ক.
পরিবার হলো বিবাহ দ্বারা গঠিত একটি সুনির্দিষ্ট জুটি, যা সন্তান প্রসবের এবং লালন-পালনের জন্য সুযোগ প্রদান করে। স্বামী ও স্ত্রীর এরূপ বন্ধনের মাধ্যমেই একটি পরিবার গড়ে তোলে।
খ.
সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলতে কতকগুলো প্রতিষ্ঠিত আচার-আচরণ এবং কার্যপ্রণালিকে বোঝায়। যেমন- বিবাহ, পরিবার, ধর্ম ইত্যাদি। সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমাজে অনুমোদিত কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে মানুষের বহুমুখী মানবিক প্রয়োজন পূরণ করে। এর মাধ্যমে সমাজকর্মের নির্ধারিত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক প্রবর্তিত কতিপয় নিয়মনীতি বা পদ্ধতি সমাজের মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
গ.
উদ্দীপকে সামাজিক প্রতিষ্ঠান ধর্মের ইঙ্গিত করা হয়েছে। মানব সমাজের একটি প্রাচীন প্রতিষ্ঠান হলো ধর্ম। পৃথিবীতে এমন কোনো সমাজ খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে ধর্মের প্রতি বিশ্বাস বা কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নেই। ধর্ম হলো অতিপ্রাকৃত শক্তিকে কেন্দ্র করে যেসব বিশ্বাস এবং ক্রিয়াকাণ্ডের উদ্ভব হয়েছে, সেসব কিছুর সমষ্টিই মানুষের ধর্ম। প্রার্থনা, উৎসর্গ এবং অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান ছাড়া শুধু বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে যে ধর্ম তা ধর্ম নয়। ধর্ম হলো পূর্ণ জীবনব্যবস্থা। তাই ব্যক্তিগত ও সামাজিক ক্ষেত্রসসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে এর প্রভাব লক্ষ করা যায়।
সুতরাং উদ্দীপকে যে বিশ্বাসকে সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো ধর্ম।
ঘ.
সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিষ্ঠান ধর্মের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
সমাজ ও মানুষের জীবনধারাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের সামগ্রিক জীবন-দর্শন ধর্ম বিশ্বাসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ধর্মীয় আদর্শ ও বিশ্বাসবোধ মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি, আদর্শ প্রতিষ্ঠা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি সামাজিক সংহতি ও ঐক্য এবং মানবতাবোধের অনুভূতি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে। ধর্মে বিশ্বাস মানুষের মাঝে ন্যায়-অন্যায়বোধ জাগিয়ে তোলার মাধ্যমে মানুষকে ন্যায়নিষ্ঠ করে তোলে। আবার ধর্মবিশ্বাস মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচার-আচরণকে নির্দিষ্ট আদর্শ-নীতিবোধের প্রতি বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। ইহকালের কাজের ফলাফল পরলোকে ভোগ করতে হয়। মৃত্যুর পর মানুষকে কৃতকর্ম অনুসারে স্বর্গে অথবা নরকে যেতে হয়। এ ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষকে খারাপ কাজ ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে। ধর্মীয় অনুশাসন ও মূল্যবোধের প্রভাবে মানুষ সহজে অন্যায় কাজে অংশগ্রহণ করে না। এর প্রভাবে সামাজিক উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও অসন্তুষ্টি স্বাভাবিকভাবে কর্ম হয়। ধর্মীয় বিধিবিধান, আদর্শ ও মূল্যবোধ, যৌতুক প্রথা, এইচআইভি/এইডস, পতিতাবৃত্তি, যৌন নির্যাতন, নারীর প্রতি সহিংসতা, দুর্নীতি ইত্যাদি নেতিবাচক কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে।
সর্বোপরি তাই বলা যায়, ধর্মে বিশ্বাস সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধের হাতিয়ার।