Facebook Pixel

বাংলাদেশের শিল্প সম্পর্কে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক নাসির মামুন বলেন, পাট, চামড়া ও তৈরি পোশাক ইত্যাদি বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শিল্প। ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ, মূলধনের স্বল্পতা, কারিগরি জ্ঞানের অভাব, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ইত্যাদি বাংলাদেশের শিল্পের অনগ্রসরতার প্রধান কারণ। সম্প্রতি সরকার দেশের দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নীতি গ্রহণ করেছে। ক. কুটিরশিল্প কাকে বলে? খ. পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্পের বর্ণনা দাও। ঘ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের শিল্পের যেসব সমস্যার কথা বলা হয়েছে। তা সমাধানে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব কতটুকু ভূমিকা পালন করতে পারে তা বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ বাংলাদেশের শিল্প

উৎস: Board Exam Question DB 2018

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. নিজ গৃহে পারিবারিক ভিত্তিতে স্বল্প মূলধন ও সহজলভ্য কাঁচামাল এবং ছোটখাটো সাধারণ যন্ত্রপাতির দ্বারা যে শিল্প পরিচালিত হয় তাকে কুটিরশিল্প বলে। খ. সম্প্রতি উন্নত জাতের পাট ও পাটজাত দ্রব্যের উদ্ভাবন, পাটের বিকল্প পণ্য ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের ফলে নতুন করে পাট শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পাটের বিকল্প ব্যবহার আবিষ্কৃত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর চাহিদা কমে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আবার নতুন করে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে পাট দ্বারা বিভিন্ন উন্নত ও রুচিশীল পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন- পাটের তৈরি ব্যাগ, জুতা, মাদুর ইত্যাদি। তাছাড়া, এ সকল পণ্য পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না। তাই বলা যায়, পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল। গ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্পের মধ্যে পাট, চামড়া ও তৈরি পোশাক শিল্পের উল্লেখ রয়েছে। পাট শিল্প বাংলাদেশের বৃহদায়তন ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। বিশ্বের বৃহত্তম পাট উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্বীকৃত। পাটজাত পণ্য থেকে বৈশ্বিক রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশই রয়েছে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। পাটপণ্য রপ্তানি করে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৪৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত) আয় করে। আবার, চামড়া শিল্পে যথেষ্ট উন্নতি না হলেও এদেশ চামড়া রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাব অনুসারে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে ২৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত) আয় করে। তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উম্মোচন করেছে। দেশের রপ্তানি আয়ের ৭৫ থেকে ৮২ শতাংশের বেশি এ খাত থেকে অর্জিত হয়। বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে প্রধান আমদানিকারক দেশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত (নিটওয়‍্যারসহ) হতে রপ্তানি আয় হয়েছে ২৩১২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত)। ঘ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের শিল্পের যেসব সমস্যার কথা বলা হয়েছে তা সমাধানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) ভূমিকা অপরিসীম। সরকার ভৌত অবকাঠামো খাতে বিশেষ করে মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে (যেমন: ম্যাস ট্রানজিট) ফ্লাইওভার, বাসটার্মিনাল, বিমানবন্দর, এভিয়েশন, সমুদ্রবন্দর, রেলওয়ে ইত্যাদি) এবং সেবা খাতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও লক্ষ্যভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে সরকারি- বেসরকারি অংশীদারিত্বের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যা দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উদ্দীপকে অর্থনীতির অধ্যাপক নাসির মামুন বলেন, পাট, চামড়া ও তৈরি পোশাক ইত্যাদি বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শিল্প। সম্প্রতি সরকার দেশের দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নীতি গ্রহণ করেছে। যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশসমূহের দ্রুত উন্নয়ন সাধনে ব্যাপক পুঁজির প্রয়োজন রয়েছে যা এককভাবে সরকার বা বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে সম্পাদন করা দুরূহ। কারণ, কাঙ্ক্ষিত মূলধনের সম্পূর্ণ সংস্থান শুধু সরকারি আয় দ্বারা মেটানো সম্ভব নয়। আবার, বৈদেশিক ঋণ শর্তযুক্ত ও প্রভাব বেশি হওয়ায় তা দেশের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এরূপ ক্ষেত্রে সরকারের PPP উদ্যোগের প্রয়োজন হয়। পিপিপি-র মাধ্যমে ভৌত অবকাঠামো খাতের শক্তিশালী বিকাশ সাধনের ফলে দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, বাণিজ্য, ব্যাংক, বিমা প্রভৃতি সেবা খাতের উন্নয়ন ঘটে। শিল্প খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত পিপিপি- এর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে দেশে বেকারত্বের হার হ্রাস এবং জীবনযাত্রার মান ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরি এর মাধ্যমে শক্তিশালী বেসরকারি খাতের সৃষ্টি হয়। কাজেই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব যথেষ্ট ভূমিকা পালন করবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2018)

বাংলাদেশের শিল্প সম্পর্কে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক নাসির মামুন বলেন, পাট, চামড়া ও তৈরি পোশাক ইত্যাদি বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শিল্প। ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ, মূলধনের স্বল্পতা, কারিগরি জ্ঞানের অভাব, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ইত্যাদি বাংলাদেশের শিল্পের অনগ্রসরতার প্রধান কারণ। সম্প্রতি সরকার দেশের দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নীতি গ্রহণ করেছে।

ক.

কুটিরশিল্প কাকে বলে?

খ.

পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল- ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্পের বর্ণনা দাও।

ঘ.

উদ্দীপকে বাংলাদেশের শিল্পের যেসব সমস্যার কথা বলা হয়েছে। তা সমাধানে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব কতটুকু ভূমিকা পালন করতে পারে তা বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A, B ও C তিনটি উৎপাদনশীল কারখানার (শ্রমঘন নয়) কিছু তথ্য দেওয়া হলো: ক. আমদানি বিকল্প শিল্প কী? খ. বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি...

EPZ কী ?

EPZ অর্থ-

PPI এর পূর্ণরূপ কোনটি?

PPP এর পূর্ণরূপ নিচের কোনটি?

'SME – এর পূর্ণরূপ নিচের কোনটি?

X দেশের কয়েক দশক পূর্ব হতে বর্তমান পর্যন্ত পাট ও পাটজাত দ্রব্য প্রধান রপ্তানি দ্রব্য। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, গুণগত ...

'X' দেশের রপ্তানী আয়ে সিংহভাগ আসে একটি শিল্প থেকে, যার অধিকাংশ শ্রমিক মহিলা। উক্ত শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের আর্ন্তজাতিক বাজা...

'Y' দেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশটি বেশির ভাগ শিল্পজাত দ্রব্য আমদানি করে। পূর্বে সকল মোটরসাইকেল বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো।...

'Z' দেশের শিল্প কাঠামো ৫ প্রকার, মোট শ্রমশক্তি ২০.৪% শিল্প খাতে কাজ করে। মূলধনের অভাব, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, ইত্যাদি সমস্য...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।