(ক)
BRTC এর পূর্ণরূপ হলো বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (Bangladesh Road Transport Corporation)। এটি বাংলাদেশের সড়ক পথে সাশ্রয়ী মূল্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে নিয়োজিত একটি সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান।
(খ)
বিসিক (BSCIC) বলতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনকে বোঝায়। এটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, যার মূল লক্ষ্য হলো দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করা।
বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নের দায়িত্ব বিসিকের ওপর ন্যস্ত। বিসিকের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় শিল্প সহায়ক কেন্দ্র, শিল্প নগরী, মৌমাছি পালন কেন্দ্র, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও নকশা কেন্দ্রের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এককথায়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিসিকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
(গ)
উদ্দীপক অনুযায়ী ‘বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড’ একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠন।
রাষ্ট্রীয় মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে। এই ধরনের ব্যবসায় সংগঠনের সম্পূর্ণ মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে থাকে এবং রাষ্ট্রই এর পরিচালক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত যে কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ৫১% বা তার বেশি শেয়ার সরকারের মালিকানায় থাকলে তাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় এবং এই লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার “বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড”কে সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়। যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে এবং জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে কাজ করছে, তাই বলা যায় যে উদ্দীপকের ‘বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড’ একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠন।
(ঘ)
পিপিপি (PPP) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ব্যবসায় দেশের অর্থনৈতিক ভিতকে শক্তিশালী করবে, উক্তিটির সাথে আমি একমত।
সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অর্থায়নে বা সামর্থ্যের সহযোগে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় কার্যক্রমকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি (Public-Private Partnership) বলে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা, যেখানে জনগণকে উন্নত সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে বেসরকারি খাত সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে মূলধন বিনিয়োগ করে এবং যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশ সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পাওয়ার স্টেশন স্থাপন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের মতো বড় ধরনের কাজ সম্পাদনের জন্য বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী এখানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষই মুনাফা লাভ করবে।
পিপিপি মডেলের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত শক্তিশালী হওয়ার কারণগুলো নিম্নরূপ:
১. মূলধনের যোগান: বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ মূলধন সরকারের একার পক্ষে জোগাড় করা কঠিন হয়। পিপিপির মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ যুক্ত হয়, যা প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে।
২. দক্ষতা ও আধুনিকায়ন: বেসরকারি খাতের উন্নত প্রযুক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা সরকারি প্রকল্পের গুণগত মান বৃদ্ধি করে।
৩. ঝুঁকি হ্রাস: প্রকল্পের আর্থিক ও পরিচালন ঝুঁকি সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়, ফলে সরকারের ওপর চাপ কমে।
৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: নতুন নতুন পাওয়ার স্টেশন ও অবকাঠামো নির্মাণের ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে সহায়ক হবে। তাই পিপিপি দেশের অর্থনৈতিক ভিতকে শক্তিশালী করবে, এই মতামতের সাথে আমি একমত।