ক.
ওয়ার্ল্ড ভিশন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫০ সালে।
খ.
টেকসই উন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে অগ্রাধিকারমূলক প্রতিটি দেশের সামর্থ্য গড়ে তোলাই ইউএনডিপির মূল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন রাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, বিভিন্ন সংকট প্রতিরোধে সহায়তা করাও এ সংগঠনের উদ্দেশ্যর অন্তর্ভুক্ত।
গ.
উদ্দীপকে সেভ দ্য চিলড্রেনের কয়েকটি কার্যাবলির প্রকাশ ঘটেছে।সেভ দ্য চিলড্রেনের একটি কার্যক্রম হলো শিশুদের নিরাপত্তা কর্মসূচি। বিশ্বের সব দেশের শিশুদের অবহেলা, শোষণ, নির্যাতন, পাচার এবং অন্যান্য সহিসংসতা থেকে সুরক্ষা দেয় সেভ দ্য চিলড্রেন। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য, যৌন হয়রানি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেওয়া, শিশুদের শোষণ-নির্যাতন থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং শিশুদের মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ কার্যক্রম সম্পাদন করে। সেভ দ্য চিলড্রেন শিশুদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। ঝরে পড়া শিশুদের উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা, কর্মজীবী শিশু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশু, যৌনপল্লির শিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা; কর্মজীবী শিশুদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা; শিক্ষার শিক্ষার্থীসংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেভ দ্য চিলড্রেন বিশ্বের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়নে কাজ করে। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্যের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, সম্প্রসারণ ও গুণগত মান উন্নয়নে এ সংস্থা কাজ করছে। অপুষ্টি প্রতিরোধের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নির্বাচন জন্য সংস্থাটি মাতাপিতাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিশুদের সুরক্ষা দ্বারা নিরাপত্তা কার্যক্রম, শিক্ষা দ্বারা শিক্ষা কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি শব্দ দ্বারা স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘ.
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী। শিক্ষা ক্ষেত্রে সমাজকর্মীরা বিদ্যালয় সমাজকর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সামাজিক, মানসিক ও পারিবারিক সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে সহায়তা করেন। তারা শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং প্রদান, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে সমন্বয় সাধন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করার জন্য কাজ করেন। এছাড়া ঝরে পড়া রোধ, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ, মাদকাসক্তি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতেও সমাজকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হয়। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও সমাজকর্ম পদ্ধতির কার্যকর প্রয়োগ রয়েছে। হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সমাজকর্মীরা রোগীদের মানসিক সমর্থন প্রদান, চিকিৎসা গ্রহণে দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে সমন্বয় স্থাপন করেন। তারা রোগীর পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এছাড়া দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় সমাজকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সুতরাং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ মানুষের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কার্যকর ও অপরিহার্য।