Facebook Pixel

বরিশাল ও ঢাকা একটি রাষ্ট্রের দুটি অঞ্চল। দুটি অঞ্চলের সকল অধিবাসী মুসলিম হলেও তাদের জীবনধারায় পার্থক্য সুস্পষ্ট। বরিশালের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে যে অর্থ উপার্জিত হয় তার সবটাই ঢাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় হয়। এমনকি ব্যাংক-বীমাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ ঢাকায় গড়ে উঠে। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ঢাকার মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এমতাবস্থায় বরিশালের বঞ্চিত জনগোষ্ঠী একসময় বিক্ষুব্ধ হয়ে স্বাধিকারের দাবি জানায়। ক. লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন কে? খ. ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের ভূমিকা উল্লেখ কর। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বরিশাল ও ঢাকার মধ্যকার বৈষম্যের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসের কোন বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পিছনে উদ্দীপকের অনুরূপ পরিস্থিতি চালিকাশক্তি হিসেবে প্রেরণা যুগিয়েছিল'- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সামাজিক প্রেক্ষাপট

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক। খ. ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের ভূমিকা ছিত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তৎকালীন নারী সমাজ ছিল অত্যন্ত রক্ষণশীল। তা সত্ত্বেও মায়ের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মেয়েরা রক্ষণশীলতার প্রাচীর পেরিয়ে রাস্তায় নামে। ভাষার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে অনেক ছাত্রীই প্রথমে গোপনে পোস্টার লিখে, চাঁদা দিয়ে সহযোগিতা করতেন। অবশ্য ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অনেক মেয়ে সরাসরি মিছিল, মিটিং-এ ছেলেদের সঙ্গে অংশ নেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গের প্রথম শোভাযাত্রায় মেয়েরাই প্রথমে ছিলেন। নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনের অগ্নিকন্যা ছিলেন মর্গান বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম। এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, দিনাজপুর, সৈয়দপুরে নারী সমাজের ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা ছিল। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত শ্যামলপুর ও কমলগঞ্জের মধ্যকার বৈষম্যের সাথে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলে তৎকালীন পূর্ব বাংলা (বর্তমানে বাংলাদেশ) পাকিস্তানের একটি প্রদেশে পরিণত হয়। ফলে পাকিস্তানে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নামে দুটি প্রদেশের সৃষ্টি হয়। পশ্চিম পাকিস্তান নানাভাবে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতে থাকে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পূর্ব পাকিস্তানের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় কিছুই করার ছিল না। ১৯৪৭সালের পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তান তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা হাতে নেয়। যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য খুব কমই বরাদ্ধ ছিল। ১৯৪৭-১৯৭০ সাল পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয়ে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ দিল ৫৪.৭%। অথচ রপ্তানি আয় বেশি করলেও পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আমদানি ব্যয় ছিল মাত্র ৩১.১%। রপ্তানি আয়ের উদ্বৃত্ত অংশ পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ব্যয় করা হয় এবং সব ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন পশ্চিম পাকিস্তানেই করা হয়। সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প কলকারখানা পশ্চিম পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয়। আবার চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে অবজ্ঞা করা হতো এবং পশ্চিম পাকিস্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে শ্যামলপুর ও কমলগঞ্জের মধ্যেও এ ধরনের বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। ঘ. বাংলাদেশের স্বাধীনতা 'সংগ্রামের পিছনে উদ্দীপকের অনুরূপ পরিস্থিতি তথা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর বিক্ষুব্ধতা চালিকাশক্তি হিসেবে প্রেরণা যুগিয়েছিল" এ মন্তব্যটি খুবই যথার্থ। ১৯৪৭ সালে যখন পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয় তখন এর দুটি প্রদেশ ছিল। একটি পশ্চিম পাকিস্তান অন্যটি পূর্ব বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তান। তৎকালীন পূর্ব বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তানই বর্তমান বাংলাদেশ। পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিমাঞ্চলের পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী দেশের এ অঞ্চলকে (পূর্ব বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তান) উপনিবেশের মতো ব্যবহার করতে থাকে। এ অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হতে থাকে। সাংস্কৃতিক বৈষম্যের প্রথম হস্তক্ষেপ পড়ে রাষ্ট্রভাষার ওপর। পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী অধিকাংশ লোকের মুখের ভাষা বাংলা থাকা সত্ত্বেও উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নিলে পূর্ব বাংলার জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। তারা রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে। আত্মত্যাগ করে, যা ভাষা আন্দোলন নামে পরিচিত। ১৯৫৪ ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেও বাঙালিরা ক্ষমতায় বসতে পারেনি। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিমাতাসুলভ আচরণে এদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ ও সোচ্চার হয়ে ওঠে স্বাধিকার আদায়ের দাবিতে। এক পর্যায়ে বাঙালিরা স্বাধীনতা সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়। ছিনিয়ে আনে লাল-সবুজের পতাকা। বিশ্বের মানচিত্রে জন্মলাভ হয় স্বাধীন বাংলাদেশের। অতএব বলা যায়, পূর্ব বাংলায় বঞ্চিত জনগোষ্ঠী বিক্ষুব্ধ হয়ে স্বাধীকারের দাবি জানায় তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চালিকাশক্তি হিসেবে প্রেরণা যুগিয়েছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বরিশাল ও ঢাকা একটি রাষ্ট্রের দুটি অঞ্চল। দুটি অঞ্চলের সকল অধিবাসী মুসলিম হলেও তাদের জীবনধারায় পার্থক্য সুস্পষ্ট। বরিশালের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে যে অর্থ উপার্জিত হয় তার সবটাই ঢাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় হয়। এমনকি ব্যাংক-বীমাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ ঢাকায় গড়ে উঠে। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ঢাকার মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এমতাবস্থায় বরিশালের বঞ্চিত জনগোষ্ঠী একসময় বিক্ষুব্ধ হয়ে স্বাধিকারের দাবি জানায়।

