ক.
গ্রিক শব্দ 'Anthropos' এর অর্থ হলো মানুষ
খ.
মানুষের উৎপত্তি, দৈহিক গঠন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্রমবিকাশ সম্পর্কিত বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠই নৃবিজ্ঞান। এ বিজ্ঞানের সাহায্যে মানুষের অতীতকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিবর্তনের ধারাকে পর্যালোচনা করা হয়। মানুষের জন্মপরিচয়, জন্ম ইতিহাস, সংস্কৃতি, পরিবার, রাষ্ট্র, ধর্ম প্রভৃতি প্রথাও প্রতিষ্ঠানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ নিয়েই সাধারণত নৃবিজ্ঞানের পথচলা। তাই বলা যায়, নৃবিজ্ঞান হলো মানুষের সামগ্রিক পাঠ।
গ.
উদ্দীপকের আলোচিত উৎসবটি মানব সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত । বলে তার উদ্ভব ও বিকাশ নৃবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। কেননা নৃবিজ্ঞান মানুষ ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে বলে মানুষের সাথে জড়িত তার সংস্কৃতিও নৃবিজ্ঞান অধ্যয়ন করে।
আলোচ্য বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে নৃবিজ্ঞানকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. দৈহিক নৃবিজ্ঞান ও ২. সাংস্কৃতিক বা সামাজিক নৃবিজ্ঞান। এর ওপর ভিত্তি করেই নৃবিজ্ঞান মানুষ ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করে থাকে। উদ্দীপকেও যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বর্ণনা লিপিবন্ধ হয়েছে তা একটি নির্দিষ্ট মানব সম্প্রদায়ের সাথে জড়িত। আর মানুষের সামগ্রিক পাঠ হিসেবে নৃবিজ্ঞান মানুষ ও তার সাংস্কৃতিক বিষয়ে আলোচনা করায় উদ্দীপকের সাংস্কৃতিক উৎসবটিও নৃবিজ্ঞানের আলোচ্য। উদ্দীপকে ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায়ের পালিত উৎসব বৈসাবি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এরা বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। এটি তাদের নিজস্ব উৎসব যা তারা বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষ্যে পালন করে থাকে। এ সংস্কৃতি তাদের জীবনযাত্রা, আচার-প্রথা ইত্যাদির পরিচায়ক। আর যেকোনো সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক উৎসব উক্ত মানব সম্প্রদায়ের অন্যতম উপাদান। তাই মানুষের সামগ্রিক পাঠ হিসেবে নৃবিজ্ঞান মানুষের ক্রমবিকাশ ও তার সংস্কৃতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে থাকে।
এ কারণেই উদ্দীপকের আলোচিত 'বৈসাবি' উৎসবটির উদ্ভব ও বিকাশ নৃবিজ্ঞানের আলোচ্য।
ঘ.
মানুষের সামগ্রিক পাঠ হিসেবে নবিজ্ঞান কেবল মানুষের পালিত উৎসবই নয় বরং তার সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়েই আলোচনা করে বলে উদ্দীপকের সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও নৃবিজ্ঞান পর্যালোচনা করবে নৃবিজ্ঞানের প্রধান আলোচনার বিষয় হলো মানুষ।
মানুষের জন্ম পরিচয়, ক্রমবিকাশ, সংস্কৃতি, পরিবার প্রভৃতি প্রথা ও প্রতিষ্ঠানের উদ্ভব ও বিকাশ নৃবিজ্ঞানের আলোচ। বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। অধিকন্তু মানুষের জৈবিক ও সাংস্কৃতিক উভয় দিক নৃবিজ্ঞানের পাঠাতৃক্ত। নৃবিজ্ঞানের আলোকে বিচার করলে দেখা যায় উদ্দীপকের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের যাবতীয় বিষয়ও নৃবিজ্ঞান পর্যালোচনা করে। উদ্দীপকে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে 'বৈসাবি' উৎসব পালনের বিষয়টি সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। কেবল সংস্কৃতিই নয় বরং তাদের ক্রমবিকাশ, দৈহিক গঠন, জন্ম ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ও আলোচনা করবে নৃবিজ্ঞান। কেননা নৃবিজ্ঞান হলো মানুষের সামগ্রিক পাঠ আর মানুষের সামগ্রিক পাঠ হিসেবে নৃবিজ্ঞানকে মানব সম্প্রদায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ই আলোচনা করতে হয়। সামাজিক জীব হিসেবে মানুষকে নিয়েই নৃবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় আবর্তিত হয় এবং এর সাথে পর্যালোচনা করা হয় মানুষের সাথে জড়িত সকল বিষয়।
এজন্য উদ্দীপকের মানব সম্প্রদায়ের কেবল উৎসবই নয় বরং তাদের সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়েই নৃবিজ্ঞান পর্যালোচনা করবে।