Facebook Pixel

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে গতিময় ও সুসংহত করা এবং বহির্বিশ্বে বাঙালি জাতির ভাবমূর্তিকে তুলে ধরার জন্য একটি সরকার গঠন করা হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উক্ত সরকারের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। ক. তমদ্দুন মজলিস কী? খ. 'মৌলিক গণতন্ত্র' ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে কোন সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষের উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. তমদ্দুন মজলিস হলো ভাষা আন্দোলনকে সংগঠিতভাবে পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। খ. মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে এক ধরনের সীমিত গণতন্ত্র যাতে কেবল কিছু নির্দিষ্ট লোকের অংশগ্রহণে জাতীয় নেতৃত্ব নির্বাচন করা হতো। তাদের বলা হতো মৌলিক গণতন্ত্রী। জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে দেশে মৌলিক গণতন্ত্র নামে এক অভিনব ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তিনি একটি নতুন ধারার নির্বাচন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেন। আর নির্বাচন প্রক্রিয়ার মূলভিত্তি ছিল এই মৌলিক বা বুনিয়াদী গণতন্ত্র। এ পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- মন্ত্রিসভা ও প্রতিনিধি পরিষদসমূহ সর্বতোভাবে প্রেসিডেন্টের অধীন থাকা এবং প্রাদেশিক বা অন্য কোনো স্তরে স্বায়ত্তশাসনের অনুপস্থিতি। প্রারম্ভিক পর্যায়ে মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি পাঁচ স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা। নিম্নস্তর থেকে শুরু করে এ স্তরগুলো ছিল- ১. ইউনিয়ন পরিষদ এবং শহর ও ইউনিয়ন কমিটি, ২. থানা পরিষদ, ৩. জেলা পরিষদ, ৪. বিভাগীয় পরিষদ এবং ৫. প্রাদেশিক উন্নয়ন উপদেষ্টা পরিষদ। গ. উদ্দীপকের তথ্যটি আমার পাঠ্যবইয়ের মুজিবনগর সরকারকে নির্দেশ করে। মুজিবনগর সরকারের গঠন লক্ষ করলে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন হয়। মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ। এছাড়া এম মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী ছিলেন। জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে করা হয় প্রধান সেনাপতি। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে গতিময় ও সুসংহত করতে এবং বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি তুলে ধরতে একটি সরকার গঠিত হয়েছিল। মুজিবনগর সরকার ঠিক এই কাজটিই করেছিল। এই সরকার গঠনের ফলে মুক্তিযুদ্ধ একটি সুশৃঙ্খল রূপ পায় এবং বিশ্ববাসীর কাছে এটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন না হয়ে একটি বৈধ মুক্তি সংগ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পায়। উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে মুজিবনগর সরকারের গঠন ও উদ্দেশ্যের পূর্ণ মিল পাওয়া যায়, কারণ এই সরকারই সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল এবং বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক মিশন স্থাপন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন করেছিল। ঘ. স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উক্ত সরকারের অর্থাৎ মুজিবনগর সরকারের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। পরে এলাকাটির নাম হয় মুজিবনগর। এ কারণে ইতিহাসে এই অস্থায়ী সরকার 'মুজিবনগর সরকার' নামে পরিচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন ছিল একটি যুগান্তকারী ঐতিহাসিক ঘটনা। কেননা এই সরকারই মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পথকে সুগম করেছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ায় বাংলার স্বাধীনতাকামী জনতা আশার আলো দেখতে পায়। এ সরকার ভারতের সহায়তায় ছাত্রসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধের ময়দানে পাঠায়। সংগ্রামী জনগণের মনোবল, ঠিক রাখতে মুজিবনগর সরকার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। এগুলো মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিদের প্রেরণার অন্যতম উৎস ছিল। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সুসংহতভাবে পরিচালনার জন্য সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে। মুজিবনগর সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা ছিল কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক ও স্টকহোমসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানী ও প্রধান শহরে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন এবং সব স্থানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি নিয়োগ করে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা। উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা, মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দান, কূটনৈতিক তৎপরতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে গতিময় ও সুসংহত করা এবং বহির্বিশ্বে বাঙালি জাতির ভাবমূর্তিকে তুলে ধরার জন্য একটি সরকার গঠন করা হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উক্ত সরকারের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

ক.

তমদ্দুন মজলিস কী?

খ.

'মৌলিক গণতন্ত্র' ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকে কোন সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষের উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, নির্যাতনের প্রেক্ষিতে তাদেরকে নির্বাচনে পরাজিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দল জোটভুক্ত ...

'A' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার প্রায় দুই যুগ পরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে রাষ্ট্রের একাংশের একটি রাজনৈতিক দ...

P নামক ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের একটি নির্বাচনে শাসক দলের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণ কর...

"Six Point demand was the Demand for the Survival of the Bangalis." -উক্তিটি কার?

'The Politics of Development the case study of Pakistan' গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

'X' উপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষাকে...

'X' নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতা লাভের প্রায় দুই যুগ পর একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠীর শা...

'X' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আশা করছিল তাদের অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নতি সাধন হবে। কিন্তু তারা শাসকশ্...

'Z' নামক রাষ্ট্রটি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে স্বাধীনতা লাভ করে। ওই রাষ্ট্রে বহু ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী বসবাস করে। স্বাধীনত...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।