Facebook Pixel

বরভূমি প্রদেশটি আয়তনে অনেক বড় এবং জনসংখ্যাও বিপুল। একজন মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে শাসন করা সম্ভব নয়। তাই জনসংখ্যার একটি অংশ বরভূমি প্রদেশটিকে বিভক্ত করে দু'টি প্রদেশ গঠন করার দাবি জানান। এক পর্যায়ে শাসন কর্তৃপক্ষ বরভূমি প্রদেশকে বিভক্ত করে দু'টি প্রদেশ গঠন করে। ক. পলাশীর যুদ্ধ হয় কত সালে? খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তোমার পাঠ্যপুস্তকের ঐতিহাসিক ঘটনার ফলাফল আলোচনা করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. পলাশীর যুদ্ধ হয় ১৭৫৭ সালে। খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে প্রদেশগুলোর স্বাধীন শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয়েছিল। এতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন তিনটি নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। প্রথমত, সংবিধান অনুযায়ী প্রাদেশিক সরকারের ওপর ন্যস্ত বিষয়গুলোতে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। দ্বিতীয়ত, প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রদেশ আত্মনির্ভরশীল হবে। মোটকথা প্রদেশগুলোর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা প্রাপ্তি এবং প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্বশীল হওয়াই হলো প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে আমার-পাঠ্যপুস্তকের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' ঘটনার মিল রয়েছে। বঙ্গভঙ্গ হলো ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন কর্তৃক বিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি পৃথক প্রদেশ গঠন করা। তৎকালীন বাংলা প্রদেশটি আয়তনে অনেক বড় এবং জনসংখ্যায় বিপুল হওয়ায় একজন গভর্নরের পক্ষে এর সুষ্ঠু শাসন পরিচালনা করা কঠিন ছিল। প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অবহেলিত পূর্ব বাংলার উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উদ্দীপকের 'বরভূমি' প্রদেশটি আয়তনে বড় এবং জনসংখ্যায় বিপুল হওয়ায় একজন মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে শাসন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল, যা ১৯০৫ সালের অবিভক্ত বাংলার পরিস্থিতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে যেমন জনসংখ্যার একটি অংশের দাবির প্রেক্ষিতে প্রদেশটি বিভক্ত করা হয়, তেমনি ঐতিহাসিকভাবেও পূর্ব বাংলার মুসলমানদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং প্রশাসনিক সুবিধার্থে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন। সুতরাং, উদ্দীপকের 'বরভূমি' প্রদেশ বিভক্তির ঘটনাটি মূলত ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গকেই নির্দেশ করে। ঘ. উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনা তথা বঙ্গভঙ্গের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক অগ্রগতির ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ একটি অন্যন্য সাধারণ ঘটনা। বঙ্গভঙ্গের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। বঙ্গভঙ্গের ফলে ব্রিটিশ শাসকদের অনুসৃত 'ভাগ কর ও শাসন কর নীতি' (Divide & Rule Policy) জয়যুক্ত হয়। ব্রিটিশ শাসকগণ কৌশলে হিন্দু ও মুসলমান জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়। এর ফলে ভারতের বৃহত্তম দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায় চিন্তা-চেতনার দিক থেকে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বঙ্গভঙ্গের দ্বারা ব্রিটিশ শাসকগণ কৌশলে কলকাতাকেন্দ্রিক সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নস্যাৎ করার সুযোগ লাভ করে। কারণ কলকাতা শহরের লেখক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ পূর্ববাংলার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বঙ্গভঙ্গের ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার বঙ্গভঙ্গ হিন্দু-মুসলিম জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক চেতনার বিষবৃক্ষ রোপণ করে। এ সাম্প্রদায়িক চেতনাই পরবর্তীকালে ভারত বিভাগকে ত্বরান্বিত করে। বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশের অস্তিত্ব রক্ষা এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে ১৯০৬ সালে ঢাকায় 'মুসলিম লীগ' নামক রাজনৈতিক সংগঠনের জন্ম হয়। বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণ খুশি হলেও হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়নি। এ জন্যই বঙ্গভঙ্গ রদ করার জন্য হিন্দু জনগণ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন শুরু করে। এতে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বঙ্গভঙ্গ রদ করার জন্য হিন্দু জনগণ এবং কংগ্রেস স্বদেশি আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলনকারীরা বিলেতি দ্রব্য বর্জন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালত বর্জনের ডাক দেয়। ফলে কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং জনজীবন বিপর্যপ্ত হয়ে পড়ে। পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ব্রিটিশরা পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের পশ্চিম বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের থেকে আলাদা করে দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে। এ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যকার অনৈক্য ভারতে তাদের শাসনকে আরো শক্তি যুগিয়েছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বরভূমি প্রদেশটি আয়তনে অনেক বড় এবং জনসংখ্যাও বিপুল। একজন মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে শাসন করা সম্ভব নয়। তাই জনসংখ্যার একটি অংশ বরভূমি প্রদেশটিকে বিভক্ত করে দু'টি প্রদেশ গঠন করার দাবি জানান। এক পর্যায়ে শাসন কর্তৃপক্ষ বরভূমি প্রদেশকে বিভক্ত করে দু'টি প্রদেশ গঠন করে। 

ক.

পলাশীর যুদ্ধ হয় কত সালে?

খ.

প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকের ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তোমার পাঠ্যপুস্তকের ঐতিহাসিক ঘটনার ফলাফল আলোচনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।