ক.
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
খ.
যে নীতির সাহায্যে এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থাপিত হয় তাই বৈদেশিক নীতি।
বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। সব রাষ্ট্রই একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। সাধারণত জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপন, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করা হয়ে থাকে।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্থাটির নাম হলো জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ বিশ্বের জাতিসমূহের একটি সংগঠন, যার লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইন, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি এবং মানবাধিকার বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা। ১৯৪৫ সালে ৫১টি রাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং পরবর্তীতে বিলুপ্ত 'লীগ অব নেশনস'-এর স্থলাভিষিক্ত হয়। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র সংখ্যা ১৯৩। সাংগঠনিকভাবে জাতিসংঘের প্রধান অক্তাসংস্থাগুলো হলো- সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, অছি পরিষদ, আন্তর্জাতিক আদালত এবং জাতিসংঘ সচিবালয়।
সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘের আইনসভার মতো। বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতায় এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া এটাই একমাত্র পরিষদ যেখানে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত সকল রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও প্রতিনিধিত্বের অধিকারী হিসেবে অবস্থান করে।
জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী শাখা হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের। এটি মোট ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র এবং বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য। নিরাপত্তা পরিষদ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে পারে।
বিশ্বকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যেতে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ গঠিত হয়েছে। বিশ্বের উন্নয়নে এ সংস্থার ভূমিকা অনন্য।
বিশ্বের যেসব জনপদের পৃথক সত্তা আছে কিন্তু স্বাধীনতা নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় তাকে অছি এলাকা বলে। এসব এলাকার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জাতিসংঘের অছি পরিষদের।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিবাদ মীমাংসার লক্ষ্যে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালত গঠন করা হয়েছে। এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত।
জাতিসংঘ সচিবালয় হলো এর প্রশাসনিক বিভাগ। বিশ্বশান্তি, সহযোগিতা ও যোগাযোগ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ এ শাখার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়।
ঘ.
'বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ উক্ত সংস্থা অর্থাৎ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের শান্তিরক্ষা মিশনে সবচেয়ে সক্রিয় অংশীদার।' নিচে এ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হলো-
১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী United Nations Iran-Iraq Military Observer Group (UNIIMOG)-র মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন শুরু করে। এরপর থেকে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনের প্রধান অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৩৮টি রাষ্ট্রে ৫৪টি মিশনে অংশগ্রহণ করেছে।
শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সেনাসদস্য প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে জাতিসংঘ বাংলাদেশ শীর্ষস্থান দখল করে আছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে প্রায় ১১,০০০ সেনাসদস্য পাঠিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১২টি দেশে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশি সেনাসদস্যরা কর্মরত আছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবস্থান খুবই গৌরবের। এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কমান্ডার হিসেবে ও ঊর্ধ্বতন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ভূমিকার আরেকটি স্বীকৃতি, যা দেশের মর্যাদা অনেক বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশের এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবিসি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের The creamof UN peacekeepers' বলে আখ্যায়িত করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সহায়তা করছে। ফলে দেশ অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধ হচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের এ অবদান আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এভাবে জাতিসংঘ বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আমাদের দেশকে সাহায্য করে যাচ্ছে। বাংলাদেশও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল থেকে এর বিভিন্ন অধিবেশনে যোগদান করে এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রধান ভূমিকা পালন করে। জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ সেনাবাহিনীতে সেনাসদস্য পাঠিয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।