Facebook Pixel

বাংলাদেশের কৃষকরা সাধারণত প্রান্তিক পর্যায়ের। তাদের নিজস্ব জমি নেই বললেই চলে। রহিম উদ্দিন এ রকমই একজন কৃষক। তবে আজিজ উদ্দিন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী। তার কৃষি খামারের আয়তন অনেক বড়। তিনি পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ফসল বাজারজাত করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেন। ক. কৃষিঋণ কী? খ. 'কৃষি জাতীয় উন্নয়নে সহায়তা করে'- ব্যাখ্যা করো। গ. রহিম উদ্দিনের কৃষি খামার কোন ধরনের?- ব্যাখ্যা করো। ঘ. চাষ পদ্ধতি, মূলধনের পরিমাণ, আয় উপার্জন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি- এসব দৃষ্টিকোণ হতে রহিম উদ্দিন ও আজিজ উদ্দিনের কৃষি খামারের পার্থক্য তুলে ধরো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ বাংলাদেশের কৃষি

উৎস: Board Exam Question DB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কৃষিকাজ পরিচালনার জন্য কৃষকরা যে ঋণ গ্রহণ করে তাকে কৃষিঋণ বলা হয়। খ. বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির ভিত্তি হলো কৃষি। কৃষি জাতীয় উন্নয়নে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে। বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৫.১% লোক কৃষি কাজে নিয়োজিত। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে GDPতে এ খাতের অবদান ছিল ১৫.৩৩%। তাছাড়া, শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কৃষি হতে আসে। আবার, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করে বিভিন্ন কৃষি সামগ্রী (মাছ, মাংস, পশুর চামড়া ইত্যাদি) রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়, যা একটি দেশের জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বলা যায়, কৃষি জাতীয় উন্নয়নে সহায়তা করে। গ. রহিম উদ্দিনের কৃষি খামার হলো জীবননির্বাহী কৃষি খামার। উৎপাদনের উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে কৃষি খামার দুই প্রকার। যথা- জীবননির্বাহী খামার এবং বাণিজ্যিক খামার। যে কৃষি খামারে বা জমিতে জীবন নির্বাহের জন্য চাষাবাদ করা হয়, তাকে জীবননির্বাহী খামার বলে। সাধারণত এ ধরনের খামারে ব্যবস্থাপনা অসংগঠিত ও পরিদর্শন ব্যবস্থা অদক্ষ হয়ে থাকে। তাই উদ্বৃত্ত ফসলের পরিমাণও কম হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষক রহিম উদ্দিনের মতো প্রান্তিক কৃষক। রহিম উদ্দিনের কৃষি কাজে তেমন উদ্বৃত্ত থাকে না, কারণ তার কৃষি কাজের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জীবন ব্যয় নির্বাহ করা। রহিম উদ্দিনের নিজের কোনো জমি নেই বললেই চলে। অর্থাৎ তার খামারের আয়তন ক্ষুদ্র এবং মূলধনের পরিমাণও কম। কাজেই বলা যায়, রহিম উদ্দিনের খামার হলো জীবননির্বাহী খামার। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রহিম উদ্দিনের খামারটি জীবন নির্বাহী খামার এবং আজিজ উদ্দিনের খামারটি বাণিজ্যিক খামার। নিম্নে চাষ পদ্ধতি, মূলধনের পরিমাণ, আয় উপার্জন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির দৃষ্টিকোণ থেকে উক্ত খামার দ্বয়ের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা হলো- ১. চাষ পদ্ধতি: জীবননির্বাহী খামারে সনাতন পদ্ধতিতে এবং বাণিজ্যিক খামারে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়। ২. মূলধনের পরিমাণ: রহিম উদ্দিন প্রান্তিক কৃষক হওয়ায় তার চাষাবাদে কম মূলধন ব্যবহার করেন। অন্যদিকে, আজিজ উদ্দিন তুলনামূলক বেশি মূলধন ব্যবহার করে থাকেন। ৩. আয় উপার্জন: জীবননির্বাহী খামার ক্ষুদ্রায়তন হওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা কম। যার ফলশ্রুতিতে আয়ও অনেক কম। পক্ষান্তরে, বাণিজ্যিক খামারের মূল উদ্দেশ্যই হলো মুনাফা অর্জন। অর্থাৎ, এ ধরনের খামারে আয় বেশি। ৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: জীবননির্বাহী খামারে মূলত পরিবারের সদস্যরাই কাজ করে থাকে। অর্থাৎ নতুন কোনো লোকের কর্মসংস্থান হয় না। কিন্তু, বাণিজ্যিক খামারে আয়তন বড় হওয়ায় এখানে বহু লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)

বাংলাদেশের কৃষকরা সাধারণত প্রান্তিক পর্যায়ের। তাদের নিজস্ব জমি নেই বললেই চলে। রহিম উদ্দিন এ রকমই একজন কৃষক। তবে আজিজ উদ্দিন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী। তার কৃষি খামারের আয়তন অনেক বড়। তিনি পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ফসল বাজারজাত করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেন।

ক.

কৃষিঋণ কী?

খ.

'কৃষি জাতীয় উন্নয়নে সহায়তা করে'- ব্যাখ্যা করো।

গ.

রহিম উদ্দিনের কৃষি খামার কোন ধরনের?- ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

চাষ পদ্ধতি, মূলধনের পরিমাণ, আয় উপার্জন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি- এসব দৃষ্টিকোণ হতে রহিম উদ্দিন ও আজিজ উদ্দিনের কৃষি খামারের পার্থক্য তুলে ধরো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।