Facebook Pixel

বাংলা ভাষার নবজন্মের প্রাচুর্যময় ইতিহাসের মহানায়ক আব্দুল মতিন ‘৫২' এর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হওয়ায় তিনি পরিচিতি লাভ করেছিলেন 'ভাষা মতিন' নামে। শেষ যাত্রাতেও তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষণার জন্য দান করেছেন নিজের চক্ষু এবং দেহ। ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারের ওপরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন 'No it cannot be '। ভাষা সংগ্রামী আব্দুল মতিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ। ক. মানবাধিকার কী? খ. আইন আছে বলেই স্বাধীনতা উপভোগ করা যায়— ব্যাখ্যা কর। গ. কোন মূল্যবোধের কারণে ভাষা মতিন শেষ যাত্রাকালে নিজের চক্ষু ও দেহ দান করলেন? ব্যাখ্যা কর। ঘ. ভাষা মতিনের চক্ষু ও দেহদান মূল্যবোধ ও সুশাসনের ইঙ্গিত বহন করে— তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

উৎস: Board Exam Question BB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির যেসব অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা প্রাপ্য তাই মানবাধিকার। খ. আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক গভীর এবং আইন আছে বলেই স্বাধীনতা টিকে আছে। আইন স্বাধীনতার শর্ত ও প্রধান রক্ষাকবচ। আইন স্বাধীনতা ভোগের পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং স্বাধীনতাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে। আইন আপন শক্তির সাহায্যে স্বাধীনতাকে নিরাপদ রাখার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আইন স্বাধীনতার বিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করে। আইন শাসকগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাচারিতার হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করে। আইন সংযত ও নির্দিষ্ট সীমারেখার গণ্ডিতে সবাইকে আবদ্ধ রেখে স্বাধীনতা বজায় রাখে। তাই বলা যায়, আইন আছে বলেই স্বাধীনতা উপভোগ করা যায়। গ. নৈতিক মূল্যবোধের কারণে ভাষা মতিন শেষ যাত্রাকালে নিজের চক্ষু ও দেহ দান করলেন। নৈতিক মূল্যবোধ হলো সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে। নিজেকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া, দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করা ইত্যাদি নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্গত। উদ্দীপকে দেখা যায়, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের একজন মহানায়ক আব্দুল মতিন। তিনি তার মৃত্যুর সময় চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষণার জন্য নিজের চক্ষু এবং দেহ দান করেছেন, যা নৈতিক মূল্যবোধকে নির্দেশ করে। কেননা নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন একজন মানুষই রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণের কথা চিন্তা করেন। নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হলে একজন মানুষ পরিপূর্ণ ও সৎ মানুষে পরিণত হয়। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন একজন মানুষ শুধু নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে সমাজের সব মানুষের স্বার্থের কথাও বিবেচনা করেন। যা ভাষা মতিনের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়। তাই বলা যায়, ভাষা মতিন নৈতিক মূল্যবোধের কারণেই তার শেষ যাত্রাকালে চক্ষু ও দেহ দান করেছেন। ঘ. ভাষা মতিনের চক্ষু ও দেহদান মূল্যবোধ ও সুশাসনের ইঙ্গিত বহন করে— প্রশ্নোক্ত এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত। মূল্যবোধ এমন একটি মানদণ্ড যা দ্বারা ব্যক্তির আচরণ নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। মানুষের ব্যবহার ও রীতিনীতি মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় বিধায় এর মাধ্যমে সামাজিক শৃঙ্খলা স্থাপন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। সুশাসন হলো ন্যায়ভিত্তিক জনকল্যাণকর শাসন, সেখানে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ থাকে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিষয়টি মূল্যবোধের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। মূল্যবোধের একটি অন্যতম ভিত্তি বা উপাদান হলো জবাবদিহিতা । এই জবাবদিহিতা শুধু সরকারের নয়, বরং সমাজের সর্বস্তরের নাগরিকের জন্য। মূল্যবোধের আদর্শ যেসব বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত সেগুলো হলো— ঔচিত্যবোধ, ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলা, নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য, আইনের শাসন, সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড ইত্যাদি। আর এসব বিষয় সুশাসনের জন্যও অপরিহার্য। মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়েই মানুষ অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ হয়। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য, পক্ষপাতিত্ব, নীতিবর্জিত কাজ যেমন মূল্যবোধের পরিপন্থি, তেমনি সুশাসনের পথে অন্তরায়। অর্থাৎ যে সমাজের মানুষ যত বেশি মূল্যবোধ সম্পন্ন, সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথও তত সহজ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2019)

বাংলা ভাষার নবজন্মের প্রাচুর্যময় ইতিহাসের মহানায়ক আব্দুল মতিন ‘৫২' এর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হওয়ায় তিনি পরিচিতি লাভ করেছিলেন 'ভাষা মতিন' নামে। শেষ যাত্রাতেও তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষণার জন্য দান করেছেন নিজের চক্ষু এবং দেহ। ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারের ওপরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন 'No it cannot be '। ভাষা সংগ্রামী আব্দুল মতিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ।

ক.

মানবাধিকার কী?

খ.

আইন আছে বলেই স্বাধীনতা উপভোগ করা যায়— ব্যাখ্যা কর।

গ.

কোন মূল্যবোধের কারণে ভাষা মতিন শেষ যাত্রাকালে নিজের চক্ষু ও দেহ দান করলেন? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

ভাষা মতিনের চক্ষু ও দেহদান মূল্যবোধ ও সুশাসনের ইঙ্গিত বহন করে— তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।