(ক)
PPP-এর পূর্ণরূপ হলো Public Private Partnership।
(খ)
আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন হলো এমন একটি অর্থনৈতিক কৌশল যেখানে আমদানিকৃত পণ্যের পরিবর্তে দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে দেশে পণ্য উৎপাদন করা হয়। এটি প্রয়োজন কারণ:
১. এর মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়।
২. দেশীয় কাঁচামালের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা ঘটে।
৩. দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা বেকারত্ব দূর করতে সহায়ক।
৪. বিশ্ব বাজারের সাথে দেশীয় বাজারের সমন্বয় ঘটে এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পায়।
(গ)
উদ্দীপকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ অর্জনকারী শিল্প হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই শিল্পটির গুরুত্ব অপরিসীম, যা নিম্নরূপ:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: তৈরি পোশাক শিল্প থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি: এ শিল্পটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত। এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের, বিশেষ করে গ্রামীণ নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দারিদ্র্য বিমোচনে সরাসরি অবদান রাখে।
৩. নারীর ক্ষমতায়ন: তৈরি পোশাক শিল্পে নারীর ব্যাপক অংশগ্রহণ তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছে, যা সামাজিকভাবে নারী ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
৪. শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন: এই শিল্পের বিকাশের ফলে সহায়ক শিল্প এবং পরিবহন, বিদ্যুৎ, বন্দর ইত্যাদির মতো অবকাঠামো খাতের দ্রুত উন্নয়ন ঘটেছে।
৫. জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: এই শিল্পের মাধ্যমে অর্জিত আয়ের ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে এবং তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়েছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে তৈরি পোশাক শিল্পের সমস্যা হিসেবে শ্রমিক অসন্তোষ, ক্রেতাদের নানামুখী শর্তের চাপ এবং অন্যান্য দেশের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের উপায়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. শ্রমিক কল্যাণ ও কর্মপরিবেশ উন্নয়ন: শ্রমিক অসন্তোষ কমাতে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, উন্নত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা এবং মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। এটি ক্রেতাদের শর্তের চাপ মোকাবিলায়ও সহায়তা করবে।
২. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও পণ্যের বহুমুখীকরণ: তীব্র প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে এবং পণ্যের গুণগত মান উন্নত করতে হবে। কেবল মৌলিক পোশাকের ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ পোশাক উৎপাদনে মনোযোগ দিতে হবে।
৩. কাঁচামাল ও সাপ্লাই চেইন শক্তিশালীকরণ: কাঁচামালের অভাব পূরণের জন্য দেশের বস্ত্রশিল্প ও অন্যান্য সহায়ক শিল্পগুলোকে উন্নত করতে হবে, যাতে আমদানিনির্ভরতা কমে এবং একটি কার্যকর সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত হয়।
৪. নীতিগত সহায়তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: সরকারি প্রণোদনা প্রদান, সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা এবং একটি বিনিয়োগবান্ধব শিল্পনীতি প্রণয়ন করা উচিত। পাশাপাশি শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
পরিশেষে বলা যায়, এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প তার বর্তমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠে বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।