Facebook Pixel

বাংলাদেশ ২০১২ সালে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার শান্তিরক্ষা মিশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়। বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ পরবর্তী শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ দেশ পুনর্গঠন ও উন্নয়নে সংস্থাটি পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে। ক. বাংলাদেশ কত সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে? খ. বৈদেশিক নীতি বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্থাটির গঠন লেখো। ঘ. “বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ উক্ত সংস্থায় সবচেয়ে সক্রিয় অংশীদার”- বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৯ঃ বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। খ. যে নীতির মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থাপিত হয় তাই বৈদেশিক নীতি। বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই সব রাষ্ট্রই কোনো না কোনো বিষয়ে অন্য রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। এজন্য এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। সাধারণভাবে যে নীতি বা পদ্ধতির মাধ্যমে এ সম্পর্ক স্থাপিত হয় তাই হচ্ছে বৈদেশিক নীতি বা পররাষ্ট্রনীতি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলকথা হলো- সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্থাটি হলো জাতিসংঘ। জাতিসংঘ একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন, যার লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইন, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি এবং মানবাধিকার বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা। ১৯৪৫ সালে ৫১টি রাষ্ট্রের জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র ১৯৩টি। এর প্রধান অঙ্গসংস্থাগুলো হলো- সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, অছি পরিষদ, আন্তর্জাতিক আদালত এবং জাতিসংঘ সচিবালয়। সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘের আইনসভার মতো। বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতায় এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া এটাই একমাত্র পরিষদ যেখানে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত সব রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও প্রতিনিধিত্বের অধিকারী হিসেবে অবস্থান করে। জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী শাখা হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব এ পরিষদের। এটি মোট ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী এবং বাকি ১০টি অস্থায়ী (যাদের মেয়াদকাল ২ বছর) সদস্য রাষ্ট্র। নিরাপত্তা পরিষদ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য পৃথিবীর যেকোনো অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। বিশ্বকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যেতে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ গঠিত হয়েছে। বিশ্বের উন্নয়নে এ সংস্থার ভূমিকা অনন্য। বিশ্বের যেস্ব জনপদের পৃথক সত্তা বা পরিচয় আছে কিন্তু স্বাধীনতা নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় তাকে অছি এলাকা বলে। এসব এলাকার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জাতিসংঘের অছি পরিষদের। বর্তমানে এ পরিষদের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিবাদ মীমাংসার লক্ষ্যে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালত গঠন করা হয়েছে। এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত। জাতিসংঘ সচিবালয় হলো এর প্রশাসনিক বিভাগ। বিশ্বশান্তি, সহযোগিতা ও যোগাযোগ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ এ শাখার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। ঘ. বিশ্বশান্তি রক্ষায় সংস্থাটিতে অর্থাৎ জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়- বাক্যটি যথার্থ। বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের শান্তিরক্ষা মিশনের সবচেয়ে সক্রিয় অংশীদার। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী United Nations Iran-Iraq Military Observer Group (UNIIMOG)-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন শুরু করে। এরপর থেকে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনের প্রধান অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৩৮টি রাষ্ট্রে ৫৪টি মিশনে অংশগ্রহণ করেছে। জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ সেনাবাহিনীতে সেনা সদস্য পাঠিয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সেনা সদস্য প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে প্রায় ১১,০০০ সেনা সদস্য পাঠিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৩টি দেশে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে এদেশের সেনাসদস্যরা কর্মরত আছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবস্থান খুবই গৌরবের। এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কমান্ডার হিসেবে ও ঊর্ধ্বতন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবিসি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের 'The cream of UN peacekeepers' বলে আখ্যায়িত করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের এ অবদান আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশ ২০১২ সালে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার শান্তিরক্ষা মিশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়। বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ পরবর্তী শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ দেশ পুনর্গঠন ও উন্নয়নে সংস্থাটি পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে।

ক.

বাংলাদেশ কত সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে?

খ.

বৈদেশিক নীতি বলতে কী বোঝ?

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্থাটির গঠন লেখো।

ঘ.

“বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ উক্ত সংস্থায় সবচেয়ে সক্রিয় অংশীদার”- বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।