(ক)
ISP-এর পূর্ণরূপ হলো ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (Internet Service Provider)।
(খ)
জবাবদিহিতা বলতে এমন একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে বোঝায় যেখানে সরকারি কর্মকর্তা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের প্রতিটি কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। এটি সুশাসনের একটি অপরিহার্য উপাদান যা কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করে। ডিজিটাল রেকর্ড এবং অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে কে, কখন, কী কাজ করেছেন তা সহজেই যাচাই করা যায়। এর ফলে কোনো অনিয়ম বা ভুল হলে দায়ী ব্যক্তিকে দ্রুত চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হয়।
(গ)
উদ্দীপকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যে ব্যবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে, তাকে ই-গভর্ন্যান্স (e-Governance) বলা হয়। ই-গভর্ন্যান্স হলো ইলেকট্রনিক মাধ্যম বা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা এবং নাগরিক পরিষেবা প্রদান করার একটি আধুনিক পদ্ধতি।
ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সরকার জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সহজভাবে সেবা পৌঁছে দিতে পারে। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ঘরে বসে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের খবর জানা' এবং 'জরুরি কাজ খুব সহজেই সমাধান করা'র বিষয়টি ই-গভর্ন্যান্সের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
বিশেষ করে এটি সরকার থেকে নাগরিক (G2C) মডেলকে নির্দেশ করে, যার মাধ্যমে নাগরিকগণ যাতায়াত খরচ ও সময় বাঁচিয়ে যেকোনো স্থান থেকে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারেন। প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলেই নাগরিকরা এখন উন্নত বিশ্বের মতো ডিজিটাল সুবিধা ভোগ করতে সক্ষম হচ্ছে।
(ঘ)
হ্যাঁ, উদ্দীপকে আলোচিত ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থাটি একটি কার্যকর ও টেকসই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরাসরি অবদান রাখতে সক্ষম।
সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়। ই-গভর্ন্যান্স নিম্নোক্ত উপায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে:
১. স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: সরকারি তথ্য ও নীতিমালা অনলাইনে উন্মুক্ত করার মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং দুর্নীতির সুযোগ হ্রাস পায়।
২. জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও রেকর্ডিং ব্যবস্থার কারণে প্রতিটি স্তরে কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা তৈরি হয়, যা সুশাসনের মৌলিক ভিত্তি।
৩. দক্ষতা ও কার্যকারিতা: এটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরা কমিয়ে সরাসরি নাগরিকের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়। উদ্দীপকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে নাগরিকরা দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন, যা প্রশাসনের দক্ষতা ও কার্যকারিতার বহিঃপ্রকাশ।
৪. সেবার সমতা: ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে সেবার সমতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ই-গভর্ন্যান্স কেবল প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, বরং এটি সরকারকে আরও বেশি জনবান্ধব এবং দায়িত্বশীল করে তোলে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতার সমন্বয়ে এটি একটি শক্তিশালী ও আধুনিক সুশাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সক্ষম।