Facebook Pixel

বাংলার এক সূর্যসন্তান মুসলিম লীগের অধিবেশনে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে "স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ” গঠনের প্রস্তাব করেন। উক্ত অধিবেশনে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ক. মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার নেতা কে ছিলেন? খ. বেঙ্গল প্যাক্ট কী? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির বৈশিষ্ট্যসমূহ পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের মধ্যে কি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল? তোমার উত্তরে সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার নেতা ছিলেন স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস্। খ. বাংলার হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি রক্ষার জন্য সম্পাদিত একটি চুক্তি হলো বেঙ্গল প্যাক্ট। ব্রিটিশ শাসনের অধীনে বাংলার ৬০ ভাগ জনগণ মুসলমান হলেও তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানসিকতার অধিকারী দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস বেঙ্গল প্যাক্ট এর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এ. কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহ্ রাওয়াদী, স্যার আবদুল করিমসহ অন্যান্য মুসলিম নেতৃবৃন্দের সাথে ১৯২৩ সালে বেঙ্গল প্যাক্ট সম্পাদিত হয়। অচিরেই এ চুক্তি সি আর দাস ফরমুলা নামে খ্যাতি লাভ করে। রাজনীতি, ধর্ম, কর্ম ইত্যাদি ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলমান উভয়ের স্বার্থ রক্ষা ও অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠাই হলো বেঙ্গল প্যাক্টের মূলকথা। গ. উদ্দীপকে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের (১৯৪০) বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ গঠনের দাবি জানানো হয়। লাহোর প্রস্তাবের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সংলগ্ন এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করা। প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব ভাগের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে এমনভাবে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠন করতে হবে যেখানে অঙ্গরাজ্যগুলো হবে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। এতে একক কোনো রাষ্ট্রের বদলে একাধিক রাষ্ট্রের ইঙ্গিত ছিল, যা পরবর্তীকালে রাজনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, নবগঠিত রাষ্ট্রগুলোতে অমুসলিম সংখ্যালঘুদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানে কার্যকর রক্ষাকবচ রাখার দাবি জানানো হয়। মূলত এই প্রস্তাবটিই ছিল ভারতীয় মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমির প্রথম আনুষ্ঠানিক ও জোরালো দাবি, যা দ্বিজাতি তত্ত্বকে ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। ১৯৪০ সালে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক উত্থাপিত এই প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের কথা বলা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি তৈরি করে। লাহোর প্রস্তাবের মূল ভিত্তি ছিল ভৌগোলিক দূরত্বে অবস্থিত দুটি পৃথক অঞ্চল নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠন। প্রস্তাবে 'States' শব্দটি বহুবচনে ব্যবহৃত হওয়ায় পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বপ্ন দানা বাঁধে। যদিও ১৯৪৬ সালে দিল্লী কনভেনশনে মুসলিম লীগ এই শব্দটিকে সংশোধন করে একক 'State' বা পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবি তোলে, কিন্তু বাঙালিরা লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনাকেই তাদের স্বাধিকার আন্দোলনের মূলমন্ত্র হিসেবে লালন করে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসকগোষ্ঠী যখন পূর্ব বাংলার ওপর শোষণ ও বৈষম্য চাপিয়ে দেয়, তখন বাঙালিরা লাহোর প্রস্তাবের সেই 'পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন' ও 'সার্বভৌমত্বের' দাবিকে পুনরুজ্জীবিত করে। বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি ছিল মূলত লাহোর প্রস্তাবেরই একটি আধুনিক ও বাস্তবসম্মত রূপান্তর, যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়েছিল। পরিশেষে বলা যায়, লাহোর প্রস্তাব বাঙালিকে একটি পৃথক ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সত্তার চেতনা প্রদান করেছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর যখনই বাঙালিরা অধিকারবঞ্চিত হয়েছে, তখনই তারা ১৯৪০ সালের সেই মূল প্রস্তাবের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। সুতরাং, ১৯৪০ সালের সেই স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবির মধ্যেই ১৯৭১ সালের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় অনিবার্যভাবে লুকিয়ে ছিল। <!---->

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলার এক সূর্যসন্তান মুসলিম লীগের অধিবেশনে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে "স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ” গঠনের প্রস্তাব করেন। উক্ত অধিবেশনে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

ক.

মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার নেতা কে ছিলেন?

খ.

বেঙ্গল প্যাক্ট কী?

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির বৈশিষ্ট্যসমূহ পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের মধ্যে কি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল? তোমার উত্তরে সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।