ক.
সতীদাহ প্রথা আইন ১৮২৯ সালে প্রণীত হয়।
খ.
সমাজের কল্যাণ নিশ্চিতকরণে সমাজকর্ম আইনের মাধ্যমে সহায়তা পাওয়ায় তারা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। সমাজের কল্যাণ সাধনে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিভিন্ন সামাজিক আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর সামাজিক আইনকে সমাজকর্ম তার লক্ষ্যার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। কেননা আইন প্রবর্তিত হলে সমাজের কল্যাণে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ কারণেই সমাজকর্ম ও আইন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
গ.
উদ্দীপকের আইনটি সমাজের কল্যাণের স্বার্থে প্রবর্তিত হওয়ায় তা। সমাজকর্মের সাথে সম্পর্কিত। আধুনিক সমাজকর্ম পেশার লক্ষ্য হচ্ছে সমাজ থেকে অপ্রত্যাশিত ও অবাঞ্ছিত অবস্থার নিরসন ঘটিয়ে প্রত্যাশিত পরিবর্তন সাধন করা।
আর এরূপ পরিবর্তন আইনের সমর্থন ছাড়া অসম্ভব। কেননা আইনের মাধ্যমেই সামাজিক নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয় যা সামাজিক কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য আবশ্যক। আবার আধুনিক সমাজকর্মের অপরিহার্য অঙ্গ হলো সামাজিক নিরাপত্তা যার আইনগত কাঠামো প্রণয়নেও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত হয় যা সমাজকর্মের উদ্দেশ্যকে পূরণ করে। উদ্দীপকের ১৯৮৩ সালে প্রবর্তিত আইনটি একটি সামাজিক আইন। এ আইনের আওতায় নারী নির্যাতনের সাথে জড়িত ব্যক্তির জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে উক্ত আইনটি নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নেও ভূমিকা রাখবে। নারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করায় মাধ্যমে উক্ত আইনটি সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনও আনবে। সুতরাং নারীদের প্রতি যেকোনো নির্যাতন বন্ধ করতে সহায়তা করার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলেই উদ্দীপকের আইনটি সমাজকর্মের সাথে সম্পর্কিত।
ঘ.
সমাজকর্মের পেশাগত লক্ষ্য তথা সমাজের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ সাধনের আইন প্রধান কৌশল হিসেবে ভূমিকা রাখে। সমাজকর্মের লক্ষ্য হলো সমাজের মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধন করা।
আর সমাজকর্মকে এ লক্ষ্যার্জনে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেয় আইন। আইন সামাজিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সমাজে শৃঙ্খলা আনে। এতে সমাজব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আসে, সাম্যের | পরিবেশ স্থাপিত হয়। আর আইনের মাধ্যমে এসব বিষয় নিশ্চিত 1 করা প্রকারান্তরে সমাজকর্মের লক্ষ্যকেই পূরণ করছে। উদ্দীপকের আইনটির আওতায় নারী নির্যাতনের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা চৌদ্দ বছরের সশ্রম কারাদাণ্ড, জরিমানা অযোগ্য শাস্তি এবং মৃত্যুদণ্ডও প্রদান করার বিধান রয়েছে। ফলে সমাজে নারী ! নির্যাতনকারীরা শাস্তির ভয়ে এ অপরাধমূলক কার্যক্রম সংঘটন থেকে ! সংযত হবে। এতে করে সমাজে নারী নির্যাতনের হার হ্রাস পাবে এবং সমাজের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনয়ন করা সম্ভব হবে। এর ফলশ্রুতিতে সমাজের কল্যাণও নিশ্চিত হবে যা সমাজকর্মের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক। আবার, সমাজকর্মী জনগণকে সচেতন করাসহ যে 1 সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তার চূড়ান্ত সফলতা নির্ভর করে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উপর। অতএব দেখা যায়, উদ্দীপকের আইনটি সমাজের কল্যাণে কাজ করছে এবং সমাজকর্মও আইনের সহায়তায় লক্ষ্য পূরণে সফলকাম হচ্ছে।
এ কারণেই আইনকে সমাজকর্ম পেশার লক্ষ্যার্জনের হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করা সমীচীন এবং প্রশ্নের মন্তব্যটি যথার্থ।