Facebook Pixel

বর্ষীয়ান ইতিহাসবিদ জনাব 'ক' বিদেশি বিনিয়োগের সুবিধা-অসুবিধা সংক্রান্ত এক সেমিনারে বক্তৃতা প্রদানকালে বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিকে সচল করার জন্য উত্তম উদ্যোগ, কিন্তু পাশাপাশি আমাদের মনে রাখতে হবে, এমনই ব্যবসা করতে এসে পশ্চিমা দেশগুলো এই উপমহাদেশের মানুষের সরলতা এবং রাজন্যবর্গের দুর্বলতার সুযোগে এখানকার ভাগ্যবিধাতায় পরিণত হয়েছিল। তাই অত্যন্ত সচেতন দৃষ্টি নিয়ে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হবে। ক. কোন দেশের অধিবাসীরা ওলন্দাজ নামে পরিচিত? খ. ভাস্কো-দা-গামার পরিচয় দাও। গ. ইতিহাসবিদ জনাব 'ক' পশ্চিমা দেশ নিয়ে যে মন্তব্যটি করেছেন তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে আলোচনা করো। ঘ. পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কেন একটি দেশের একাধিপত্য উপমহাদেশে স্থায়ী হয়েছিল? বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমনঃ ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. হল্যান্ড বা নেদারল্যান্ডের অধিবাসীরা বাংলায় 'ওলন্দাজ' নামে পরিচিত। খ. পর্তুগিজ নাবিক ও অভিযাত্রী ভাস্কো-দা-গামা অত্যন্ত দুঃসাহসী ছিলেন। ইউরোপীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম সমুদ্রপথে ভারতবর্ষে আসেন। তিনি আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পর ১৪৯৮ সালের ২০ মে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কালিকট বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তার ভারতে আগমন বহির্বিশ্বের সাথে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে নবযুগের সূচনা করে। গ. ইতিহাসবিদ জনাব 'ক' পশ্চিমা দেশ তথা ভারতবর্ষে আসা ইউরোপীয় বাণিজ্যিক গোষ্ঠীগুলোর বাণিজ্যের বেশে ক্ষমতা দখল নিয়ে মন্তব্য করেছেন। প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন জাতির মানুষের আগমন ঘটেছে। কেউ এসেছে হানাদাররূপে, আবার কেউ বণিক বেশে। ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে সমুদ্রপথে ভারতে আসার পর থেকে একের পর এক ইউরোপীয় জাতি এখানে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসতে থাকে। এদের মধ্যে ছিল পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, দিনেমার, ইংরেজ, ফরাসি ইত্যাদি। এদের উদ্দেশ্য মূলত ছিল বাণিজ্য বা সম্পদ আহরণ করা। ভারতীয় উপমহাদেশের ধনসম্পদের কথা জানতে পেরে ইউরোপীয় দেশের বণিকরা বাণিজ্যিক কোম্পানি গঠন করে একে একে এ অঞ্চলে আসে। এক সময় ভারতের সম্পদ করায়ত্ত এমনকি রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য ইউরোপীয় জাতিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা জয়ী হয়। কালক্রমে তাদের বণিকের মানদণ্ড পরিণত হয় রাজদন্ডে। ভারতবর্ষ পরিণত হয় সুবিশাল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বর্ষীয়ান ইতিহাসবিদ জনাব 'ক' বিদেশি বিনিয়োগের সুবিধা-অসুবিধা সংক্রান্ত এক সেমিনারে বক্তৃতা প্রদানকালে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিকে সচল করার জন্য উত্তম উদ্যোগ, কিন্তু পাশাপাশি আমাদের মনে রাখতে হবে, এমনই ব্যবসা করতে এসে পশ্চিমা দেশগুলো এই উপমহাদেশের মানুষের সরলতা এবং রাজন্যবর্গের দুর্বলতার সুযোগে এখানকার ভাগ্যবিধাতায় পরিণত হয়েছিল। যা আমার পাঠ্যবইয়ের ভারতবর্ষে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আসা ইউরোপীয় বণিকদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ভারতবর্ষে আসার জলপথ আবিষ্কার করার পর থেকেই বিভিন্ন ঔপনিবেশিক শক্তি এ দেশে আসতে থাকে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ঔপনিবেশিক শক্তি অর্থাৎ ভারতবর্ষে আসা ইউরোপীয় বণিকদের মিল রয়েছে। ঘ. ভারতবর্ষে অন্য ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর চেয়ে আধিপত্য বিস্তারকারী দেশটি অর্থাৎ ইংরেজরা ছিল অনেক বেশি সুসংগঠিত। