Facebook Pixel

বর্তমানে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ঋণ প্রদান করায় দেশে যেমন মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে তেমনি দ্রব্যমূল্যও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের সরকারি বন্ড আকর্ষণীয় শর্তে বিক্রয় করছে। তবুও দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় তালিকাভুক্ত ব্যাংকের নগদ জমার হারের পরিমাণ আগের তুলনায় ১% বৃদ্ধি করায় তা নিয়ন্ত্রণে আসে। ক. নিকাশ ঘর কী? খ. ঋণ নিয়ন্ত্রণ কেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম কাজ? ব্যাখ্যা কর। গ. কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে কোন নীতি গ্রহণ করে ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বিতীয় নীতি গ্রহণের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর ।

বিষয়: ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ কেন্দ্রীয় ব্যাংক

উৎস: Board Exam Question MSB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ব্যাংকিং লেনদেনের ফলে উদ্ভূত আন্তঃব্যাংক দেনা-পাওনার হিসাব নিষ্পত্তির স্থানকে নিকাশ ঘর বলে। (খ) ঋণের পরিমাণকে একটি নির্দিষ্ট বা কাম্য মাত্রায় বজায় রাখাকে ঋণ নিয়ন্ত্রণ বলে। অর্থবাজারে ঋণের আধিক্য থাকলে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয় এবং ঋণের স্বল্পতা থাকলে মুদ্রাসংকোচন বা অর্থনৈতিক মন্দাভাব দেখা দেয়। এই দুই প্রান্তিক অবস্থা অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে। তাই অর্থবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে এবং মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রাসংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ঋণ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ হিসেবে গণ্য হয়। (গ) উদ্দীপকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমে ঋণ নিয়ন্ত্রণের খোলাবাজার নীতি গ্রহণ করেছে। যে নীতির আলোকে বাজারে অর্থের সরবরাহ হ্রাস বা বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজারে সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ বা ট্রেজারি বিল ক্রয়-বিক্রয় করে, তাকে খোলাবাজার নীতি বলে। এই নীতির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান সামর্থ্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায় যে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত ঋণ প্রদানের ফলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাজারে অর্থের সরবরাহ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আকর্ষণীয় শর্তে সরকারি বন্ড বিক্রয় শুরু করে। যখন জনগণ বা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এই বন্ড ক্রয় করে, তখন তাদের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং তাদের ঋণদান ক্ষমতা কমে যায়। এতে বাজারে অর্থের সরবরাহ হ্রাস পায় এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কার্যক্রম খোলাবাজার নীতির সাথে সংগতিপূর্ণ। তাই বলা যায়, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমে খোলাবাজার নীতি গ্রহণ করেছে। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বিতীয় নীতি তথা জমার হার পরিবর্তন নীতি গ্রহণ যৌক্তিক হয়েছে। তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ তাদের আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ নগদে বা অনুমোদিত বন্ডের আকারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে বাধ্য থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন এই জমার হার পরিবর্তন করে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে, তখন তাকে জমার হার পরিবর্তন নীতি বলে। এর মধ্যে নগদে জমা রাখার হারকে নগদ জমার হার বা CRR বলা হয়। উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমে খোলাবাজার নীতি প্রয়োগ করলেও মুদ্রাস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার ১% বৃদ্ধি করে। জমার হার ১% বৃদ্ধি করার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট আমানতের আগের তুলনায় ১% অতিরিক্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে ঋণ দেওয়ার জন্য সহজলভ্য অর্থের পরিমাণ কমে যায়। ঋণদান ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় বাজারে ঋণের সরবরাহ কমে এবং সামগ্রিক অর্থ সরবরাহ হ্রাস পায়। এর ফলে অতিরিক্ত চাহিদা কমে গিয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সুতরাং, খোলাবাজার নীতি ব্যর্থ হওয়ায় এবং মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জমার হার পরিবর্তন নীতি গ্রহণ করা সম্পূর্ণ যৌক্তিক হয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenMymensingh Board (2025)

বর্তমানে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ঋণ প্রদান করায় দেশে যেমন মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে তেমনি দ্রব্যমূল্যও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের সরকারি বন্ড আকর্ষণীয় শর্তে বিক্রয় করছে। তবুও দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় তালিকাভুক্ত ব্যাংকের নগদ জমার হারের পরিমাণ আগের তুলনায় ১% বৃদ্ধি করায় তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

ক. নিকাশ ঘর কী?

খ. ঋণ নিয়ন্ত্রণ কেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম কাজ? ব্যাখ্যা কর।

গ. কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে কোন নীতি গ্রহণ করে ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বিতীয় নীতি গ্রহণের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যাবতীয় নিয়মকানুন মেনে চলার অঙ্গীকার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে চুক্তিবদ্ধ। অন্যদিকে, B ব্...

A ব্যাংকে B ব্যাংকের, B ব্যাংকে C ব্যাংকের ও C ব্যাংকে D ব্যাংকের কিছু চেক উপস্থাপিত হয় । উক্ত লেনদেনগুলোর নিষ্পত্তির জ...

A ব্যাংকে B ব্যাংকের, B ব্যাংকে C ব্যাংকের ও C ব্যাংকে D ব্যাংকের কিছু চেক উপস্থাপিত হয় । উক্ত লেনদেনগুলোর নিষ্পত্তির জ...

ABC ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাঝে সম্পাদিত আন্তঃব্যাংক লেনদেনের নিষ্পত্তির কাজ করে। পূর্বকার দিনে ব্যাংকটির একটি নির...

ABC ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাঝে সম্পাদিত আন্তঃব্যাংক লেনদেনের নিষ্পত্তির কাজ করে। পূর্বেকার দিনে ব্যাংকটির একটি নি...

AP ব্যাংক হলো সরকারি মালিকানাধীন জনকল্যাণমুখী একটি . আর্থিক প্রতিষ্ঠান । যেটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণের জ...

BACH এর পূর্ণরূপ কোনটি?

Clearing house বা নিকাশ ঘরের কাজ কোনটি?

COVID-19 এর কারণে দেশের ব্যবসায় বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় এখাতে বিনিয়োগ কমে যায়। বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ব্যাংকগু...

CRR-এর পূর্ণরূপ কী?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।