Facebook Pixel

বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা সত্ত্বেও তা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে গরিব, নিম্নবিত্ত, চাকরিজীবী ও সীমিত আয়ের মানুষ। অপরদিকে, লাভবান হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ক. ভোক্তার মূল্যসূচক কী? খ. সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অবস্থায় সমাজের ওপর প্রভাবসমূহ আলোচনা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত গরিব, নিম্নবিত্ত, সীমিত আয়ের মানুষের ভোগান্তি থেকে উত্তরণের জন্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে?

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ মুদ্রাস্ফীতি

উৎস: Board Exam Question JB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ভোক্তাদের ব্যয় সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে মূল্য সূচক নির্ণয়ের পদ্ধতিকে ভোক্তার মূল্য সূচক বা CPI বলে। খ. পিপিপির (Public Private Partnership-PPP) মাধ্যমে বিপুলায়তন পুঁজির সমাবেশ ঘটে। সৃষ্টি হয় বহুমুখী ও সম্প্রসারিত প্রতিষ্ঠান। এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগ কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর ফলে একটি দেশে সংগত কারণেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং বেকারত্বের হার হ্রাস পায়। গ. বাংলাদেশে বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতি সমাজে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপর বিভিন্ন প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে গরিব, নিম্নবিত্ত, চাকরিজীবী ও সীমিত আয়ের লোকদের সংখ্যায় বেশি। বিগত বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্য ক্রমাগতভাবে বাড়লেও তাদের আয় তেমন বাড়েনি। এ জন্য একদিকে তাদেরকে প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম কম ক্রয় করতে হচ্ছে; অন্যদিকে জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি তথা জীবনমান উন্নত করে এমন অনেক দ্রব্য ও সেবার ভোগ বাদ দিতে হচ্ছে। এসবের ফলে তাদের জীবনযাত্রার মানে ক্রমাবনতি ঘটছে। তারা দুঃখ, কষ্ট ও হতাশার মধ্যে জীবনযাপন করছে। বাংলাদেশে যারা সরাসরি উৎপাদনের সাথে জড়িত তারা যে দামে উৎপাদনের উপকরণসমূহ ক্রয় করছে তার চেয়ে অনেক বেশি দামে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবাদি বিক্রয় করছে। ফলে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির দরুন তারা লাভবান হচ্ছে। তাছাড়া, ব্যবসায়ী শ্রেণি দ্রব্যাদি কম দামে ক্রয় করে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে অনেক বেশি দামে বিক্রয় করছে। বিদ্যমান এ মুদ্রাস্ফীতির জন্য তারাও যথেষ্ট লাভবান হচ্ছে। যারা ফটকা কারবারের সাথে জড়িত তারা কম দামে মালামাল ক্রয় করে মজুদ করছে; পরে সুযোগ মতো বেশি দামে বিক্রয় করে প্রচুর মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাই সব মিলিয়ে লাভবান হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এভাবে দেখা যায়, বাংলাদেশে চলমান মুদ্রাস্ফীতি গরিব, নিম্নবিত্ত, চাকরিজীবী ও সীমিত আয়ের মানুষদেরকে বিরূপভাবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদেরকে অনুকূলভাবে প্রভাবিত করছে। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত গরিব, নিম্নবিত্ত, সীমিত আয়ের মানুষেরা চলমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির শিকার; তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। এ শ্রেণির মানুষদেরকে ভোগান্তি থেকে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। নিচে তা আলোচনা করা হলো: ১. উৎপাদন বৃদ্ধি: দেশে বিদ্যমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি প্রতিকারের অন্যতম উপায় হলো কৃষি, শিল্পসহ সব খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি। দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের উৎপাদন তথা যোগান যথেষ্ট বৃদ্ধি পেলে তা তখন বর্ধিত চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। সে অবস্থায় দামস্তরের ঊর্ধ্বগতি রোধ হবে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। ২. উৎপাদন ব্যয় হ্রাস: উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পেলে উৎপাদিত পণ্যের দাম কমে যায়। তখন মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে বাংলাদেশে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি প্রতিকারের জন্য তাই উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করা প্রয়োজন। ৩. অর্থ ও ঋণের যোগান নিয়ন্ত্রণ: অর্থ ও ঋণের যোগানের বিপুল বৃদ্ধি বাংলাদেশে চলমান মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম কারণ। তাই মুদ্রাস্ফীতির প্রতিকার করতে হলে বাংলাদেশে ব্যাংক কর্তৃক মুদ্রার যোগান এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কর্তৃক সৃষ্ট ঋণের পরিমাণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ৪. উপযুক্ত রাজস্ব নীতি গ্রহণ: বাংলাদেশে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির প্রতিকারার্থে বিদ্যমান আর্থিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজস্ব নীতি গ্রহণ করতে হবে। এর অধীনে পরোক্ষ করের পরিবর্তে প্রত্যক্ষ করের আওতা ও হার বৃদ্ধি, অনুৎপাদনশীলও অপ্রয়োজনীয় খাতে সরকারি ব্যয় হ্রাস, ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারি ঋণ গ্রহণ, সুদের হার বৃদ্ধি দ্বারা সঞ্চয় বৃদ্ধি ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। ৫. অন্যান্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: আর্থিক ও রাজস্ব পদ্ধতি ছাড়াও মুদ্রাস্ফীতি রোধের জন্য সরকার কিছু প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এগুলো হলো: দাম নিয়ন্ত্রণ ও রেশনিং, মজুরি নিয়ন্ত্রণ, ফটকা কারবার নিয়ন্ত্রণ, আমদানি বৃদ্ধি ইত্যাদি। সুতরাং বলা যায়, উপরিউল্লিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ ও তা যথাযথভাবে কার্যকর করলে দেশে বিরাজমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে এবং সাধারণ মানুষদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2017)

বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা সত্ত্বেও তা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে গরিব, নিম্নবিত্ত, চাকরিজীবী ও সীমিত আয়ের মানুষ। অপরদিকে, লাভবান হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

ক.

ভোক্তার মূল্যসূচক কী?

খ.

সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়- ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত অবস্থায় সমাজের ওপর প্রভাবসমূহ আলোচনা করো।

ঘ.

উদ্দীপকে বর্ণিত গরিব, নিম্নবিত্ত, সীমিত আয়ের মানুষের ভোগান্তি থেকে উত্তরণের জন্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে?

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A একটি দরিদ্র দেশ। A দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ক্রয়...

'A' দেশে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের ভোক্তার মূল্যসূচক (CPI) ছিল ১৩০। দ্রব্যের দামস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে সে...

'A' দেশে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের ভোক্তার মূল্যসূচক (CPI) ছিল ১৩০। দ্রব্যের দামস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে সে...

'B' দেশে গত কয়েক মাস যাবৎ ক্রমাগত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হ্রাসসহ ঋণ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন বৃদ...

'B' দেশে বিভিন্ন ভোগ্য পণ্যের দামস্তর ও ভোগের পরিমাণ নিম্নরূপ: দ্রব্য ২০১৬ সাল ২০২২ সাল দাম পরিমাণ দাম চাল ৫০ ৫০ ৭০ ডাল ...

'B' দেশে বিভিন্ন ভোগ্য পণ্যের দামস্তর ও ভোগের পরিমাণ নিম্নরূপ : ভোগ্য দ্রব্য ২০ ১৬ সাল ২০২ ২ সাল দাম (টাকা) Po পরিমাণ (ক...

'Inflation' শব্দটির বাংলা অর্থ কী?

'PPI- এর পূর্ণরূপ কী?

'Q' দেশের দু ' টি সময়ের কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামের তালিকা দেওয়া হলো : দ্রব্য 2020 সালে দাম 2022 সালে দাম চাল 2...

SYf রেখাটি নির্দেশ করে- i. সামগ্রিক চাহিদা ii. সামগ্রিক যোগান iii. পূর্ণ নিয়োগ উৎপাদন নিচের কোনটি সঠিক?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।