Facebook Pixel

বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমস্যা দূরীকরণের জন্য বিভিন্ন দেশের সাথে যেমন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে, তেমনি বিদেশি বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী ও সংস্থার কাছ থেকে সাহায্যও গ্রহণ করছে। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, স্বনির্ভরতা অর্জন, দারিদ্রদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি প্রভৃতি উদ্দেশ্যে এসব সাহায্য গ্রহণ করা হচ্ছে। এভাবে বাংলাদেশ অন্যের সাহায্যে ও নিজের চেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে। ক. বৈদেশিক সাহায্য কাকে বলে? খ. বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্যের মধ্যে কয়েকটি পার্থক্য লেখ। গ. বৈদেশিক বাণিজ্য, না বৈদেশিক সাহায্য কোনটিকে তুমি অধিক গুরুত্ব দেবে? উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত ব্যাখ্যা কর। ঘ. বৈদেশিক সাহায্য সবসময় পরনির্ভরতা বাড়ায় না-ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া চালু রাখার জন্য বিভিন্ন দাতা এবং সংস্থা থেকে যে ঋণ বা অনুদান পাওয়া যায় তাকে বৈদেশিক সাহায্য বলা হয়। খ. বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্যের মধ্যকার কয়েকটি পার্থক্য নিম্নরূপ- গ. বৈদেশিক সাহায্য নয় বরং বৈদেশিক বাণিজ্যে আমি অধিক গুরুত্ব দেব। বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশকে স্বনির্ভর করে। আর বৈদেশিক সাহায্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্থনীতিতে পরমুখাপেক্ষিতা বৃদ্ধি করে। এতে দেশের আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক বাণিজ্য এবং সাহায্য উভয়টির গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। বৈদেশিক সাহায্য সাধারণত কঠিন শর্তযুক্ত থাকে। কিন্তু বাণিজ্যের মুনাফা হবে শর্তহীন। আবার বৈদেশিক বাণিজ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা শিল্পে শ্রমের গতিশীলতা বেশি হওয়ায় বাংলাদেশের ন্যায় শ্রমনিবিড় দেশে এর তাৎপর্য খুবই বেশি। কিন্তু বৈদেশিক সাহায্যে শ্রমের গতিশীলতা নেই। বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি প্রয়োজনে বৈদেশিক সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে। কেননা দেশটি এখনও স্বনির্ভর নয়। কিন্তু বৈদেশিক সাহায্যের দ্বারা এসব ক্ষেত্রে কখনই পুরাপুরি লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। আবার বৈদেশিক বাণিজ্য থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। এ অর্থ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যয় করা যেতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক সাহায্য কেবলই দাতা দেশের নির্দেশিত খাতে ব্যয় করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রায়ই দাতা দেশগুলোর প্রতি মুখাপেক্ষিতা বজায় রাখতে তারা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে অর্থ ব্যবহার করতে দিতে চায় না। এসব কারণেই বৈদেশিক সাহায্যের পরিবর্তে বৈদেশিক বাণিজ্যকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেব। ঘ. বৈদেশিক সাহায্য সর্বদাই খারাপ নয় এবং সব ক্ষেত্রেই তা পরনির্ভরশীলতা বাড়ায় না। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশসমূহে পর্যাপ্ত মূলধনের স্বল্পতা নিরসনে বৈদেশিক সাহায্য বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সময় আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে মূলধনের স্বল্পতায় বাধ্য হয়েই বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ করতে হয়। বিভিন্ন বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় সংকুলান করতে না পেরে বৈদেশিক সাহায্যে নির্ভরশীল হওয়া নতুন কিছু নয়। বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, মহাসড়ক, রেললাইন উন্নয়ন, বহুমুখী সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন, বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প ইত্যাদি নির্মাণে বৈদেশিক সাহায্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও বৈদেশিক সাহায্য বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাব পূরণ করে থাকে। সাধারণত অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মানবিক প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈদেশিক সাহায্যের পরমুখাপেক্ষী করে রাখা লক্ষ থাকে না। আবার বৈদেশিক সাহায্য আত্মকর্মসংস্থান, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নিবারণে সহায়তা করে থাকে। এ বৈদেশিক সাহায্য এক ধরনের বাহ্যিক অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করে যার ওপর ভিত্তি করে দেশ স্বনির্ভরতা অর্জনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। এভাবে বৈদেশিক সাহায্য জরুরি প্রয়োজনে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে 'সাপ্লিমেন্ট' হিসেবে কাজে লাগতে পারে। তাই বৈদেশিক সাহায্য সবসময় পরনির্ভরশীলতা বাড়ায়-কথাটি সত্য নয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমস্যা দূরীকরণের জন্য বিভিন্ন দেশের সাথে যেমন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে, তেমনি বিদেশি বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী ও সংস্থার কাছ থেকে সাহায্যও গ্রহণ করছে। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, স্বনির্ভরতা অর্জন, দারিদ্রদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি প্রভৃতি উদ্দেশ্যে এসব সাহায্য গ্রহণ করা হচ্ছে। এভাবে বাংলাদেশ অন্যের সাহায্যে ও নিজের চেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে।

ক.

বৈদেশিক সাহায্য কাকে বলে?

খ.

বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্যের মধ্যে কয়েকটি পার্থক্য লেখ।

গ.

বৈদেশিক বাণিজ্য, না বৈদেশিক সাহায্য কোনটিকে তুমি অধিক গুরুত্ব দেবে? উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

বৈদেশিক সাহায্য সবসময় পরনির্ভরতা বাড়ায় না-ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A ও B দুটি দেশ। A দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয় বিক্রয় করে। B দেশ তার উৎপ...

A দেশে ও B দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যে গত অর্থবছরে A দেশের ১৪৩৯৩ মিলিয়ন ডলার এবং B দেশের ১৩৭৫৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি ...

'A' ব্যক্তি একটি শতরঞ্জি তৈরির কারখানায় কাজ করে। অন্যদিকে 'B' ব্যক্তি একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করে। 'A' ব্যক্তির কা...

'B' এর ব্যবসার কারণে- i. বিদেশের বাজারে দেশের সম্মান বৃদ্ধি পায় ii. কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয় iii. বৈদেশিক মুদ্রা অর্...

Br = (X-M) > 0 দ্বারা কী নির্দেশ করে?

'D' দেশের সরকার দেশের দীর্ঘতম নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রথমে বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও বিভিন্ন দেশের সরকার...

'Globalization' শব্দটি নিচের কোন শব্দ থেকে এসেছে?

'Introduction to Globalization' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

'NBR' নিয়ন্ত্রিত কর হল -- i. আবগারি শুল্ক ii. আয়কর iii. রপ্তানি শুল্ক নিচের কোনটি সঠিক?

Tax-holiday সুবিধা পান কারা?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।