ক.
প্রতিবন্ধি হলো তারাই যারা দৈহিক, মানসিক ও বোধ শক্তিজনিত অসুবিধার কারণে সামাজিক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত।
খ.
মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের স্বার্থরক্ষা করার উদ্দেশ্যে ওআইসি (OIC) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
মুসলিম দেশসমূহের সর্ববৃহৎ সংগঠনের নাম হল ওআইসি, যার পূর্ণরূপ হলো- Organisation of Islamic Co-operation (OIC)। এটি বিশ্বের সকল মুসলিম রাষ্ট্রের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বহির্বিশ্বের মুসলমানদের স্বার্থে ভূমিকা রাখা ওআইসি (OIC) গঠনের অন্যতম কারণ।
গ.
উদ্দীপকে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের কথা বলা হয়েছে।
সার্ক একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে সার্বিক উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা সার্ক (SAARC) গঠনের মূল উদ্দেশ্য। উদ্দীপকের আঞ্চলিক সংস্থারও অনুরূপ উদ্দেশ্য লক্ষণীয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক সংস্থার সদস্য। সংস্থাটি এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা তৈরিতে কাজ করছে। এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এর সদস্য সংখ্যা আট। একইভাবে সার্ক (SAARC) দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী আটটি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। এই আঞ্চলিক সংস্থার পূর্ণরূপ হলো SAARC- South Asian Association for Regional Co-operation অর্থাৎ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সংস্থা। সার্ক গঠনে বাংলাদেশই প্রথম উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করে। ১৯৮৫ সালের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে ঐতিহাসিক ঢাকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে সার্ক (SAARC) গঠিত হয়।
সার্কের মূলনীতিগুলো হলো- এ সংস্থার যেকোনো সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত হবে; দ্বিপক্ষীয় বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো এ সংস্থায় তোলা হবে না; আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার নীতি এবং পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার নীতিকে সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতি লক্ষ রেখে সার্ক ভূমিকা গ্রহণ করবে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থা অর্থাৎ সার্কের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও ঘনিষ্ট।
সার্কের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সার্কের স্বপ্ন দ্রষ্টা বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সার্ক গঠনের প্রধান উদ্যোক্তা। বাংলাদেশের ভূমিকা শুধু সার্ক গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সার্কের যেকোনো সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা সর্বাগ্রে উল্লেখযোগ্য।
সার্ক গঠনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদ্যোগী ভূমিকা সর্বজনবিহিত। সার্কের জন্মলগ্ন থেকে বাংলাদেশ সার্কের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বলিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশ সার্কের সদস্য হিসেবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর কৃষি, আবহাওয়া, পল্লি উন্নয়ন, বিজ্ঞান, যোগাযোগ, শিক্ষা, পরিবেশ প্রভৃতি বিষয়ের উন্নয়নে জন্য সার্কের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। সার্কের সদস্য হিসেবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও অবাধ করার লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালের ১১ এপ্রিল অগ্রাধিকার মূলক বাণিজ্যব্যবস্থা (SAPTA) চুক্তি সম্পাদিত হয়। এর ফলে বাংলাদেশের সাথে সার্কের সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্য বহুগুণ বাড়ে। এছাড়া সদস্য দেশগুলোতে মানব পাচার রোধ, সন্ত্রাস দমন ইত্যাদি কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা নানা ধরনের যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ১৯৮৯ সালে সার্ক কৃষি তথ্যকেন্দ্র (SAIC) প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নে এ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সার্কের সদা সাফল্য বাংলাদেশের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, সার্ক ও বাংলাদেশ অভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ।