ক.
The Wealth of Nations' গ্রন্থটি অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের লেখা।
খ.
সয়াজকর্মে যেকোনো পরিকল্পনা সফল করতে অর্থনীতির জ্ঞান প্রয়োজন হয় অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে। সমাজকর্মে যেকোনো পরিকল্পনার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য অর্থকে সঠিকভাবে ব্যয় করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় অর্থের পরিকল্পনামাফিক ব্যবহারের অভাবে সমাজকর্মের যেকোনো পরিকল্পনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। আর এ বিষয়টি নিশ্চিতকরণে অর্থনীতির জ্ঞান সহায়তা করে বলে সমাজকর্মে যেকোনো পরিকল্পনা সফল করতে অর্থনীতির জ্ঞান প্রয়োজন হয়।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্র্যাকের কার্যকলাপ সফল করতে অর্থনীতির জ্ঞান সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার মাধ্যমে সহায়ক। সমাজের কল্যাণে যেভাবে সমাজকর্ম ভূমিকা রাখে সেভাবে অর্থনীতির জ্ঞানও সহায়তা করে। কল্যাণ রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো সামাজিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করা। আর অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন ব্যতীত তা করা অসম্ভব। এ কারণেই অর্থনীতির জ্ঞান অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদনের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ নিশ্চিতকরণে সহায়তা করে থাকে। উদ্দীপকের ব্র্যাকের কার্যকলাপ সফল করতেও অর্থনীতির জ্ঞান এ প্রেক্ষিতেই সহায়তা করতে পারে। উক্ত আলোচনায় বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচির ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।' প্রাথমিকভাবে তারা মানিকগঞ্জ জেলায় ১৯৮৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ২২টি স্কুল চালুর মাধ্যমে কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করে। বর্তমানে যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ হাজারে সেখানে প্রায় ৩০ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী ও মানুষ সেবা নিচ্ছে। ব্র্যাকের এ মহতী কার্যক্রম পরিচালনা অর্থ ছাড়া অসম্ভব ছিল। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কার্যাবলির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে তা পরিকল্পনামাফিকভাবে সমাজকল্যাণে ব্যয় করা হয়েছে। আর এ সমগ্র প্রক্রিয়ায় অর্থনীতির জ্ঞান প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে বলেই ব্র্যাকের কর্মসূচি সফল হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, এভাবেই ব্র্যাকের কল্যাণমূলক কার্যকলাপ সফল করতে অর্থনীতির জ্ঞান সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।
ঘ.
উদ্দীপকে আলোচিত ব্র্যাকের নিরক্ষরতা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মসূচি অর্থনৈতিক জ্ঞানের প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ নিশ্চিত করায় এটি সমাজকর্ম এবং অর্থনীতির জ্ঞানের সংমিশ্রিত রূপের প্রকাশ। ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচি সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজে যেমন অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী হয়, তেমনি দেশ বা জাতির মানবসম্পদ সমৃদ্ধ হয়। তাই সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্র্যাকের কর্মসূচিতে অর্থনীতি ও সমাজকর্ম সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যেকোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের অপরিহার্য দুটি খাত হলো অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক উন্নয়ন। অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্বারা দেশের প্রাপ্ত সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় আয়, মাথাপিছু আয় ও উৎপাদন ক্ষমতা দীর্ঘ সময়ের জন্য বৃদ্ধি করা হয়। অন্যদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রভাবে সমাজ কাঠামোতে যে পরিবর্তন সূচনা হয়, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্পদের সুষম বণ্টন, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার পরিবর্তন হলো সামাজিক উন্নয়ন। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন একটি অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। যেমন- অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে যদি জাতীয় আয় ও মাথাপিছু আয় বাড়াতে হয়, তবে সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাস এবং শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দ্বারা মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন করতে হয়। এজন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অর্থবহ করে তোলার জন্য সামাজিক উন্নয়ন অপরিহার্য। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অর্থনীতি ও সমাজকর্ম সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং বলা যায়, ব্র্যাকের উল্লিখিত কর্মসূচি মূলত সমাজকর্ম ও অর্থনীতির সম্মিলিত প্রকাশ। তাই এর সফলতা এই দুই বিষয়ের জ্ঞানের সংমিশ্রিত রূপকে প্রকাশ ঘটাবে।