ক.
সাধারণ অর্থে ধর্ম হলো অতিপ্রাকৃত বা অদৃশ্য কোনো শক্তির প্রতি অবিচল বিশ্বাস ও আনুগত্য। সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, ধর্ম হলো এমন একগুচ্ছ বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ও নীতিমালার সমষ্টি, যা মানুষের জীবনযাপন, মূল্যবোধ ও নৈতিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
খ.
দর্পণ বা আয়নায় যেমন কোনো কিছুর প্রকৃত প্রতিচ্ছবি দেখা যায়, তেমনি গণমাধ্যমও সমাজের বাস্তব চিত্র মানুষের সামনে হুবহু তুলে ধরে।
সমাজে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা, সমস্যা, সম্ভাবনা, মানুষের চাওয়া-পাওয়া এবং জনমত গণমাধ্যমের (যেমন- সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন) মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়। একটি সমাজের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও সার্বিক অবস্থা গণমাধ্যম নিখুঁতভাবে সবার সামনে তুলে ধরে বলেই একে সমাজের দর্পণ বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠান 'পুলিশ' -এর কথা বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্য গঠিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাই হলো পুলিশ। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে এবং জরুরি অবস্থায় সরকার ও জনগণকে সাহায্য করে। বাস্তবে রাষ্ট্রের পক্ষে এই কাজগুলো বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী করে থাকে। তারা সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে দিনরাত কাজ করে। যেহেতু রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে পুলিশ বাহিনী সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করে, তাই উদ্দীপকে পুলিশ নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কথাই বোঝানো হয়েছে।
ঘ.
সামাজিক সমস্যা নিরসনে উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ 'পুলিশ' -এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য হলেও, তা এককভাবে যথেষ্ট নয়।
পুলিশ মূলত আইন প্রয়োগ, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং সমাজের বাহ্যিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করে। কিন্তু সামাজিক সমস্যাগুলো (যেমন- মাদকাসক্তি, যৌতুক, কিশোর অপরাধ, দারিদ্র্য বা বেকারত্ব) শুধু ভয় দেখিয়ে বা আইন প্রয়োগ করে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়।
উক্ত প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা কেন এককভাবে যথেষ্ট নয়, তার সপক্ষে নিচে যুক্তিগুলো তুলে ধরা হলো:
১. মানসিক ও নৈতিক পরিবর্তন: পুলিশ মানুষের বাহ্যিক অপরাধমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের মানসিক বা নৈতিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে না। মানুষের নৈতিক ভিত্তি মজবুত করার জন্য পরিবার, ধর্ম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিহার্য।
২. সচেতনতা সৃষ্টি: যৌতুক, বাল্যবিবাহ বা নারী নির্যাতনের মতো সমস্যা সমাধানে আইনের পাশাপাশি ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা বেশি জরুরি। এই সচেতনতা তৈরির কাজ গণমাধ্যম এবং সমাজকর্মীরা সবচেয়ে ভালোভাবে করতে পারেন।
৩. সংশোধন ও পুনর্বাসন: অপরাধীদের কেবল শাস্তি দেওয়াই শেষ কথা নয়; তাদের সংশোধন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন, যা কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র বা অন্যান্য সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলো করে থাকে।
৪. বহুমাত্রিক কারণের উপস্থিতি: সামাজিক সমস্যাগুলো সাধারণত দারিদ্র্য, বেকারত্ব বা হতাশা থেকে সৃষ্টি হয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা পুলিশের কাজ নয়, এটি রাষ্ট্রের অন্যান্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।
পরিশেষে বলা যায়, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে যেকোনো সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পুলিশের পাশাপাশি পরিবার, ধর্ম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সমাজকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তাই সামাজিক সমস্যা নিরসনে পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা এককভাবে কখনোই যথেষ্ট নয়।