Facebook Pixel

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিবলী সাদিক সবসময় শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেন। তিনি সব শিক্ষার্থীদের সাথে একইরকম আচরণ করেন। কোনো সামাজিক কাজকেই তিনি ছোট করে দেখেন না। সময়ের কাজ সময়ে করা তার অভ্যাস। ক. মূল্যবোধ কী? খ. সাম্য বলতে তুমি কী বোঝ? গ. সামাজিক মূল্যবোধের উপাদানগুলো সম্পর্কে তুমি কী জান? ঘ. আইনের উৎসগুলো সম্পর্কে কী জান? এই উৎসগুলো কীভাবে আইন তৈরিতে ভূমিকা পালন করেছে?

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মূল্যবোধ হলো সমাজের মানুষের মৌলিক বিশ্বাস, সামাজিক রীতিনীতি ও আচার-আচরণের সমষ্টি। খ. সাম্য বলতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধার উপস্থিতিকে বোঝায়। পৌরনীতিতে সাম্য বলতে এমন এক পরিবেশকে বোঝায়, যেখানে কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা থাকবে না এবং মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই সমান সুযোগ পাবে। এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশের পথ সুগম করে এবং সমাজে বৈষম্য দূর করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করে। গ. উদ্দীপকের আলোকে সামাজিক মূল্যবোধের উপাদানগুলো হলো নীতি ও ঔচিত্যবোধ, সহমর্মিতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমের মর্যাদা' এবং শৃঙ্খলাবোধ। সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেসব আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের সমষ্টি যা সমাজ অনুমোদন করে এবং যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রিত করে। এর প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা ও শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা। এই উপাদানগুলো সমাজকে সুসংগঠিত রাখে এবং নাগরিকের নৈতিক চরিত্র গঠনে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্দীপকে জনাব শিবলী সাদিকের কর্মকান্ডে এই উপাদানগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা ভাবেন যা 'সহমর্মিতা'র বহিঃপ্রকাশ। সবার সাথে সমান আচরণ করা 'সামাজিক ন্যায়বিচার' এবং কোনো কাজকে ছোট মনে না করা 'শ্রমের মর্যাদা'র পরিচায়ক। এছাড়া সময়ের কাজ সময়ে করা তার 'শৃঙ্খলাবোধ' ও 'কর্তব্যবোধ'কে নির্দেশ করে। জনাব শিবলীর এই গুণাবলিই মূলত সামাজিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। ঘ. আইনের উৎসগুলো হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষার মূল ভিত্তি, যা বিভিন্ন ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে। প্রখ্যাত আইনবিদ হল্যান্ডের মতে আইনের প্রধান উৎস ছয়টি। এগুলো হলো-প্রথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, ন্যায়বোধ এবং আইনসভা। এই উৎসগুলো থেকেই আধুনিক আইনের কাঠামো তৈরি হয়েছে এবং এগুলো সমাজভেদে ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্ব বহন করে। প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত 'প্রথা' যখন রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত হয় তখন তা আইনে পরিণত হয়। 'ধর্ম' মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে, যেমন অনেক দেশের পারিবারিক আইন ধর্মীয় বিধানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আবার যখন প্রচলিত আইনে কোনো অস্পষ্টতা থাকে তখন 'বিচারকের রায়' অনেক সময় নতুন আইনের পথ প্রশস্ত করে। উদ্দীপকের জনাব শিবলীর মতো ব্যক্তিদের ন্যায়পরায়ণ আচরণ ও 'ন্যায়বোধ' আইনের অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করে, যা বিচারকদের সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে 'আইনসভা' হলো আইনের প্রধানতম উৎস। তবে জনমত ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করেই আইনসভা আইন প্রণয়ন করে। উদ্দীপকের জনাব শিবলীর মতো আদর্শ নাগরিকরা যখন মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচার চর্চা করেন, তখন তা পরোক্ষভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়। সুতরাং, এই উৎসগুলো কেবল আইন তৈরিই করে না, বরং সমাজকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর ওপর দাঁড় করায় যা সুশাসন ও সামাজিক সাম্য নিশ্চিত করতে অপরিহার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিবলী সাদিক সবসময় শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেন। তিনি সব শিক্ষার্থীদের সাথে একইরকম আচরণ করেন। কোনো সামাজিক কাজকেই তিনি ছোট করে দেখেন না। সময়ের কাজ সময়ে করা তার অভ্যাস।

ক.

মূল্যবোধ কী?

খ.

সাম্য বলতে তুমি কী বোঝ?

গ.

সামাজিক মূল্যবোধের উপাদানগুলো সম্পর্কে তুমি কী জান?

ঘ.

আইনের উৎসগুলো সম্পর্কে কী জান? এই উৎসগুলো কীভাবে আইন তৈরিতে ভূমিকা পালন করেছে?

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।