Facebook Pixel

বিশ শতকের শেষের দিকে দুটি দেশের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অবসান মানবজাতি ও বিশ্বসভ্যতাকে ধ্বংসের হাত থেকে মুক্ত করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এ যুদ্ধাবস্থার উদ্ভব যেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তেমনি বিশ শতকের শেষের দিকে এসে যুদ্ধাবস্থার অবসান একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়। ক. 'গ্লাসনস্ত' কী? খ. ট্রুম্যান নীতি বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধাবস্থা কীভাবে দূর করা হয়? বর্ণনা দাও। ঘ. উক্ত যুদ্ধের অবসানের ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি বিশ্বকে এককেন্দ্রিক বিশ্বে পরিণত করেছে।"- মতামত দাও।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ স্নায়ুযুদ্ধঃ পরবর্তী বিশ্ব

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. 'গ্লাসনস্ত' হলো খোলামেলা আলোচনার নীতি। খ. পূর্ব ইউরোপীয় দেশসমূহে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হলে এর প্রসার রোধে ১৯৪৭ সালের ১২ মার্চ প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান তার 'ট্রুম্যান ডকট্রিন' কংগ্রেসের সামনে উপস্থাপন করেন। কংগ্রেসে তিনি বলেন, "মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির উদ্দেশ্য হলো এমন একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি করা, যার ফলে সব জাতি স্বাধীনভাবে বল প্রয়োগ ছাড়াই বসবাস করতে পারবে।" গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধাবস্থা বলতে স্নায়ুযুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আশির দশকে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা কমতে কমতে শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের মধ্য দিয়ে এর অবসান ঘটে। ১৯৮৭ সালে দুই পরাশক্তির মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ ধ্বংস করতে দুই পরাশক্তি ঐকমত্যে পৌছে। অতঃপর ১৯৮৯ সালের ২ এপ্রিল নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় এক নিবন্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের ঘোষণা প্রদান করে। ঐ বছরেরই ৩ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ এবং সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ মাল্টায় শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন। এ শীর্ষ সম্মেলন থেকে উভয়ে উভয় দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করেন। যা বিশ্বের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশ শতকে একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অবসান মানবজাতি ও বিশ্ব সভ্যতাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মূলত স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের কথাই ইঙ্গিত করা হয়েছে। ঘ. উদ্দীপকে যায়যুদ্ধের ইঙ্গিত রয়েছে। এ যুদ্ধের অবসানের ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি বিশ্বকে এককেন্দ্রিক বিশ্বে পরিণত করেছে- বক্তব্যটি যথার্থ ও সঠিক। ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু করে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত স্নায়ুযুদ্ধকালীন বিশ্বব্যবস্থায় প্রধানত দ্বিমেরুকরণ শক্তিব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দুই পরাশক্তি দ্বিমেরুকরণ শক্তি ব্যবস্থার শীর্ষে অবস্থান করছিল। সে সময় বিশ্বকে দ্বিমাত্রিক বিশ্ব বলা হতো। স্নায়ুযুদ্ধ শেষে সাভিয়েত ইউনিয়নের পতনে বিশ্বের শক্তিসাম্য নষ্ট হয় এবং বিশ্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এককেন্দ্রিক বিশ্ব গড়ে ওঠে। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ফলে আমেরিকা বর্তমানে পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে শক্তিশালী কোনো প্রতিপক্ষের সম্মুখীন হচ্ছে না। বিশ্বায়নের নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমগ্র বিশ্বে নিজ আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার করে সাম্রাজ্যবাদী লিঙ্গা চরিতার্থ করছে। পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ও প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। সুতরাং উপরের আলোচনা-পর্যালোচনাও বিশ্লেষণপূর্বক একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলেই বিশ্ব এককেন্দ্রিক বিশ্বে পরিণত হয়েছে

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বিশ শতকের শেষের দিকে দুটি দেশের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অবসান মানবজাতি ও বিশ্বসভ্যতাকে ধ্বংসের হাত থেকে মুক্ত করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এ যুদ্ধাবস্থার উদ্ভব যেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তেমনি বিশ শতকের শেষের দিকে এসে যুদ্ধাবস্থার অবসান একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়।

ক.

'গ্লাসনস্ত' কী?

খ.

ট্রুম্যান নীতি বলতে কী বোঝ?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধাবস্থা কীভাবে দূর করা হয়? বর্ণনা দাও।

ঘ.

উক্ত যুদ্ধের অবসানের ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি বিশ্বকে এককেন্দ্রিক বিশ্বে পরিণত করেছে।"- মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।