ক.
সুশাসনের একটি উপাদান হলো 'গণতন্ত্র'।
খ.
আইনের শাসন বলতে আইনের চোখে সবাই সমান এবং সবকিছুর উপরে আইনের প্রাধান্যের স্বীকৃতিকে বোঝায়। আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি এবং ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাই আইনের কাছে সমান। আইনের শাসনের ফলে নাগরিক ও শাসকের জন্য আইন সমভাবে কার্যকর হয়। ফলে স্বাধীনতা ও সাম্য সুরক্ষিত হয়।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত দেশে সুশাসনের অভাব পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বিশ্বে এখনও অনেক রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার থাকা সত্ত্বেও সেখানে দুর্নীতি, অদক্ষতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদির কারণে জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। উদ্দীপকে বর্ণিত এ দেশে সুশাসনের অভাব রয়েছে। কারণ দেশটিতে সুশাসনের তিনটি সমস্যা বা অন্তরায় সে দেশে বিদ্যমান রয়েছে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বড় একটি বাধা হলো দুর্নীতি। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় যদি দুর্নীতি প্রবেশ করে তবে সেখানে ন্যায়পরায়ণতা, আইনের শাসন সুদূরপরাহত বিষয়ে পরিণত হয়। শাসনব্যবস্থায় দুর্নীতি জনসাধারণকে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। দুর্নীতি জনগণের দুর্ভোগ বাড়ায়, দুর্নীতি জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায় এবং দুর্নীতি হলো দারিদ্র্যের মূল কারণ। তাছাড়া দেশটিতে অদক্ষতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বিষয় দুটিও পরিলক্ষিত হয়। যেকোনো রাষ্ট্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে আমলাদের অবশ্যই প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন হতে হয়। আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। উদ্দীপকেও আমরা অদক্ষতার বিষয়টি দেখি, যা দেশটির সুশাসনের অভাবকেই নির্দেশ করে। আবার "ক্ষমতা মানুষকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে চরম ক্ষমতা চরমভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত করে”- বার্ট্রান্ড রাসেলের এ কথাটি থেকে সহজেই বোধগম্য হয় যে, কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা সুশাসনের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যদি কেবল একজন বা কয়েকজন ব্যক্তি ও সংগঠনের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে, তবে তাদেরকে এটি স্বেচ্ছাচারী করে তুলতে পারে। তাই ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন থাকা দরকার।
অতএব এটি স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে বর্ণিত দেশে সুশাসনের অভাব পরিলক্ষিত হয়।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত দেশে উল্লেখকৃত সমস্যাসমূহ দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব।
উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটিতে সুশাসনের যে তিনটি সমস্যা বা অন্তরায়ের কথা উল্লেখ রয়েছে সেই তিনটি সমস্যার সমাধান করতে হবে সর্বাগ্রে এবং অতঃপর দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবেই জনগণের উন্নয়ন সম্ভব হবে।
দুর্নীতি হলো সুশাসনের একটি বড় রকমের অন্তরায়। এটি একটি অভিশাপ বলা চলে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দুর্নীতি থাকলে সেখানে আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা কল্পনামাত্র। দুর্নীতির কারণে জনগণ প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। দুর্নীতি সামাজিক বৈষম্য ও ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়, দুর্নীতি জনদুর্ভোগ বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন ব্যাহত করে। দুর্নীতি দারিদ্র্যের মূল কারণ। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করলে উদ্দীপকে বর্ণিত দেশের জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে। তাছাড়া অদক্ষতাও সুশাসনের অন্তরায়। আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করা যায় না। উক্ত দেশে আমলাদের অবশ্যই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে, যাতে সুশাসন নিশ্চিত হবে এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব হবে। আবার ক্ষমতার অপব্যবহার সুশাসনকে ব্যাহত করে। কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা মানুষকে স্বেচ্ছাচারী করে। ক্ষমতা কাঠামো কর্তৃত্বমূলক হলেও সেখানে সুশাসন বজায় থাকে না। তাই ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন থাকা দরকার। এতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকের দেশের জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য আইন, বিচার ও শাসন বিভাগের মধ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতার ভাগাভাগি করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যথাযথ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি আইনসভা থাকতে হবে। তাহলে উক্ত দেশে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।