Facebook Pixel

বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে লোকসংখ্যা ছিল ১৩কোটি ১৫লক্ষ , বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ কোটি। বর্তমানে শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠিকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। এতে করে জাতীয় আয় ও মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে। ২৫ বছর পূর্বে এদেশে খাদ্য ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতাই অর্জন করেনি বরং খাদ্য রপ্তানিও শুরু করেছে। ক. জনসংখ্যার ঘনত্ব কী ? খ. আত্মকর্মসংস্থান বলতে কী বোঝায় ? গ. বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্তট্টি কতটুকু কার্যকর হয়েছে তা উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর। ঘ. বাংলাদেশের এই বিপুল জনগোষ্ঠি কিভাবে বোঝা না হয়ে মানব সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে ?- উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ জনসংখ্যা, মানবসম্পদ এবং আত্মকর্মসংস্থান

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. প্রতি বর্গমাইল বা প্রতি বর্গ কিলোমিটারে কতজন লোক বাস করে তার পরিমাপকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে। খ. কর্মসংস্থানের জন্য পরনির্ভরশীল না থেকে স্ব-উদ্যোগে উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত হওয়ার মাধ্যমে উপার্জন করার ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। অর্থাৎ নিজস্ব বা ঋণের মাধ্যমে স্বল্প মূলধন , নিজস্ব জ্ঞান বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতার আলোকে নিজস্ব উদ্যোগে জীবিকা অর্জনের প্রচেষ্টায় যে কর্মসংস্থান গড়ে তোলে তাই হলো আত্মকর্মসংস্থান। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব লাঘব হয় , আর্থিক সফলতা বৃদ্ধি পায় স্বনির্ভরতা সৃষ্টি হয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। গ. বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি কিছুটা কার্যকরী হলেও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। নিম্নে তা উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো। ম্যালথাস তার জনসংখ্যা করতে বলেন , জনসংখ্যা অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় জ্যামিতিক হার (১ , ২ , ৪ , ৮ , ১৬ , ৩২----) বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্য উৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে (১ , ২ , ৩ , ৪ , ৫---)। এবং প্রতি ২৫ বছর পর পর সে দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হবে। কিন্তু উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে , বাংলাদেশে ২৫ বছরের অধিক সময় ব্যবধানে জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়লেও তা জ্যামিতিক হারে বাড়েনি। এবং খাদ্য উৎপাদন ২৫ বছর পূর্বে ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ম্যালথাসের মতে দেশে ভূমির যোগান সীমাবদ্ধ হওয়ায় খাদ্য উৎপাদন সেভাবে বাড়ানো যায় না। কিন্তু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বাংলাদেশে ভুমির যোগান সীমাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।এবং জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেলেও তা জ্যামিতিক হারকে প্রকাশ করেনি। ফলে দেখা যায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অত্যাধিক হওয়া সত্ত্বেও তার সাথে খাদ্য উৎপাদনের হারের একটা ভারসাম্য সৃষ্টি হয়েছে। কারণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে জনসংখ্যা সবসময় জ্যামিতিক হারে এবং খাদ্য উৎপাদন গাণিতিক হারে বাড়ে না। ফলে এক্ষেত্রে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়। যা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পরিলক্ষিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় , উদ্দীপকে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি কার্যকর হলে ও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ঘ. বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী মানবসম্পদ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে বোঝা না হয়ে মানবসম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে। উদ্দীপকের আলোকে নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো - কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মানবসম্পদ একান্ত প্রয়োজন। মূলত একটি দেশের মানবসম্পদ বলতে সেদেশের দক্ষ জনশক্তিকে বুঝায়। আর কোনো দেশের জনশক্তিকে স্বাস্থ্যসেবা , চিকিৎসা সুবিধা , শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং দক্ষ মানবগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তোলাকে মানবসম্পদ উন্নয়ন বলা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায় , বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তরিত করতে শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। অর্থাৎ দেশের জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করে তুলতে সরকার শিক্ষার নিশ্চয়তা বিধান করেছে। ফলে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষন দানের মাধ্যমে বিভিন্ন কারিগরিমূলক কাজের প্রতি দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। ফলে দক্ষ ও শিক্ষিত জনশক্তি গড়ে উঠছে এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ শিক্ষার হার মানিব সম্পদ উন্নয়নের অন্যতম সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।তাই বাংলাদেশের এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে যদি উক্ত শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি গ্রহণে ও দক্ষতা অর্জনে নিশ্চিত করা যায় , তাহলে তারা বোঝা না হয়ে মানবসম্পদে পরিনত হবে। সুতরাং বলা যায় , বাংলাদেশের এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে মানব সম্পদের রূপান্তরিত করতে হলে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে লোকসংখ্যা ছিল ১৩কোটি ১৫লক্ষ, বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ কোটি। বর্তমানে শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠিকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। এতে করে জাতীয় আয় ও মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে। ২৫ বছর পূর্বে এদেশে খাদ্য ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতাই অর্জন করেনি বরং খাদ্য রপ্তানিও শুরু করেছে।

ক.

জনসংখ্যার ঘনত্ব কী?

খ.

আত্মকর্মসংস্থান বলতে কী বোঝায়?

গ.

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্তট্টি কতটুকু কার্যকর হয়েছে তা উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

বাংলাদেশের এই বিপুল জনগোষ্ঠি কিভাবে বোঝা না হয়ে মানব সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে?- উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

1,47,570 বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি দেশে 2022 সালের হিসাব অনুযায়ী স্থূল জন্মহার ছিল 20.5 এবং মৃত্যুর হার ছিল 6, বহিরাগমন ...

'A' একটি উন্নয়নশীল দেশ। উক্ত দেশটির জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার নিচে তালিকায় দেওয়া হলো: ক. কাম্য জনসংখ্যা কী? খ....

'A' একটি উন্নয়নশীল দেশ। নিম্নে 'A' দেশের জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ দেখানো হলো- ক. জনসংখ্যার ঘনত্ব কাকে বলে? খ. মা...

' A 'একটি দেশ যেখানে ১৫ কোটি লোকের বাস। দেশটির আয়তন ১ লক্ষ ৫০ হাজার ব. কি. মি .। দেশটির জনসংখ্যার ঘনত্ব কত?

'A' একটি দেশ যেখানে ১৫ কোটি লোকের বাস। দেশটির আয়তন ১ লক্ষ ৫০ হাজার ব. কি. মি.।Q. দেশটির জনসংখ্যার ঘনত্ব কত?

'A' দেশের জনসংখ্যা ও খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধির হার সম্পর্কিত তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া আছে: বছর ১৯৫২ - - ২০০০ - - - জনসংখ্যা বৃদ...

A-নামক দেশে যুগোপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ জনগণের গুণগত মান অত্যন্ত নিম্নমানের। বেশিরভাগ মানুষ...

' An Essay On the Principles of Population 'গ্রন্থের লেখক কে? রা. বো. '২২; ব. বো. '১৯; দি. বো. ১৯

"An Essay on The Principle of Population" গ্রন্থের লেখক কে?

CBR এর পূর্ণরূপ কোনটি?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।