Facebook Pixel

বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের শুরুতে এক বিশেষ ধরনের ঝড় সংঘটিত হয়। এ ঝড় খুব বেশি সময় স্থায়ী হতে দেখা যায় না। বাংলাদেশের দক্ষিণ - পূর্বাঞ্চলে এর তীব্রতা বেশি পরিলক্ষিত হয়। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রেও এক ধরনের ঝড়ের তাণ্ডব পরিলক্ষিত হয়। যে দেশে প্রায় প্রতিবছর অনুরূপ ঝড় হয়ে থাকে যার ভয়াবহতা অনেক বেশি। অবশ্য এ ধরনের ঝড় বাংলাদেশেও বৈশাখ - জৈষ্ঠ বা আশ্বিন - কার্তিক মাসে মাঝেমধ্যে হয়ে থাকে। ক. কুয়াশা কী ? খ. সব মেঘ থেকে বৃষ্টিপাত হয় না কেন ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দুর্যোগটি বাংলাদেশে সংঘটনের কারণ ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঝড় দুটি বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে একে অপর থেকে ভিন্ন -- বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ভূগোল ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুস্তরে জলাকর্ষী কণাকে আশ্রয় করে মেঘের মতো যে ঘনীভবন হয় তাই কুয়াশা । খ. মেঘের মধ্যে অবস্থিত জলকণাগুলির ব্যাস একটি নির্দিষ্ট সীমার থেকে বেশি হয়ে গেলেই মেঘ থেকে বৃষ্টি হিসেবে নিচের দিকে ঝরে পড়ে। অনেক মেঘের মধ্যে ভাসমান জলীয়কণার ব্যাস বৃষ্টি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট সীমার তুলনায় অনেকটাই ছোট হয় , তাই সেই মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরে পড়ার সুযোগ পায় না। এছাড়াও মেঘের মধ্যে ছোট জলীয়কণার সংযুক্তিকরণ ও বড় জলীয়কণার সৃষ্টির মাধ্যমে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়া , বৃষ্টি হবার একটি অন্যতম কারণ। এই জলীয়কণার সংযুক্তিকরণের উপযোগী পরিবেশ ও কারণগুলি সব ধরনের মেঘের মধ্যে সৃষ্টি হয় না , তাই সে সব মেঘ থেকে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও আর থাকে না। গ. গ্রীষ্মকালের শুরুতে বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় হয়। কালবৈশাখী সৃষ্টির প্রধান কারণ নিম্নচাপ। এই নিম্নচাপের কারণে উষ্ণ বাতাস উপরের দিকে উঠতে থাকে। এর ফলে সৃষ্ট ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ঠাণ্ডা বাতাস প্রচণ্ড বেগে ঐ ফাঁকা স্থানের দিকে ধাবিত হয়ে কালবৈশাখী সংঘটিত হয়। কালবৈশাখীর আগমনে উষ্ণতা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ °- ১০ ° সে . কমে যায়। দক্ষিণ দিক হতে প্রবাহিত উষ্ণ জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু উত্তর - পশ্চিমে পৌছিয়ে উপরে ওঠতে থাকে। এ বায়ুর ঠিক উপরের দিকে উত্তর - পশ্চিম বা পশ্চিম দিক হতে শুষ্ক শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। এই দুই বিপরীতগামী বায়ুপ্রবাহের সন্ধিস্থলে বজ্রবিদ্যুৎসহ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। গ্রীষ্মকালীন বায়ুমণ্ডলীয় এ অবস্থার পরপরই দক্ষিণ - পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রেবাহের প্রভাবে বর্ষাকাল শুরু হয়। তাই কালবৈশাখী হলো মৌসুমি বায়ুর অগ্রদূত। ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখকৃত ঝড় দুটি হলো কালবৈশাখী ঝড় এবং টনের্ডো। কালবৈশাখী ঝড় ও টর্নেডোকে বায়ুমণ্ডলীয় গোলযোগ বলা হয়। বায়ুমণ্ডলে বায়ুর তাপ ও চাপের অনিয়মিত পার্থক্যের কারণে গোলযোগ দেখা দেয়। বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের শুরুতে স্বল্প পরিসরে স্বল্প সময় ব্যাপ্তি বজ্র - বিদ্যুৎসহ একপ্রকার প্রবল ঝড় আঘাত হেনে থাকে যাকে স্থানীয়ভাবে কালবৈশাখী বলে। অপরদিকে , লঘু বা নিম্নচাপ কেন্দ্র থেকে উষ্ণ বাতাস উপরে উঠে গেলে ঐ শূন্য জায়গা পূরণের জন্য শীতল বাতাস প্রচন্ড বেগে ধাবিত হয় ; এটিই টর্নেডো। বাংলাদেশে কালবৈশাখী সৃষ্টির প্রধান কারণ হচ্ছে দেশের দক্ষিণ - পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু যা উর্ধ্বে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত ব্যাপৃত থাকে এবং এ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উত্তর - পশ্চিম এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা অপেক্ষাকৃত শীতল ও শুষ্ক বায়ুর সঙ্গে মিলিত বা মুখোমুখি হয়ে কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টি করে। অপরদিকে , ঘূর্ণিঝড়ের মতো টর্নেডোর জন্যও লঘু বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়াই প্রধান কারণ। এর ফলে উষ্ণ বাতাস উপরে উঠে যায় এবং ঐ শূন্য জায়গা পূরণের জন্য শীতল বাতাস প্রচণ্ড বেগে ঐ শূন্য জায়গার দিকে ধাবিত হয়। ফলশ্রুতিতে টর্নেডো সৃষ্টি হয়। কালবৈশাখী ঝড়ের গতি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হতে ৮০ কি . মি . হয়ে থাকে। অনেক সময় এ ঝড়ের গতি গণ্টায় ১২৮ কি . মি . এরও বেশি হয়ে থাকে। টর্নেডোর ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ সাইক্লোনের চেয়ে বেশি হয় এবং তা সাধারণত ঘণ্টায় ১০০ - ৪৮০ কি . মি . হতে পারে। টর্নেডোর বিস্তার মাত্র কয়েক মিটার এবং দৈর্ঘ্য ৫ - ৩০ কি . মি . হতে পারে। আলোচনা থেকে বলা যায় , কালবৈশাখী ও টর্নেডো ভিন্ন প্রকৃতির।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের শুরুতে এক বিশেষ ধরনের ঝড় সংঘটিত হয়। এ ঝড় খুব বেশি সময় স্থায়ী হতে দেখা যায় না। বাংলাদেশের দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চলে এর তীব্রতা বেশি পরিলক্ষিত হয়। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রেও এক ধরনের ঝড়ের তাণ্ডব পরিলক্ষিত হয়। যে দেশে প্রায় প্রতিবছর অনুরূপ ঝড় হয়ে থাকে যার ভয়াবহতা অনেক বেশি। অবশ্য এ ধরনের ঝড় বাংলাদেশেও বৈশাখ-জৈষ্ঠ বা আশ্বিন-কার্তিক মাসে মাঝেমধ্যে হয়ে থাকে।

