Facebook Pixel

বাংলার নবাব মীর কাশিম + অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা + মুঘল সম্রাট শাহ আলম = ????? যুদ্ধ ক. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত সালে দিওয়ানি লাভ করে? খ. অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড বর্ণনা করো। গ. উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে কোন যুদ্ধের কথা বোঝানো হয়েছে? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে আলোচনা করো। ঘ. তুমি কি মনে কর, উক্ত যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমনঃ ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৫ সালে দিওয়ানি লাভ করে। খ. ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা জন যেফানিয় হলওয়েল (John Zephaniah Holwell) কর্তৃক প্রচারিত মিথ্যা কাহিনি 'অন্ধকূপ হত্যা' নামে পরিচিত। হলওয়েল নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়েছিল। সে মুক্তি পাওয়ার পর প্রচারণা চালায় যে, নবাবের আদেশে ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪.১০ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট ছোট একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। জুন মাসের প্রচণ্ড গরমে এদের মধ্যে ১২৩ জন শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। বাকি ২৩ জন কোনো রকমে বেঁচে ছিল। পরবর্তীতে এ কাহিনি অতিরঞ্জিত বলে প্রমাণিত হয়। গ. উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে বক্সারের যুদ্ধের কথা বোঝানো হয়েছে। মীর কাশিম ছিলেন স্বাধীনচেতা ও প্রজাহিতৈষী। এজন্য তিনি স্বাধীনতা অর্জনের প্রচেষ্টা চালান। তার কর্মকাণ্ডে ইংরেজরা অসন্তুষ্ট হয়। যারা ইংরেজদের প্রতি বেশি অনুগত ছিল মীর কাশিম তাদের পদচ্যুত করে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন। তার পদক্ষেপগুলো দেশ ও জনগণের স্বার্থে পরিচালিত হলেও এগুলো ছিল ইংরেজ স্বার্থবিরোধী। এজন্য ইংরেজদের সাথে তার সংঘর্ষ অবধারিত হয়ে পড়ে। যার চূড়ান্ত ফল হিসেবে বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বাংলার স্বাধীনতার সূর্য পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টা হিসেবে মীর কাশিম অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা এবং দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের সহযোগিতায় একটি ত্রিপক্ষীয় মৈত্রীজোট গঠন করেন। এ জোট ১৭৬৪ সালে বক্সারের প্রান্তরে মেজর মনরোর নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং পরাজয় বরণ করে। উদ্দীপকে উল্লেখিত যে, বাংলার নবাব মীর কাশিম + অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা + মুঘল সম্রাট শাহ আলম দ্বারা একটি যুদ্ধকে বোঝানো হচ্ছে, যা মূলত উপরে আলোচিত বক্সারের যুদ্ধকেই ইঙ্গিত করে। ঘ. হ্যাঁ, উক্ত যুদ্ধ তথা বক্সারের যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতবর্ষে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় বলে আমি মনে করি। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় ইংরেজদের প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম হয়। কিন্তু বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিমের পরাজয়ের ফলে বাংলার সার্বভৌমত্ব উদ্ধারের শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। ফলে উপমহাদেশে ইংরেজদের প্রভাব-প্রতিপত্তি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। ফলে বিনা বাধায় তারা উপমহাদেশে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ লাভ করে। এ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখণ্ডে পালিয়ে যান। দিল্লির সম্রাট শাহ আলম ইংরেজদের পক্ষে যোগ দেন। মীর কাশিম পরাজিত হয়ে আত্মগোপন করেন এবং ১৭৭৭সালে তার মৃত্যু হয়। বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের পর ইংরেজরা অযোধ্যার নবাবের কাছ থেকে কারা ও এলাহাবাদ হস্তগত করতে সক্ষম হয়। এ যুদ্ধের ফলে শুধু বাংলার নবাবই পরাজিত হননি, তার মিত্র মুঘল সম্রাট শাহ আলম, অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলাও পরাজিত হন। এই তিন শক্তির পরাজয়ে ইংরেজদের মর্যাদা ও শক্তি বৃদ্ধি পায়। বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের পর রবার্ট ক্লাইভদিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দিওয়ানি লাভ করে। ফলে বাংলায় ইংরেজ অধিকার আইনত স্বীকৃত হয়। এভাবে বাংলার প্রকৃত শাসনক্ষমতা ইংরেজদের হস্তগত হয়। আলোচনা শেষে বলা যায়, বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিমের পরাজয় শুধু নবাবি আমলেরই পরিসমাপ্তি ঘটায়নি, বরং ভারতবর্ষের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলার নবাব মীর কাশিম + অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা + মুঘল সম্রাট শাহ আলম = ????? যুদ্ধ

ক.

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত সালে দিওয়ানি লাভ করে?

খ.

অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড বর্ণনা করো।

গ.

উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে কোন যুদ্ধের কথা বোঝানো হয়েছে? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে আলোচনা করো।

ঘ.

তুমি কি মনে কর, উক্ত যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়...

‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়...

‘ তোবা ’ রোমান সভ্যতার ইতিহাস পড়ার সময় লক্ষ করল , রোমান সম্রাট নিরো তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যে শক্তিশালী সেনাবা...

ইউরোপীয় জাতিসমূহের মধ্যে দুঃসাহসী ও নৌবিদ্যায় পারদর্শী ছিল-

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে মীর কাসিম ছিলেন

দিনেমাররা কোন দেশের অধিবাসী?

পর্তুগিজরা বাংলাদেশে কী নামে পরিচিত?

পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর ইউরোপীয় সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?

পলাশীর যুদ্ধ কত তারিখে সংঘটিত হয়?

সিরাজউদ্দৌলার প্রকৃত নাম কী?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।