ক.
যুক্তিবাক্যের উপাদান ৩টি। উদ্দেশ্য, বিধেয় ও সংযোজক।
খ.
যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যে সদর্থক ও নঞর্থক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সংযোজকের ভূমিকা অপরিসীম।
যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ যে চিহ্ন বা শব্দ দিয়ে যুক্ত থাকে তাকে সংযোজক বলে। বস্তুত এটি একটি চিহ্ন, কোনো পদ নয়। এ পদের মাধ্যমে উদ্দেশ্য পদের সাথে বিধেয় পদের সম্বন্ধ প্রকাশ পায়। যেমন, আকাশ হয় নীল। এখানে আকাশ ও নীল এ দুটি পদের মধ্যে 'হয়' সংযোজক ব্যবহারের মাধ্যমে যৌক্তিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
যেমন- সকল মানুষ হয় দ্বিপদ
কোনো পাখি নয় মানুষ
$\therefore$ কোনো পাখি নয় দ্বিপদ
এ যুক্তিটিতে প্রধান পদ আশ্রয়বাক্যে অব্যাপ্য থাকা সত্ত্বেও সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হয়ে গেছে। সুতরাং যুক্তিটি ভ্রান্ত এবং এত অবৈধ প্রধান পদজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।
গ.
উদ্দীপকের i ও ii নং বাক্য দুটিকে যুক্তিবাক্যে রূপান্তর করা সম্ভব।
নঞর্থক চিহ্ন যুক্ত কোনো বাক্যে সকল, সব, সমস্ত প্রত্যেক, প্রত্যেকটি, যে কেউ যে কোনো ইত্যাদি বা এর সমার্থক কোনো শব্দ থাকলে সেই বাক্যকে বিশেষে নঞর্থক বা O বাক্যে রূপান্তর করতে হবে। উদ্দীপকের i যুক্তিবাক্যটি হচ্ছে, সব গোলাপ লাল নয়। এ যুক্তিবাক্যে আমরা দেখতে পাই সব শব্দটি আছে এবং নঞর্থক চিহ্ন আছে তাই এ বাক্যের রূপান্তরিত রূপ হবে, O বাক্য- কিছু গোলাপ নয় লাল। আবার কোনো সদর্থক বাক্যে বা নঞর্থক চিহ্ন নেই এমন বাক্যে সকল, সব, সমস্ত, প্রত্যেকটি, যে কেউ, মাত্রই ইত্যাদি বা এদের সমার্থক কোনো শব্দ থাকলে সেই সকল বাক্যকে সার্বিক সদর্থক বাক্যে বা A যুক্তিবাক্যে রূপান্তর করতে হয়। উদ্দীপকের ii নং বাক্যটি হচ্ছে মানুষ মাত্রই মরণশীল, এটি একটি সার্বিক সদর্থক বাক্য এবং এতে 'মাত্রই' শব্দটি উল্লেখ আছে। অর্থাৎ এর রূপান্তরিত রূপ হবে A বাক্য- সকল মানুষ হয় মরণশীল।
অর্থাৎ নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে। ও ii নং যুক্তিবাক্যগুলো যথাক্রমে O এবং A যুক্তিবাক্যে রূপান্তরিত হবে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত বাক্য ও যুক্তিবাক্যের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
বাক্য এক শব্দ বিশিষ্ট হতে পারে, আবার একাধিক শব্দ বিশিষ্ট হতে পারে। যেমন: 'আগুন। তাড়াতাড়ি' ইত্যাদি। এই রকম এক শব্দেও বাক্য হয়। কেননা এভাবে মনের ভাব পূর্ণভাবে প্রকাশ করা সম্ভব। কিন্তু যুক্তিবাক্য এক শব্দে হয় না, অন্তত তিনটি শব্দ দরকার হয় (উদ্দেশ্য, বিধেয় এবং সংযোজক)।
বাক্যের দুটি অংশই যথেষ্ট, যথা: উদ্দেশ্য ও বিধেয়। কিন্তু যুক্তিবাক্যের অন্তত তিনটি অংশ থাকতে হয়। যথা: উদ্দেশ্য, বিধেয় ও সংযোজক। বাক্যের মধ্যে সংযোজক অনেক সময় উহ্য থাকে, অথবা বিধেয়ের সাথে মিশে থাকে। কিন্তু যুক্তিবাক্যে সংযোজককে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হয়। যেমন: 'আকাশ নীল'- এভাবে বাক্য প্রকাশিত হতে পারে। কিন্তু যুক্তিবাক্যের যথার্থ রূপ হলো: 'আকাশ হয় নীল'। বাক্যে গুণ ও পরিমাণ অনেক ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয় না। কিন্তু যুক্তিবাক্যে গুণ ও পরিমাণ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করা বাঞ্ছনীয়। যেমন: 'মানুষ মরণশীল'। এর যৌক্তিক রূপ হবে, 'সকল মানুষ হয় মরণশীল।' আবার 'মানুষ পূর্ণ নয়'। এ বাক্যকে যুক্তিবাক্যের আকারে প্রকাশ করলে হবে: 'কোনো মানুষ নয় পূর্ণ'। উদ্দীপকের বাক্য দুটি হলো, 'সব গোলাপ লাল নয়' এবং 'মানুষ মাত্রই মরণশীল।' আমরা জানি একটি বাক্যকে যুক্তিবাক্য হতে হলে বাক্যের উদ্দেশ্য, বিধেয় ও সংযোজক নির্দিষ্ট নিয়মে সাজানো থাকতে হবে যা উদ্দীপকের বাক্য দুটিতে দেখা যায় না। তাই এগুলো যুক্তিবাক্য নয়।
পরিশেষে বলা যায়, বাক্য ও যুক্তিবাক্যের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।