ক.
দেশের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে যৌথভাবে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নে গৃহীত দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও লক্ষ্যভিত্তিক কার্যসম্পর্ক গড়ে তোলাকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (Public Private Partnership-PPP) বলা হয়।
খ.
“পৃথিবীর ৬০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি রপ্তানি হয়।” বর্তমানে মৎস্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ যে পরিমাণ অর্থ আয় করে তার শতকরা ৮৬% আসে চিংড়ি রপ্তানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে চিংড়ি রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। তাই চিংড়িকে সাদা সোনা বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত কোম্পানিগুলোর শিল্প কৌশল হলো আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন কৌশল।
বিদেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করা হয় সেসব পণ্য নিজের দেশে উৎপাদন করতে শিল্পকারখানা স্থাপন করাকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলে। সাধারণত বিদেশ থেকে আমদানিকৃত দ্রব্যের পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরে সমজাতীয় দ্রব্য উৎপাদন করার নীতিকে আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন কৌশল বলে। অন্যভাবে বলা যায়, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য বিদেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করা হয় সেসব পণ্য আমদানি না করে নিজ দেশেই উৎপাদনের ব্যবস্থা করাকে আমদানি বিকল্প শিল্পয়ন কৌশল বলা হয়। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ইত্যাদি বিষয়ে সহায়তা করে এ ধরনের শিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। যেসব দ্রব্য আমদানি করা হয় সেসব দ্রব্য আমদানি না করে দেশীয় প্রযুক্তি ও কলাকৌশল ব্যবহার করে দেশেই উৎপাদন করা যায়, পণ্যের আমদানি হ্রাস পায় এবং দেশীয় শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটে। এভাবেই আমদানি বিকল্প শিল্প একটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, বাংলাদেশের ওয়াল্টন, ভিশন, মাইওয়ান, মিনিস্টার প্রভৃতি কোম্পানি বর্তমানে দেশেই ভালোমানের টিভি, ফ্রিজ, এয়ারকুলার ইত্যাদি পণ্য উৎপাদন করছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আমদানি না করে দেশেই উৎপাদন করছে এসব কোম্পানি। এতে পূর্বের তুলনায় আমদানি ব্যয় অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। তাই এরূপ শিল্পকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলা যায়।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি একটি আমদানি বিকল্প শিল্প। স্বনির্ভরতা অর্জনে আমদানি বিকল্প কৌশলকে আমি যথার্থ মনে করি। আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন কৌশল অবলম্বন করা হলে নির্ভরশীলতা অনেকাংশে হ্রাস পায়। দেশে ভোগ্যপণ্য ও মূলধন দ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো ধীরে ধীরে শিল্পে সমৃদ্ধি লাভকরে এবং স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হয়। বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি বলে লেনদেন ভারসাম্যে প্রায়ই ঘাটতি দেখা দেয়। তাই শিল্পায়ন কৌশল গ্রহণ করা হলে দেশেই আমদানিকৃত দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এ ব্যবস্থায় দেশীয় শিল্পের সম্প্রসারণ হবে এবং লেনদেন ভারসাম্যের ঘাটতি দূরীভূত হবে। বিদেশি শিল্পের প্রতিযোগিতার হাত থেকে দেশীয় নবীন শিল্পসমূহকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিদেশি পণ্য আমদানি বন্ধ বা নিরুৎসাহিত করা প্রয়োজন। এর ফলে দেশীয় শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণতায় ফিরে আসবে এবং দেশীয় শিল্পের উৎপাদিত পণ্য দেশের নাগরিকদের ব্যবহারের উপযোগী হবে। বাংলাদেশ বেকার সমস্যায় জর্জরিত একটি দেশ। দেশে আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন কৌশল অবলম্বন করে নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হলে বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন কৌশল গ্রহণ করা হলে দেশের অভ্যন্তরে নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কৃষি ও শিল্প উভয় খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।
উদ্দীপকে কিছু কোম্পানির কথা বলা হয়েছে, তারা যে সমস্ত পণ্য উৎপাদন করে সেগুলো পূর্বে বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো দেশে উৎপাদিত হচ্ছে যা আমদানি বিকল্প শিল্পকে নির্দেশ করে। আর এই বিশেষ কৌশল অবলম্বনের ফলে বাংলাদেশ স্বনির্ভরতা অর্জন করছে।