ক.
সমষ্টি সংগঠনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Community Organization.
খ.
সমষ্টি উন্নয়ন বলতে সমষ্টির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য স্থানীয় জনগণ ও সরকারের যৌথ প্রচেষ্টাকে বোঝায়। সাধারণভাবে সমষ্টি উন্নয়ন হলো একটি সমষ্টিকে বেছে নেওয়া এবং সেই সমষ্টির আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা। অন্যভাবে বলা যায়, স্বল্পোন্নত বা অনুন্নত দেশের জনসাধারণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হলো সমষ্টি উন্নয়ন। সমাজকর্মের এই পদ্ধতিটি সমষ্টির উন্নয়নে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
গ.
উদ্দীপকটি সমাজকর্মের অন্যতম সহায়ক পদ্ধতি সমাজকর্ম প্রশাসনকে ইঙ্গিত করে।
সাধারণত সমাজকর্ম প্রশাসন বলতে সমাজসেবা প্রদানকারী কার্যক্রমের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনকে বোঝায়। সমাজকর্ম প্রশাসন সমাজকর্মের পেশাগত জ্ঞান, দর্শন, নীতি, ও কৌশলের আলোকে গড়ে ওঠে। এটি প্রত্যক্ষভাবে সমাজকল্যাণমূলক কাজের সাথে জড়িত। সমাজকর্ম প্রশাসনে সমাজকর্মীরা প্রতিষ্ঠানের আওতায় থেকে পেশাগত নীতিমালার আলোকে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ নিরিখে সমাজকর্ম প্রশাসন কতগুলো উপাদানের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। যেমন, কর্মসূচি, প্রণয়ন, কর্মচারী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দান, সাংগঠনিক কাঠামো, জনসংযোগ পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া, ভৌত কাঠামো, অর্থায়ন ইও বাজেট, গবেষণা ও মূল্যায়ন প্রভৃতি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব সালাম তার এলাকায় সমস্যাগ্রস্তদের সেবা প্রদানের জন্য একটি মানবিক সংস্থা গড়ে তোলেন। উক্ত সংস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী নীতিমালা, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নিয়োগ করেন ও তাদের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। উদ্দীপকের এ বিষয়টি ওপরে বর্ণিত সমাজকর্মের সহায়ক ↑ পদ্ধতি সমাজকর্ম প্রশাসনের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ.
সমাজকর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে উদ্দীপকে নির্দেশিত সমাজকর্ম প্রশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম।
সামাজিক নীতিকে সমাজসেবায় রূপান্তরের মূল বাহন হচ্ছে সমাজকর্ম ! প্রশাসন। সামাজিক নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার যথার্থতা ও কার্যকারিতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ প্রশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজকর্ম প্রশাসন সুচিন্তিত উপায়ে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, এ কর্মচারীদের নির্দেশনা দান এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এতে প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
পরিবর্তনশীল আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গতিশীল ও * বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সমাজকর্ম প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সমাজকর্ম প্রশাসন সীমিত সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের সর্বোত্তম উপায় নির্ধারণ করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের * কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। ফলে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। সমাজকর্ম প্রশাসন যৌথ এবং সমবেত কার্যক্রম গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির । অন্যতম মাধ্যম। কারণ সমাজকল্যাণ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ, কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রতিটি পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গৃহীত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, সমাজসেবায় নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠানে সমাজকর্ম প্রশাসনের ভূমিকা অপরিসীম। সমাজকর্ম প্রশাসন সুচিন্তিত উপায়ে যাবতীয় কর্মসূচির পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করে। সমাজকর্ম প্রশাসন পরিকল্পনা মোতাবেক প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যের সুষ্ঠু সম্পাদন নিশ্চিত করে।