ক.
যেসব সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে আমরা জীবনযাপন করি তার সুসংগঠিত রূপই সমাজ।
খ.
উপসংস্কৃতি বলতে গ্রামীণ ও শহরের সংস্কৃতির মাঝখানে আরও একটি সংস্কৃতি রয়েছে সে সংস্কৃতিকে উপসংস্কৃতি বোঝায়।
উপসংস্কৃতি প্রাধান্য বিস্তারকারী সংস্কৃতি থেকে ভিন্নতর এক ধরনের সংস্কৃতি। উপসংস্কৃতি হচ্ছে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ব্যবস্থায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি ক্ষুদ্রতর সংস্কৃতি। এটি মূল সংস্কৃতি থেকে ভিন্ন। বাংলাদেশের উপসংস্কৃতির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো হিজড়া সংস্কৃতি এবং উপজাতীয় সংস্কৃতি। ডি. জেরি এবং জে. জেরি বলেন, "উপসংস্কৃতি হচ্ছে যেকোনো বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং আদর্শের ব্যবস্থা, যেগুলোতে কোনো বিশেষ সংস্কৃতির মধ্যস্থিত সংখ্যালঘিষ্ঠ জনগণ কর্তৃক স্বয়ংক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা হয়।”
উপসংস্কৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে উপসংস্কৃতিভুক্ত সদস্যগণ নিজেদের মধ্যে সচরাচর একই ধরনের বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও আদর্শ মেনে চলে, যা বৃহত্তর জনগোষ্ঠী হতে পৃথক।
গ.
. উদ্দীপকে 'সংস্কৃতি' নাম প্রত্যয়ের ধারণা পাওয়া যায়। সংস্কৃতি হলো জীবন ধারণের পদ্ধতি।
মানুষ প্রধানত তার সামাজিক ঐতিহ্য বা সংস্কৃতি দ্বারা পরিচালিত। তাই বাংলাদেশের মানুষের সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই জানা দরকার এদেশের মানুষের জীবন ধারণের পদ্ধতি। আর জীবন ধারণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে হলে জনগোষ্ঠীর ঘর-বাড়ির ধরন, পোশাক-পরিচ্ছদের বিবরণ, খাদ্যাভ্যাস, অর্থব্যবস্থা থেকে শুরু করে তাদের ভাষা, ধর্ম, রাজনীতি, বিশ্বাস, উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানতে হবে। উদ্দীপকে সংস্কৃতির বস্তুগত একটি উপাদান তথা কম্পিউটারের কথা বলা হয়েছে। বস্তুগত সংস্কৃতির অনেক উপাদান আমাদের সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে জড়িত। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। তাই বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি ব্যাখ্যা করতে হলে মূলত গ্রামীণ মানুষের জীবন ধারণের। পদ্ধতি আলোচনা করা দরকার। তবে যেহেতু বর্তমানে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের প্রভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রাম থেকে শহরমুখী হচ্ছে সেহেতু বাংলাদেশের সংস্কৃতির ধরন সম্পর্কে জানতে হলে নগর। জীবনের জীবনধারাও আলোচনা করা প্রয়োজন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সংস্কৃতিনামক প্রত্যয়টির ইঙ্গিতই দেওয়া হয়েছে।
ঘ.
না, বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ব্যবধান শুধু কর্মক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হর না।
আরও নানা ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখা যায়। সাংস্কৃতিক ব্যবধানের মূল কথা হচ্ছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যাপক উন্নতির ফলে বস্তুগত সংস্কৃতি দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে যার সঙ্গে অবস্তুগত সংস্কৃতি খাপ খাইয়ে বা তাল মিলিয়ে ওই একই গতিতে এগিয়ে চলতে পারছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে সাংস্কৃতিক পশ্চাৎপদতা বা পিছিয়ে পড়া উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মক্ষেত্রে আমরা সাংস্কৃতিক ব্যবধানের এ চিত্রটিই দেখতে পাই। কর্মক্ষেত্র ছাড়াও কৃষি, শিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি, ভাষা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, নগরায়ণ, শিল্পায়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত জ্ঞান 'তথা অবস্তুগত সংস্কৃতির অভাবের কারণে দেশের সাধারণ কৃষক এ সকল উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে পড়ছে। ফলে সাংস্কৃতিক ব্যবধানের সৃষ্টি হচ্ছে এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নতি ব্যাহত হচ্ছে। আবার পৃথিবীতে সেই জাতি বা গোষ্ঠীই উন্নত যারা শিক্ষা-দীক্ষায় বেশি অগ্রসর। উন্নত বিশ্ব আজ প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে ওইসব দেশে উন্নত উপকরণের কারণে শিক্ষা পদ্ধতি অনেকটা সহজ হয়েছে। পক্ষান্তরে, আমাদের দেশে উন্নত উপকরণ কিছু থাকলেও তা ব্যবহার করার উপযোগী জ্ঞান বা জনবল নেই। ফলে উন্নত শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষা দান করতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। এ কারণে এক ধরনের সাংস্কৃতিক ব্যবধানের সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আজ সাংস্কৃতিক ব্যবধান লক্ষ করা যায়। পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে আন-বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে নানা ধরনের বস্তুগত আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে।
আর একটি সুস্থ, সাবলীল ও গতিশীল সমাজের বৈশিষ্ট্য হলো সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন অংশ এবং উপাদানের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা। সেটা রক্ষিত না হলেই সৃষ্টি হয় সাংস্কৃতিক ব্যবধান, যা দেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক এমনকি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের গতিকে ব্যাহত করে।