Facebook Pixel

বাংলাদেশের কৃষিখাত নিয়ে আমরা যথেষ্ট আশাবাদী। বিগত কয়েক দশক যাবৎ জিডিপিতে কৃষির অবদান বাড়ছে। মোট কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ খাত শ্রমশক্তি নিয়োগের জন্য এখনো একক বৃহত্তম খাত। শস্য উৎপাদনের বহুমুখীকরণ, জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি, উন্নত বীজ ও প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ সহিষ্ণু বীজ উদ্ভাবনের ফলেই এরূপ সাফল্য এসেছে। তবে বাজার ব্যবস্থার ত্রুটি বিচ্যুতি ও যাতায়াত ব্যবস্থার দুর্বলতার ফলে এখনো কৃষকদের আর্থিক অবস্থার তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ক. কৃষি খামার বলতে কী বোঝ? খ. মাশরুম চাষ, হাস-মুরগি প্রতিপালন গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কীভাবে ভূমিকা রাখে? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষি কর্মসূচির উপযোগিতা বিশ্লেষণ কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যার প্রেক্ষিতে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়? আলোচনা কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ বাংলাদেশের কৃষি

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সাধারণত একজন কৃষকের অধীনে যে পরিমাণ জমি চাষাবাদ করা হয় তাই কৃষি খামার। খ. মাশরুম চাষ ও হাঁস-মুরগির প্রতিপালন গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাশরুম চাষের জন্য আলাদা কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। এজন্য প্রচুর মূলধনও লাগে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এ থেকে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়া যায়। এছাড়া সাম্প্রতিককালে হাঁস-মুরগি পালন বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও পরিচালিত হচ্ছে। বেকার যুবক-যুবতী, গৃহিণী, ছাত্র-ছাত্রী যে কেউ খুব সহজেই মাশরুম চাষ ও হাঁস-মুরগির প্রতিপালন করতে পারে। এতে একদিকে যেমন আয় উপার্জন করতে সক্ষম হবে, তেমনি অন্যদিকে আত্মকর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষি কর্মসূচির উপযোগিতা বিশ্লেষণ করা হলো- ১. শস্য বহুমুখীকরণ: একসময় নির্দিষ্ট কিছু শস্য উৎপাদনের ওপর কৃষির নির্ভরতা থাকলেও বর্তমানে কৃষিতে বৈচিত্র্য এসেছে। এখন কৃষকগণ ধান, গম, ভুট্টা, আলু, শাকসবজি ও ফলমূল চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াচ্ছেন, যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। ২. জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার: জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আধুনিক কৃষি উৎপাদন পদ্ধতি চালু হয়েছে। রোগপ্রতিরোধী ও অধিক ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হচ্ছে, যা কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে। ৩. উন্নত বীজের ব্যবহার: উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী উন্নত বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা স্বল্প সময়ে অধিক উৎপাদন করতে পারছেন, যা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ৪. প্রতিকূল পরিবেশ সহিষ্ণু বীজ উদ্ভাবন: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দিলেও গবেষণার মাধ্যমে খরা, লবণাক্ততা ও বন্যা সহিষ্ণু বীজ উদ্ভাবন করা হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বড় সহায়তা। সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষি কর্মসূচিগুলো কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ও টেকসই কৃষি উন্নয়নে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যার প্রেক্ষিতে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা আলোচনা করা হলো- ১. বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন: কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সংরক্ষণাগার, হিমাগার ও আধুনিক বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হবে না। ২. উন্নত যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা: দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে কৃষিপণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতে সড়ক, নৌ ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন করা দরকার। এতে কৃষকেরা দূরবর্তী বাজারেও তাদের পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবে। ৩. ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: সরকারি ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ ও সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে কৃষকরা ফড়িয়াদের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবে। ৪. কৃষিঋণ সহজলভ্য করা: স্বল্প সুদে সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদান করলে কৃষকেরা চড়া সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হবে না, ফলে তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। ৫. কৃষি প্রযুক্তির প্রসার: উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ভর্তুকির ব্যবস্থা করা দরকার, যাতে তারা উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। সুতরাং বলা যায়, উপরে উল্লিখিত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করলে কৃষির উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশের কৃষিখাত নিয়ে আমরা যথেষ্ট আশাবাদী। বিগত কয়েক দশক যাবৎ জিডিপিতে কৃষির অবদান বাড়ছে। মোট কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ খাত শ্রমশক্তি নিয়োগের জন্য এখনো একক বৃহত্তম খাত। শস্য উৎপাদনের বহুমুখীকরণ, জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি, উন্নত বীজ ও প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ সহিষ্ণু বীজ উদ্ভাবনের ফলেই এরূপ সাফল্য এসেছে। তবে বাজার ব্যবস্থার ত্রুটি বিচ্যুতি ও যাতায়াত ব্যবস্থার দুর্বলতার ফলে এখনো কৃষকদের আর্থিক অবস্থার তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

ক.

কৃষি খামার বলতে কী বোঝ?

খ.

মাশরুম চাষ, হাস-মুরগি প্রতিপালন গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কীভাবে ভূমিকা রাখে?

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষি কর্মসূচির উপযোগিতা বিশ্লেষণ কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যার প্রেক্ষিতে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়? আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।