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে একের পর এক ইউরোপীয় জাতির আগমন ঘটে। যেমন- পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ফরাসি, ইংরেজ ইত্যাদি। কিন্তু কৌশল ও সামরিক শক্তিতে কেউ ইংরেজদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি। তারা একে একে ভারতবর্ষ ত্যাগে বাধ্য হয়েছিল। ইংরেজরা অত্যন্ত কৌশলী এবং সুসংগঠিত ছিল বলেই সবার ওপর আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়েছিল। ভারতবর্ষে ইংরেজদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মূল সূত্র ছিল বাণিজ্য। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ সালে ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের কাছ থেকে সনদ নিয়ে ভারত ও পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে (বর্তমান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) বাণিজ্য করতে আসে। ইংরেজ বণিকরা মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ভারতের পশ্চিম উপকূলীয় বন্দর সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি আদায় করে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রমে পূর্ব ভারতে হরিহরপুর, বালাসোর, পাটনা এবং কাশিমবাজারে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। তারা একসময় পশ্চিমবাংলার কলকাতা, সুতানটি এবং গোবিন্দপুর গ্রামের জমিদারি লাভ করে যেখানে পরে মহানগর কলকাতা গড়ে ওঠে। ইংরেজরা প্রথমে বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে ভারতে এলেও এক পর্যায়ে উচ্চাভিলাষী হয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনে সচেষ্ট হয়। স্থানীয় শাসকদের অন্তর্কোন্দল ও সামরিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তারা নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে এবং এক সময় ভারতে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করে। পরিশেষে বলা যায়, ঔপনিবেশিক ইংরেজরা যেমন ছিল সুকৌশলী তেমনি ছিল সুসংগঠিত। আর এর বলেই তারা অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের হটিয়ে ভারতে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বর্ষীয়ান ইতিহাসবিদ জনাব 'ক' বিদেশি বিনিয়োগের সুবিধা-অসুবিধা সংক্রান্ত এক সেমিনারে বক্তৃতা প্রদানকালে বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিকে সচল করার জন্য উত্তম উদ্যোগ, কিন্তু পাশাপাশি আমাদের মনে রাখতে হবে, এমনই ব্যবসা করতে এসে পশ্চিমা দেশগুলো এই উপমহাদেশের মানুষের সরলতা এবং রাজন্যবর্গের দুর্বলতার সুযোগে এখানকার ভাগ্যবিধাতায় পরিণত হয়েছিল। তাই অত্যন্ত সচেতন দৃষ্টি নিয়ে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হবে।

ক.

কোন দেশের অধিবাসীরা ওলন্দাজ নামে পরিচিত?

খ.

ভাস্কো-দা-গামার পরিচয় দাও।

গ.

ইতিহাসবিদ জনাব 'ক' পশ্চিমা দেশ নিয়ে যে মন্তব্যটি করেছেন তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে আলোচনা করো।

ঘ.

পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কেন একটি দেশের একাধিপত্য উপমহাদেশে স্থায়ী হয়েছিল? বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়...

‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়...

‘ তোবা ’ রোমান সভ্যতার ইতিহাস পড়ার সময় লক্ষ করল , রোমান সম্রাট নিরো তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যে শক্তিশালী সেনাবা...

ইউরোপীয় জাতিসমূহের মধ্যে দুঃসাহসী ও নৌবিদ্যায় পারদর্শী ছিল-

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে মীর কাসিম ছিলেন

দিনেমাররা কোন দেশের অধিবাসী?

পর্তুগিজরা বাংলাদেশে কী নামে পরিচিত?

পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর ইউরোপীয় সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?

পলাশীর যুদ্ধ কত তারিখে সংঘটিত হয়?

সিরাজউদ্দৌলার প্রকৃত নাম কী?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।