(ক)
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ নিশ্চিত করা।
(খ)
রাষ্ট্রের মাধ্যমে গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায় হলো রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়। এই ধরনের ব্যবসায় রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ খাত যেমন মুদ্রা ও ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ, দেশরক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট শিল্প পরিচালনা এবং জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও সেবার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।
(গ)
উদ্দীপক অনুযায়ী, "বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড" একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠন।
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় হলো এমন এক ধরনের ব্যবসায়িক সংগঠন যা রাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা। সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং জনকল্যাণে রাষ্ট্র এই ধরনের প্রতিষ্ঠান গঠন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে উপনীত করার লক্ষ্যে সরকার সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার "বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড"-কে সংস্কার ও আধুনিকায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যুৎ একটি মৌলিক ও অপরিহার্য সেবা, যা রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে ন্যায্যমূল্যে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানের গঠন, পরিচালনা এবং লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ। তাই বলা যায়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠন।
(ঘ)
"পিপিপি (PPP) দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করবে"- উদ্দীপকের আলোকে এই বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
পিপিপি বা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (Public Private Partnership) হলো সরকারি ও বেসরকারি খাতের একটি যৌথ অংশীদারিত্ব। এখানে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক বিনিয়োগ, কারিগরি দক্ষতা, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সহায়তা নেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মুনাফা লাভ করে এবং জনকল্যাণে কাজ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০৪১ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিদ্যুৎ খাতের আধুনিকায়ন প্রয়োজন। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার পাওয়ার স্টেশন স্থাপন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের মতো বড় প্রকল্পগুলো সম্পাদনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এটি একটি আদর্শ পিপিপি মডেল, যেখানে সরকার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করছে।
পিপিপি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি যেভাবে শক্তিশালী হয় তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বিনিয়োগ বৃদ্ধি: বেসরকারি খাতের অর্থায়নের ফলে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমে এবং দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
২. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতার কারণে দ্রুত এবং মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ সম্ভব হয়।
৩. ঝুঁকি হ্রাস: সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার ফলে বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা সহজ হয়।
৪. দক্ষতা বৃদ্ধি: বেসরকারি খাতের পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পদ্ধতি সরকারি সেবার মান উন্নত করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি মডেল প্রয়োগ করার ফলে দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। সুতরাং, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য পিপিপি একটি কার্যকর সিদ্ধান্ত।