ক.

কুয়াশা কী ?

খ.

সব মেঘ থেকে বৃষ্টিপাত হয় না কেন ?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত দুর্যোগটি বাংলাদেশে সংঘটনের কারণ ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঝড় দুটি বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে একে অপর থেকে ভিন্ন-- বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'X' হচ্ছে বায়ুমণ্ডলীয় উপাদানের দৈনিক অবস্থা এবং 'Y' হচ্ছে বায়ুমণ্ডলীয় উপাদানের দীর্ঘদিনের গড় অবস্থা। আবার 'Y' এর বে...

ক. নিয়ত বায়ু কাকে বলে? খ. অশ্ম অক্ষাংশ বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' শ্রেণির বৃষ্টিপাতের ধরন বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দ...

ক. বায়ুর আর্দ্রতা কী? খ. Snow Eater বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। গ. চিত্রে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটিকে নিরক্ষীয় শান্তবলয় বলা হ...

ক. বায়ুর সাধারণ তাপহ্রাস হার কত? খ. আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ক-শ্রেণির বৃষ্টিপাত সংঘটনের প...

ক. ঘনীভবন কী? খ. ওজন স্তরের অবস্থান বর্ণনা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত খ-বায়ুর বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ক-ব...

ক. অয়ন বায়ুর সংজ্ঞা দাও। খ. কালবৈশাখী সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' নিয়ামকের বর্ণনা দাও। ঘ. উদ্দী...

ক. কর্কটক্রান্তি রেখা কী? খ. 'গর্জনশীল চল্লিশ' কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের চিত্রটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের ...

ক. দক্ষিণ গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন কোনটি? খ. তাপমাত্রার উৎক্রম বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে ‘ক’ জলবায়ু তৈরি করে থা...

ক. অনিয়মিত বায়ু কাকে বলে? খ. ঘনীভবন কীভাবে হয়- বুঝিয়ে বল। গ. উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলের আবহাওয়া উপাদানের প্রকৃতি ব্য...

ক. বায়ুপ্রবাহ কাকে বলে? খ. জলবায়ুর ক্ষেত্রে সমুদ্র থেকে দূরত্বের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত গোলযোগ ‘ক’...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।