ক.
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো লেখা, সাহিত্যকর্ম, গবেষণাপত্র, সম্পাদনাকর্ম ইত্যাদি হুবহু নকল বা আংশিক পরিবর্তন - করে নিজের নামে প্রকাশ করাকে প্লেজিয়ারিজম বলা হয়। সঠিক সূত্র উল্লেখ ছাড়া কোনো কিছু রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহারে ও বেআইনি কাজ তথা প্লেজিয়ারিজমের আওতায় পড়ে।
খ.
প্রযুক্তির সাহায্যে একাধিক জীবের জিনোমকে জোড়া লাগিয়ে নতুন জীবকোষ সৃষ্টি করার প্রক্রিয়াকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জীবের জিনোম (DNA) থেকে প্রয়োজনীয় জিন সংগ্রহ করে জিন কাটা ও জোড়া লাগানোর প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেসব জিন একত্রে যুক্ত করা হয়। এই সংযুক্ত জিনোম একটি উপযুক্ত কোষে প্রবেশ করানো হয় (যেমন- ব্যাকটেরিয়া বা অন্য প্রাণী কোষ)। কোষটি তখন নতুন বৈশিষ্ট্যসহ একটি নতুন জীবকোষে পরিণত হয়, যা পূর্বের কোনো জীরের মতো নয়।
গ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিকিৎসা যন্ত্রটি আকারে ছোটো হলেও ক্ষমতা অনেক বেশি। যন্ত্রটি তৈরির প্রযুক্তিটি হলো ন্যানোটেকনোলজি। নিচে ন্যানোটেকনোলজি প্রযুক্তিটি আলোচনা করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লিখিত ডিভাইসটি অর্থাৎ হার্ডডিস্ক তৈরির প্রযুক্তি হলো ন্যানোটেকনোলজি। নিচে এ প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করা হলো- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে 1 থেকে 100 ন্যানোমিটার আকৃতির কোনো কিছু তৈরি করা এবং ব্যবহার করার প্রযুক্তিই হলো ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানোটেকনোলজি। ন্যানো প্রযুক্তি দুটি পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয় । ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ এবং বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র। ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ পদ্ধতিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আণবিক উপাদান থেকে শুরু করে ধীরে বড় কোনো জিনিস তৈরি করা যায়। অন্যদিকে বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র পদ্ধতিতে একটু বড় আকৃতির কিছু থেকে শুরু করে তাকে ভেঙে ছোট করতে করতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আকৃতিতে পরিণত করা হয়। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহৎ স্কেলে পণ্যোৎপাদন সম্ভব হচ্ছে এবং উৎপাদিত পণ্য আকারে সূক্ষ্ম ও ছোট হলেও অত্যন্ত মজবুত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, টেকসই ও হালকা হয়। কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে প্রসেসরের উচ্চগতি, দীর্ঘস্থায়িত্ব, কম শক্তি খরচ, ডিসপ্লে ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির উন্নয়নে ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আগামীতে দুরারোগ্য ব্যাধি হতে মুক্তি, প্রতিরক্ষায় ন্যানো রোবট, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বিশ্বব্যাপী বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কার্যকরী ও সস্তায় শক্তি উৎপাদনসহ পানি ও বায়ু দূষণ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিকিৎসা যন্ত্রটি উন্নত করার জন্য যে প্রযুক্তির কথা বলা হয়েছে, তা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এই প্রযুক্তি মানুষের মতো চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম এবং আধুনিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষমতা, আগ্রহ ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। এর মাধ্যমে স্মার্ট টিউটরিং সিস্টেম গড়ে ওঠে, যা শিক্ষার্থীদের ধাপে ধাপে শেখার সুযোগ দেয়। এছাড়া ভার্চুয়াল ক্লাসরুম, অনলাইন পরীক্ষা ও স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নত হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীদের চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। এটি শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের কাজ সহজ করে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করে তোলে।
প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ভার্চুয়াল ল্যাব ও সিমুলেশনের সাহায্যে চিকিৎসা, প্রকৌশল ও কারিগরি প্রশিক্ষণে বাস্তব পরিস্থিতির অনুশীলন করা যায়। এতে দুর্গম ও দূরবর্তী পরিবেশে টিকে থাকার জন্য প্রশিক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো নিরাপদভাবে শেখা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে সময় ও ব্যয় কমে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উন্নত মানের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব।
অতএব বলা যায়, চিকিৎসা যন্ত্র উন্নতকরণে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী ভূমিকা পালন করে।