Facebook Pixel

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সীমা প্রতি বছরে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাট, চা, চামড়া, তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, হিমায়িত খাদ্য, পেট্রোলিয়াম পণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য, IT শিল্পসহ দক্ষ, স্বল্পদক্ষ ও অদক্ষ মানব সম্পদ রপ্তানি করছে। অন্যদিকে, মূলধন দ্রব্য, অপরিশোধিত পেট্রেলিয়াম, সুতা, সার, তৈলবীজ, খাদ্যশস্য ও ঔষুধ আমদানি করছে। প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় মেটানোর পর বর্তমানে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ক. অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য কী? খ. অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মধ্যে পার্থক্য দেখাও। গ. উদ্দীপক হতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকা বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের গুরুত্বানুসারে উপস্থাপন করো। ঘ. বিশ্বায়নের সুযোগ কাজে লাগিয়ে উদ্দীপকে বর্ণিত কোন কোন শিল্পকে আমদানি বিকল্প শিল্পায়নের লক্ষ্যে সুপারিশ করা যায়- মতামত দাও।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. যেসব পণ্য অতীতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল না, কিন্তু বর্তমানে রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, সেগুলোকে অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলে। খ. অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য হলো একটি দেশের ভেতরে পরিচালিত পণ্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয়, যেখানে একই মুদ্রা ও একই আইন ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হলো দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবার বিনিময়, যেখানে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, আইন ও নীতিমালা জড়িত থাকে। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তুলনামূলকভাবে বেশি জটিল। গ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পণ্যসমূহকে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের গুরুত্ব অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস করলে তিনটি প্রধান স্তর পাওয়া যায়। প্রথমত, সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত হলো তৈরি পোশাক শিল্প এবং নিটওয়্যার শিল্প। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ এই দুই খাত থেকেই আসে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের চাহিদা ব্যাপক, কারণ তুলনামূলকভাবে কম খরচে উৎপাদন এবং শ্রমশক্তির প্রাচুর্য এই খাতকে শক্তিশালী করেছে। এজন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এই খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয়ত, মধ্যম পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতের মধ্যে রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য (বিশেষ করে মাছ ও চিংড়ি), চা এবং পাট ও পাটজাত পণ্য। এসব খাত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রপ্তানি পণ্য হিসেবে পরিচিত। যদিও তৈরি পোশাক খাতের তুলনায় এদের অবদান কিছুটা কমে গেছে, তবুও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এগুলোর ভূমিকা এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয়ত, উদীয়মান বা ক্রমবর্ধমান রপ্তানি খাতের মধ্যে রয়েছে হস্তশিল্পজাত দ্রব্য, তথ্যপ্রযুক্তি (IT) শিল্প, রাসায়নিক দ্রব্য, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং দক্ষ, স্বল্পদক্ষ ও অদক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানি। এসব খাত বর্তমানে ধীরে ধীরে রপ্তানি আয়ে অবদান রাখছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে। সুতরাং, গুরুত্ব অনুযায়ী রপ্তানি পণ্যের এই শ্রেণিবিন্যাস বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে। ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত পণ্য ও শিল্পসমূহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আমদানি নির্ভরতা এখনো বিদ্যমান। বিশেষ করে মূলধন দ্রব্য, অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, সুতা, সার, তৈলবীজ, খাদ্যশস্য এবং ঔষুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলো দেশের চাহিদা পূরণের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এই পরিস্থিতি কমাতে আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন অত্যন্ত জরুরি। উদ্দীপকের আলোকে যেসব শিল্পকে আমদানি বিকল্প শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে, সেগুলো হলো—রাসায়নিক দ্রব্য শিল্প, সার উৎপাদন শিল্প, খাদ্যশস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, ঔষুধ শিল্প, পেট্রোলিয়াম পরিশোধন শিল্প এবং সুতা ও বস্ত্র শিল্প। এসব শিল্প যদি দেশীয়ভাবে শক্তিশালী করা যায়, তাহলে আমদানি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তি, বিদেশি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক বাজার এবং দক্ষ জনশক্তির সহজলভ্যতা ব্যবহার করে এসব শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব। বিদেশি কোম্পানির সাথে যৌথ বিনিয়োগ (joint venture), আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। প্রথমত, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে আমদানি ব্যয় হ্রাস পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। দ্বিতীয়ত, নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, যা বেকারত্ব কমাতে সাহায্য করবে। তৃতীয়ত, শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ঔষুধ শিল্প এবং বস্ত্র শিল্প ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় অবস্থানে রয়েছে, যা আরও সম্প্রসারণ করলে রপ্তানি খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সুতরাং, বিশ্বায়নের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব শিল্পকে আমদানি বিকল্প শিল্প হিসেবে উন্নয়ন করা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সীমা প্রতি বছরে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাট, চা, চামড়া, তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, হিমায়িত খাদ্য, পেট্রোলিয়াম পণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য, IT শিল্পসহ দক্ষ, স্বল্পদক্ষ ও অদক্ষ মানব সম্পদ রপ্তানি করছে। অন্যদিকে, মূলধন দ্রব্য, অপরিশোধিত পেট্রেলিয়াম, সুতা, সার, তৈলবীজ, খাদ্যশস্য ও ঔষুধ আমদানি করছে। প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় মেটানোর পর বর্তমানে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

ক.

অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য কী?

খ.

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

গ.

উদ্দীপক হতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকা বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের গুরুত্বানুসারে উপস্থাপন করো।

ঘ.

বিশ্বায়নের সুযোগ কাজে লাগিয়ে উদ্দীপকে বর্ণিত কোন কোন শিল্পকে আমদানি বিকল্প শিল্পায়নের লক্ষ্যে সুপারিশ করা যায়- মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A ও B দুটি দেশ। A দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয় বিক্রয় করে। B দেশ তার উৎপ...

A দেশে ও B দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যে গত অর্থবছরে A দেশের ১৪৩৯৩ মিলিয়ন ডলার এবং B দেশের ১৩৭৫৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি ...

'A' ব্যক্তি একটি শতরঞ্জি তৈরির কারখানায় কাজ করে। অন্যদিকে 'B' ব্যক্তি একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করে। 'A' ব্যক্তির কা...

'B' এর ব্যবসার কারণে- i. বিদেশের বাজারে দেশের সম্মান বৃদ্ধি পায় ii. কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয় iii. বৈদেশিক মুদ্রা অর্...

Br = (X-M) > 0 দ্বারা কী নির্দেশ করে?

'D' দেশের সরকার দেশের দীর্ঘতম নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রথমে বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও বিভিন্ন দেশের সরকার...

'Globalization' শব্দটি নিচের কোন শব্দ থেকে এসেছে?

'Introduction to Globalization' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

'NBR' নিয়ন্ত্রিত কর হল -- i. আবগারি শুল্ক ii. আয়কর iii. রপ্তানি শুল্ক নিচের কোনটি সঠিক?

Tax-holiday সুবিধা পান কারা?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।