্ম অভিধানের ভাষা, "সামাজিক কার্যক্রম হলো সামাজিক সমস্যার সমাধান, অন্যায় বা অবিচার সংশোধন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও চাহিদা পূরণে লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা।” সামাজিক কার্যক্রমের উপাদান মোট পাঁচটি। যথা- ১. গবেষণা, ২. পরিকল্পনা, ৩. জনসমর্থন আদায়, ৪. ব্যাখ্যাকরণ ও ৫. বাস্তবায়ন। অনেক পণ্ডিত 'ব্যাখ্যাকরণ' স্থলে 'সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উপস্থাপনা' উল্লেখ করেছেন। এ উপাদানগুলো কার্যকর উপস্থিতিতে সমাজকর্মের সামাজিক কার্যক্রম পদ্ধতি বাস্তবায়িত হয়।
সর্বোপরি তাই দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে সামাজিক কার্যক্রমের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘ.
সামাজিক কার্যক্রম পদ্ধতি সমাজ থেকে বৈষম্য দূরীকরণে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
সামাজিক কার্যক্রম মূলত জনগণকে সরাসরি যুক্ত করার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হয়। তাই এ প্রক্রিয়া যেকোনো পদক্ষেপে বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে। এছাড়াও সমাজে বৈমষ্য তৈরির পিছনে যে কারণগুলো রয়েছে। তা হলো- অধিকারহীনতা, অজ্ঞতা, অসচেতনতা, দরিদ্রতা প্রভৃতি মোকাবিলায় সামাজিক কার্যক্রম মুখ্য পদ্ধতি। সমাজে বসবাসরত সকল মানুষ যাতে তার অধিকার ভোগ করতে পারে সে ব্যাপারে সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে সজাগ ও সচেতন করে আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট করা যায়। যা তাদের অধিকার আদায়ের পথকে মসৃণ করে। আবার অজ্ঞতা ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন জনসমষ্টি বৈষম্যের স্বীকার হয়। এসব ব্যক্তির ভ্রান্ত বিশ্বাস, কুসংস্কার, কুপ্রথার বিরুদ্ধে জনমত গঠন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, আইন প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করে তাদের পশ্চাৎমুখী মনোভাব দূর করা হলে বৈষম্য কমে আসে। তৃতীয়ত, অসচেতন মানুষ নিজেরাই নিজেদের বৈষম্যের জন্য দায়ী। তাই জনসমষ্টিকে সচেতন করে গড়ে তুলতে সামাজিক কার্যক্রমের বিকল্প ভাবা যায় না। চতুর্থত, দারিদ্র্যের ফলে আমাদের সমাজে বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন কাজ সহজতর হয়। জনসংখ্যাজনিত বেকারত্ব ও নারীর পরনির্ভরশীলতার মনোভাব দূর করে উৎপাদনশীল মনোভাব তৈরিতে এ পদ্ধতি বাস্তবসম্মত ভূমিকা রাখে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে সমাজকর্মের সামাজিক কার্যক্রম পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি কার্যকর প্রক্রিয়া।