Facebook Pixel

বর্তমান বিশ্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়। টেকনোলজির সাহায্য নিয়েই আসল অপরাধীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য যাতে সহজে যে কোনো ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় টেকনোলজির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ক. বায়োইনফরমেটিকস কী? খ. রোবটের বৈশিষ্ট্যগুলো লিখ । গ. টেকনোলজির সাহায্য নিয়ে কিভাবে সামাজিক অপরাধ হ্রাস করা যায় আলোচনা কর। ঘ. একজন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে চিহ্নিত করার জন্য কি ধরনের টেকনোলজি নির্ভর প্রক্রিয়া ব্যবহার করা যায় বর্ণনা কর।

বিষয়: ICT | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিঃ বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

উৎস: Test Exam Question KGCK 2020

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) জীববিজ্ঞানের তথ্যের ব্যবস্থাপনা এবং বিশ্লেষণের জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারকে বায়োইনফরমেটিকস বলা হয়। (খ) রোবট হলো একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র যা মানুষের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে পারে। রোবটের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো: ১. প্রোগ্রামযোগ্যতা: নির্দিষ্ট নির্দেশাবলি বা প্রোগ্রামের মাধ্যমে একে পরিচালনা করা যায়। ২. সেন্সর ব্যবহার: পরিবেশ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য এতে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর থাকে। ৩. স্বয়ংক্রিয়তা: অনেক ক্ষেত্রে এটি মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। ৪. নির্ভুলতা ও গতি: রোবট অত্যন্ত দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে একই কাজ বারবার করতে পারে। ৫. শারীরিক গঠন: এর গঠন এমন হয় যা তাকে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশেও চলাফেরা বা কাজ করতে সাহায্য করে। (গ) উদ্দীপকে অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক অপরাধ হ্রাস করার উপায়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ১. সিসিটিভি (CCTV) নজরদারি: শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, জনবহুল স্থানে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করলে অপরাধীরা অপরাধ করতে ভয় পায়। পাশাপাশি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ২. বায়োমেট্রিক সিস্টেম: আঙুলের ছাপ (Fingerprint), চোখের আইরিস (Iris) বা ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করা যায়, যা ভুয়ো পরিচয় দিয়ে পালানো কঠিন করে তোলে। ৩. ডিজিটাল ফরেনসিক: অপরাধীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা হার্ডড্রাইভ থেকে মুছে ফেলা তথ্য উদ্ধার করে অপরাধের অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করা যায়। ৪. জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং: অপরাধীর অবস্থান শনাক্ত করতে এবং চুরি হওয়া মূল্যবান সামগ্রী খুঁজে পেতে জিপিএস ট্র্যাকিং অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ৫. সাইবার নজরদারি: ইন্টারনেটে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, নিষিদ্ধ যোগাযোগ বা ষড়যন্ত্র শনাক্ত করতে বিভিন্ন উন্নত সফটওয়্যার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করা হয়। পরিশেষে বলা যায়, প্রযুক্তির এই সঠিক প্রয়োগ অপরাধের হার কমাতে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়। (ঘ) একজন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করার জন্য বর্তমানে 'বায়োমেট্রিক' (Biometric) প্রযুক্তি নির্ভর প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। বায়োমেট্রিকস হলো এমন একটি প্রযুক্তি যা মানুষের শারীরিক বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করে। শারীরিকভাবে চিহ্নিত করার জন্য ব্যবহৃত প্রধান প্রক্রিয়াগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো: ১. আঙুলের ছাপ (Fingerprint Recognition): মানুষের আঙুলের ডগার রেখাগুলোর বিন্যাস প্রত্যেকের জন্য আলাদা এবং অনন্য। এই প্যাটার্ন স্ক্যান করে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়, যা বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। ২. আইরিস রিকগনিশন (Iris Recognition): চোখের রঙিন অংশের (আইরিস) জটিল এবং অনন্য প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে এই পদ্ধতিতে শনাক্তকরণ করা হয়, যা অত্যন্ত নির্ভুল এবং জাল করা প্রায় অসম্ভব। ৩. ফেস রিকগনিশন (Face Recognition): চেহারার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যেমন চোখের দূরত্ব, নাকের আকৃতি এবং ঠোঁটের গঠন বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। এটি বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ৪. ডিএনএ প্রোফাইলিং (DNA Profiling): মানুষের কোষের ডিএনএ বিন্যাস অনন্য। অপরাধ তদন্ত বা পিতৃত্ব পরীক্ষার ক্ষেত্রে ডিএনএ বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিকে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়। ৫. হাতের জ্যামিতি (Hand Geometry): হাতের দৈর্ঘ্য, আঙুলের প্রস্থ এবং হাতের তালুর আকৃতি পরিমাপ করে এই পদ্ধতিতে শনাক্ত করা হয়। ৬. রেটিনা স্ক্যান (Retina Scan): চোখের পেছনের রক্তনালীর বিন্যাস বিশ্লেষণ করে এই শনাক্তকরণ করা হয়, যা অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। উপসংহারে বলা যায়, এই প্রযুক্তিগুলো অত্যন্ত নিরাপদ এবং জালিয়াতি রোধে কার্যকর, যার ফলে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Kurigram Government College, Kurigram (2020)

বর্তমান বিশ্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়। টেকনোলজির সাহায্য নিয়েই আসল অপরাধীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য যাতে সহজে যে কোনো ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় টেকনোলজির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ক. বায়োইনফরমেটিকস কী?

খ. রোবটের বৈশিষ্ট্যগুলো লিখ ।

গ. টেকনোলজির সাহায্য নিয়ে কিভাবে সামাজিক অপরাধ হ্রাস করা যায় আলোচনা কর।

ঘ. একজন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে চিহ্নিত করার জন্য কি ধরনের টেকনোলজি নির্ভর প্রক্রিয়া ব্যবহার করা যায় বর্ণনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

CPU ও বিভিন্ন ইনপুট-আউটপুট যন্ত্রের সংযোগ পদ্ধতিকে কী বলা হয়?

EFT এর পূর্ণরূপ কী?

ICT Education Foundation নামের প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজস্ব ওয়েব সাইটে একটি ব্লগ চালু করেছেন। ইদানিং সন্ধ্যার পর Websiteটি...

JGCC কোডিং এবং রোবোটিক্স ক্লাব (CRC) ক্যাডেটদের জন্য একটি কম্পিউটার-ভিত্তিক সহায়তা সিস্টেম তৈরি করেছে। এই সিস্টেম ক্যাডে...

"S" সাহেব একজন বড় ব্যবসায়ী। তার অফিসের কর্মচারীদেরকে একটি সুইচে হাতের ছাপ দিয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয় এবং কারখানায...

"S" সাহেব একজন বড় ব্যবসায়ী। তার অফিসের কর্মচারীদেরকে একটি সুইচে হাতের ছাপ দিয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয় এবং কারখানায...

scanf( ); এর জন্য কোন হেডার ফাইল সংযুক্ত করতে হয়?

Smart NID কার্ড নেওয়ার সময় ব্যবহৃত প্রযুক্তিতে রফিকের পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের স্ক্যানিং করা হয়েছে। রফিক বললো, শিক্ষ...

SSC পাস করার পর তিন বন্ধু A, B এবং C একটি কলেজে ভর্তি হলো। তারা আইসিটি ক্লাসে বিশ্বগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারল, যার শিক্ষা...

UAV-এর পূর্ণরূপ-

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।