Facebook Pixel

বিশ্ব রাজনীতির এক অন্যতম থিওরি হচ্ছে 'শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু'। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো এই থিওরি মেনেই কেউ আমাদের সহযোগিতা করেছে আবার কেউ বিরোধিতা করেছে। ক. মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন? খ. বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ব্যাখ্যা করো। গ. উপরের উদ্দীপকে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার কথা বোঝানো হয়েছে? আলোচনা করো। ঘ. উপরের উদ্দীপক অনুযায়ী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চীন, ভারত, রাশিয়া ও আমেরিকার অবস্থান বর্ণনা করো।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি ও বহিঃবিশ্ব

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। খ. পরাজয় নিশ্চিত জেনে আল-বদর ও রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় পাকিস্তান 'সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে বুদ্ধিজীবী অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটায়। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত। বাংলাদেশের ইতিহাসে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঢাকার বুদ্ধিজীবীদের' শিয়ালবাড়ী ও মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে আরও অনেক বধ্যভূমিতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। মূলত বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়। গ. উদ্দীপকের 'শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু' থিওরি এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রের ভূমিকা ও বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণকে নির্দেশ করে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত ছিল না, বরং এটি তৎকালীন স্নায়ুযুদ্ধের (Cold War) প্রেক্ষাপটে বিশ্ব রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই যুদ্ধে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো তাদের নিজস্ব স্বার্থ ও রাজনৈতিক বলয় রক্ষার জন্য বিভিন্ন পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছিল। একদিকে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করে। উদ্দীপকের থিওরি অনুযায়ী, ভারতের প্রধান শত্রু ছিল পাকিস্তান, তাই পাকিস্তানের শত্রু বাঙালিদের ভারত অকুন্ঠ সমর্থন দেয়। আবার সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ভারতের মৈত্রী চুক্তি থাকায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খর্ব করতে তারা বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানের পক্ষ নেয়। এভাবে বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ও 'শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু' নীতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘ. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চীন, ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়কে নানাভাবে প্রভাবিত করেছিল। তৎকালীন বিশ্ব রাজনীতিতে দুটি প্রধান বলয় ছিল- একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী বলয় এবং অন্যটি সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বলয়। এই স্নায়ুযুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একটি আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে, যেখানে রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও কৌশলগত মিত্রতার ভিত্তিতে অবস্থান গ্রহণ করে। উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সহযোগী হিসেবে প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় এবং জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে উত্থাপিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে বারবার 'ভেটো' দিয়ে বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার দোহাই দিয়ে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের প্রভাব বজায় রাখতে পাকিস্তানের পক্ষ নেয় ও বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়ে ভীতি প্রদর্শন করে। চীনও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে এবং ভারতের সাথে বৈরিতার কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে ও পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ করে। আলোচনা শেষে বলা যায়, 'শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু' এই নীতি অনুসরণ করে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোয় আমাদের স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত হয়। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল, কিন্তু বিশ্ব জনমত এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের দৃঢ় অবস্থানের কারণে তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে পারেনি। এই আন্তর্জাতিক মেরুকরণ ও পরাশক্তিগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্বীকৃত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বিশ্ব রাজনীতির এক অন্যতম থিওরি হচ্ছে 'শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু'। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো এই থিওরি মেনেই কেউ আমাদের সহযোগিতা করেছে আবার কেউ বিরোধিতা করেছে।

ক.

মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

খ.

বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ব্যাখ্যা করো।

গ.

উপরের উদ্দীপকে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার কথা বোঝানো হয়েছে? আলোচনা করো।

ঘ.

উপরের উদ্দীপক অনুযায়ী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চীন, ভারত, রাশিয়া ও আমেরিকার অবস্থান বর্ণনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ICEC আন্তর্জাতিক সংস্থা যার উদ্দেশ্য হলো- i. শরণার্থী শিবিরে ত্রাণ বিতরণ ii.অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীদের মাঝে খাবার ও চিকিৎসা ...

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন কে?

মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে কোন দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়?

সোভিয়েত ইউনিয়নের নৌবহরে মোট কতটি যুদ্ধজাহাজ ছিল?

অনুচ্ছেদটি পড়ে নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাওঃ 'ক' দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এক বিরূপ মন্...

আজকের আমেরিকা একসময় ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল। আঠারো শতকের শেষের দিকে আমেরিকানরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীন...

আজকের আমেরিকা একসময় ব্রিটিশের ঔপনিবেশ ছিল। আঠারো শতকের শেষের দিকে আমেরিকানরা ব্রিটিশের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীন...

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অন্ত সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌ পথে আমেরিকার স্বাধীনতাকাম...

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌপথে আমেরিকার স্বাধীনতাকা...

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌ পথে আমেরিকার স্বাধীনতাক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।