Facebook Pixel

বর্তমানে 'ক' রাষ্ট্রটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য, সেনা শাসন সব মিলিয়ে জনগণের জীবন বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় জাতিসংঘ দেশটির সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি কাজে দক্ষতা আনয়ন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার পরামর্শ দেয়। ক. কোন প্রতিষ্ঠান সুশাসনের ধারণা প্রবর্তন করে? খ. পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রটিতে কোন বিষয়টির অভাব পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত পরামর্শ মানলেই কি 'ক' রাষ্ট্রটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও ।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ধারণাটি প্রবর্তন করে। (খ) নাগরিক ও নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে বলে পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়। নাগরিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ নিয়ে পৌরনীতি অনুশীলন চালিয়ে যায়। নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের সাথে জড়িত ঘটনাবলি ও কার্যকলাপ এই শাস্ত্রে আলোচিত হয়। নাগরিক জীবনের ধর্মীয়, নৈতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক তথা সার্বিক দিকের আলোচনা পৌরনীতির বিষয়বস্তু। তাই পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়। (গ) উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রটিতে সুশাসনের অভাব পরিলক্ষিত হয়। সুশাসন হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রশাসনের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও জনগণের অংশগ্রহণের সমান অধিকার থাকে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডয় অংশগ্রহণ করা। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সামাজিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। সুশাসনের ফলে সমাজ থেকে দারিদ্র্য নির্মূল করা সহজ হয়। এতে আইনের শাসন নিশ্চিত হয় বলে রাজনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণ ও জনমতের প্রাধান্য বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ সুশাসনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় বলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সেনা শাসনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় না। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য, সেনা শাসন সব মিলিয়ে জনগণের জীবন বিপর্যস্ত। 'ক' রাষ্ট্রের এমন পরিস্থিতি সুশাসনের অভাবকেই নির্দেশ করে। কারণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এসব সমস্যা নিরসন হয়, যা উপরের আলোচনায় ফুটে উঠেছে। সুতরাং, এটি স্পষ্ট যে, উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে সুশাসনের অভাব পরিলক্ষিত হয়। (ঘ) না, শুধু উদ্দীপকে বর্ণিত পরামর্শ মানলেই 'ক' রাষ্ট্রটি সুশাসনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলার জন্য জাতিসংঘ সরকারি কাজে দক্ষতা আনয়ন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ার পরামর্শ দেয়। এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে সরকারের কিছু দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত হবে। যেমন, সরকারের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এগুলোর পাশাপাশি আরও যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে তা হলো, অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন, আইনের শাসন ও ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ প্রভৃতি। অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনায় রাষ্ট্রের সম্পদের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সর্বস্তরের জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা হয়। এটি নিশ্চিত করলে 'ক' রাষ্ট্রের দারিদ্র্য বিমোচন সহজ হবে। আবার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে নাগরিক স্বাধীনতা, মূল্যবোধ, মৌলিক অধিকার প্রভৃতি রক্ষিত হবে, যা রাষ্ট্রটিতে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা আনতে সহায়তা করবে। সর্বোপরি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে গণতান্ত্রিক পন্থায় সরকার গঠন করা যাবে, যা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসনকে ত্বরান্বিত করবে। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রটিকে সুশাসনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে জাতিসংঘ প্রদত্ত পরামর্শের পাশাপাশি উল্লিখিত বিষয়গুলোও নিশ্চিত করতে হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বর্তমানে 'ক' রাষ্ট্রটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য, সেনা শাসন সব মিলিয়ে জনগণের জীবন বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় জাতিসংঘ দেশটির সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি কাজে দক্ষতা আনয়ন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার পরামর্শ দেয়।

ক. কোন প্রতিষ্ঠান সুশাসনের ধারণা প্রবর্তন করে?

খ. পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রটিতে কোন বিষয়টির অভাব পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত পরামর্শ মানলেই কি 'ক' রাষ্ট্রটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।