(ক)
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ নিশ্চিত করা।
(খ)
রাষ্ট্রের সক্ষমতা বলতে রাষ্ট্রের এমন সকল অবস্থা, ক্ষমতা বা সামর্থ্যকে বোঝায় যার মাধ্যমে রাষ্ট্র তার জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণসাধন করতে সমর্থ হয়।
রাষ্ট্রের সক্ষমতা মূলত দেশের প্রতিরক্ষা সামর্থ্য এবং আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিছু বিশেষ খাতের শিল্প বা প্রতিষ্ঠান যদি বেসরকারি মালিকানায় থাকে, তবে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে অথবা আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন, প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের অধীনে থাকলে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের মাধ্যমে পরিচালনা করে রাষ্ট্র তার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
(গ)
উদ্দীপক অনুযায়ী 'বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড' একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠন।
রাষ্ট্রীয় মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে। এই ধরনের ব্যবসায় সংগঠনের সম্পূর্ণ মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে থাকে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের ৫১% বা তার বেশি শেয়ার সরকারের মালিকানায় থাকলেও তাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় হিসেবে গণ্য করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত করার লক্ষ্যে এবং সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার "বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড"-কে সংস্কার ও আধুনিকায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এবং এর লক্ষ্য জনকল্যাণ (বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করা), তাই বলা যায় যে উদ্দীপকের 'বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড' একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠন।
(ঘ)
পিপিপি (PPP) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ব্যবসায় দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করবে, উক্তিটির সাথে আমি একমত।
সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অর্থায়ন বা অংশীদারিত্বে পরিচালিত ব্যবসায় কার্যক্রমকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি (Public-Private Partnership) বলে। এখানে জনসেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে মূলধন বিনিয়োগ করে এবং যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পাওয়ার স্টেশন স্থাপন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পাদনের জন্য বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী উভয় পক্ষই মুনাফা লাভ করবে।
পিপিপি মডেলের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার কারণগুলো নিম্নরূপ:
১. মূলধনের জোগান: বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। পিপিপির মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আসায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমে এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
২. দক্ষতা ও আধুনিকায়ন: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নত প্রযুক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা সরকারি প্রকল্পের গুণগত মান বৃদ্ধি করে।
৩. দ্রুত সেবা প্রদান: সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পেয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত হয়, যা অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ায়।
উদ্দীপকের পাওয়ার স্টেশন ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণের উদ্যোগটি একটি বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এর ফলে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সুতরাং, উদ্দীপকের আলোকে বলা যায় যে, পিপিপি মডেল দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।