ক.
১৯৫৩ সালে V-aid কর্মসূচি চালু হয়।
খ.
বাংলাদেশে সমাজকর্ম পেশার দুইটি প্রয়োগক্ষেত্র হলো- পরিবার কল্যাণ ও শিক্ষাক্ষেত্র।
বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা হলো পারিবারিক ভাঙন। পারিবারিক ভাঙনের কারণে মানুষ মনো-সামাজিক সমস্যায় ভোগে। এ সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মীরা ব্যক্তিকে পরামর্শ প্রদান ও মানসিক সমর্থন দিয়ে পরিবারের কল্যাণ সাধনে অবদান রাখতে পারে। আবার আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ থাকে না। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন, ঝরে পড়া প্রতিরোধ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিদ্যালয় সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গ.
বাংলাদেশে আধুনিক সমাজকর্মের যাত্রা শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে।
শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট জটিল ও বহুমুখী সমস্যার প্রভাব থেকে বাংলাদেশও রক্ষা পায়নি। এসব সমস্যার কার্যকর সমাধানে উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশেও সমাজকর্মের অনুশীলন শুরু করা দরকার। জাতিসংঘের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ১৯৫৩ সালে সমাজকর্মের উপর স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ কোর্স প্রবর্তন ও তার বাস্তব প্রয়োগের জন্য ঢাকার গোপীবাগ ও মোহাম্মদপুরে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ১৯৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে 'ঢাকা প্রজেক্ট' নামে শহর সমাজ উন্নয়নমূলক এক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ প্রজেক্টের সাফল্যের ভিত্তিতে ১৯৫৫-৫৬ অর্থবছরে ঢাকার কায়েতটুলিতে শহর সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প চালু করা হয়।
১৯৫৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সমাজকর্ম চালু করা হয়। ১৯৬২ সালে সংশোধনমূলক কার্যক্রম ও প্রতিবন্ধী কল্যাণ কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়। পল্লি এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি চালু করা হয়। বর্তমানে এই কর্মসূচি উপজেলা সমাজসেবা নামে পরিচিত। ১৯৬১ সালে এদেশে সমাজকল্যাণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সমাজকল্যাণ পরিদপ্তর গঠন করা হয়। ১৯৭৪ সালে এটি সমাজকল্যাণ দপ্তর এ উন্নীত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৪ সালে এর নামকরণ হয় 'সমাজসেবা অধিদপ্তর'। বর্তমানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নামে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছে।
ঘ.
সমাজকর্ম পেশার বিকাশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান।
সমাজকর্ম পেশার বিকাশে পেশাগত সংগঠনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে সমাজকর্মের তাত্ত্বিক জ্ঞানার্জনের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, কিন্তু কোনো কার্যকর পেশাগত সংগঠন নেই। আবার দায়সারা প্রতিষ্ঠান থাকলেও কর্মক্ষেত্রের অপ্রতুলতার জন্য পেশাদার সমাজকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সমাজের মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। এতে মানুষ সমাজকর্মীদের মূল্যায়ন করার সুযোগই পাচ্ছে না।
সমাজকর্ম পেশার বিকাশে আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হলো, এ পেশার বিকাশে যথাযথ ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় নীতিমালার অভাব রয়েছে। ফলে সমাজকর্ম পেশা তার স্বরূপে পূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারছে না। প্রশাসনের সচেতনতার অভাব এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিকূল মনোভাব বাংলাদেশে সমাজকর্ম পেশার বিকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। আমাদের দেশে এ পেশার সুষ্ঠু বিকাশ না হওয়ার আরও একটি কারণ হলো, সমাজকর্ম বিষয়টি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও সরকারের অজ্ঞতা এবং ভ্রান্ত ধারণা। এসব সমস্যা সমাধানে দরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ। এজন্য সরকারের উচিত দ্রুত সমাজকর্মকে একটি স্বতন্ত্র পেশা হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া। পাশাপাশি সেমিনার, কর্মশালা ও প্রচারণার মাধ্যমে সমাজকর্মের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। এনজিও, হাসপাতাল, আদালত ও শিল্প কারখানায় সমাজকর্মীদের নিয়োগ বাধ্যতামূলক করতে হবে। সর্বোপরি বর্তমান সময়ের সামাজিক সমস্যার সাথে মিল রেখে সমাজকর্মের সিলেবাস আরও আধুনিক ও প্রায়োগিক করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশে সমাজকর্ম একটি শক্তিশালী পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।