ক.

লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন কে?

খ.

ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের ভূমিকা উল্লেখ কর।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত বরিশাল ও ঢাকার মধ্যকার বৈষম্যের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসের কোন বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

'বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পিছনে উদ্দীপকের অনুরূপ পরিস্থিতি চালিকাশক্তি হিসেবে প্রেরণা যুগিয়েছিল'- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. কত সালে প্রাদেশিক নির্বাচন হয়েছিল? খ. জাতীয়তাবাদ হচ্ছে সকল মানুষের ঐক্য- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে চিত্র-'ক' কোন আন্দ...

ক. লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয় কত সালে? খ. দ্বিজাতি তত্ত্ব কী? বুঝিয়ে লেখো। গ. সঠিক তথ্য ঘটনাপঞ্জি দিয়ে ছকটি পূরণ করো। ঘ. ছক...

ক. যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় কখন? খ. দ্বিজাতি তত্ত্বটি বর্ণনা কর। গ. ছয় দফা কবে সংঘটিত হয়? এর সামাজিক গুরুত্ব বর্ণনা কর। ঘ. কত...

ক. কত সালে ভারত বিভক্ত হয়? খ. 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ' ধারণাটি ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র 'ক'-এ নির্দেশিত আন্দোল...

ক. তমদ্দুন মজলিশ কার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে? খ. ছয় দফাকে মুক্তির সনদ বলা হয় কেন- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে কোন আন্দোলনের কথা বল...

ক. চাকমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের নাম কী? খ. শালবন বিহার বলতে কী বোঝায়? গ. গ্রাফচিত্রে ১৯৫২ সালটি গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ...

“ এই ভাষারই মান বাঁচাতে প্রাণ দিয়েছে ওঁরা ওঁদের জন্যে প্রভাত ফেরি , মিছিল , ফুলের তোড়া , আমার ভায়ের রক্তে লেখা ...

“ক” নামক রাষ্ট্রের সরকার ৫% লোকের ভাষাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে অসংখ্য মানুষ প্...

অঞ্চলটিতে ধান, পাটের মতো অর্থকরী ফসল উৎপন্ন হয়। কিন্তু এসব থেকে আয় চলে যায় শাসকদের অঞ্চলে। বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয় খুব...

অত্যাচারী শাসকরা মানুষের ভাষা, বর্ণের ওপর আঘাত করে। মানুষ নেমে আসে রাজপথে। হরতাল, ধর্মঘট, মিছিল, মিটিংয়ের মাধ্যমে চলে প...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।