ক.
'NATO' (ন্যাটো)-এর পূর্ণরূপ হলো- North Atlantic Treaty Organization.
খ.
Cold War বা স্নায়ুযুদ্ধ মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ যা দুটি বিরোধী মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব থেকে উদ্ভূত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর দুটি পরস্পরবিরোধী রাষ্ট্র জোট প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ না হয়ে পরস্পরের প্রতি যে যুদ্ধভাব বিরাজ করছিল বা সংগ্রামে লিপ্ত ছিল তাকেই স্নায়ুযুদ্ধ বা Cold War বলে অভিহিত করা হয়। মূলত যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয় সাধারণত এ ধরনের সম্পর্ককে স্নায়ুযুদ্ধ বলে।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ছায়াযুদ্ধ' বা 'স্নায়বিক উত্তেজনা'র সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের আলোচিত কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাদৃশ্যতা রয়েছে।
যুদ্ধ যুদ্ধ অবস্থা কিন্তু প্রকৃত যুদ্ধ নয়- এরূপ স্নায়বিক উত্তেজনার পরিস্থিতিই হলো স্নায়ুযুদ্ধ বা ছায়াযুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে এরূপ রেষারেষি প্রতিক্রিয়া সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিশ্ব দুটি ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়ে। স্নায়ুযুদ্ধ বা ছায়াযুদ্ধকালে বৃহৎ শক্তিগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি বরং দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে কেন্দ্র করে নিজেদের আদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে। কোরিয়া যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া সমাজতান্ত্রিক শক্তির এবং দক্ষিণ কোরিয়া পুঁজিবাদী শক্তির সমর্থন পায়। একইভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি যুদ্ধ না করে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল।
উপরের বর্ণিত আলোচনার সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য লক্ষণীয়। অর্থাৎ উদ্দীপকের ছায়াযুদ্ধ বা স্নায়বিক উত্তেজনার সাথে কোরিয়াও ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাদৃশ্যতা বিদ্যমান।
ঘ.
হ্যাঁ, স্নায়ুযুদ্ধের আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও সামরিক জোটের রাজনীতিই। বর্তমান বিশ্বের 'নতুন মেরুকরণের মূলভিত্তি।
স্নায়ুযুদ্ধের মূলভিত্তি ছিল পুঁজিবাজ ও সমাজতন্ত্রের আদর্শিক দ্বন্দ্ব এবং NATO ও ওয়ারশ জোটের মতো সামরিক জোটভিত্তিক রাজনীতি। এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিশ্ব রাজনৈতিক দুটি মেরুতে বিভক্ত রেখেছিল। এসময়ে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো সামরিক জোট, অর্থনৈতিক সাহায্য, অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও প্রক্সি যুদ্ধের মাধ্যমে প্রভাব বলয় বিস্তার করে। সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে গিয়েও তারা বিশ্ব রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুঁজিবাদ সমর্থিত শক্তিগুলোকে নিয়ে ১৯৪৯ সালে NATO (ন্যাটো) গঠিত হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সামরিক দিক থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে অবরোধ রাখা। পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহের প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার জন্য ১৯৫৫ সালে 'ওয়ারশ চুক্তি সংস্থা' (Warsaw Pact Treaty) গঠিত হয়। ফলে পুঁজিবাজ ও সমাজতান্ত্রিক দ্বন্দ্ব আরও চরম আকার ধারণ করে যার রেশ আজ পর্যন্ত চলমান। আজও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে গিয়ে কূটনৈতিক ও সামরিক জোটের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে। বর্তমানে মেরুকরণ স্নায়ুযুদ্ধের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠেছে, আদর্শিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও কৌশলগত স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান মেরুকরণ পরিবর্তিতরূপে বিদ্যমান হলেও স্নায়ুযুদ্ধের আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও সামরিক জোটের রাজনীতির ভিত্তিতেই এর উদ্ভবই ঘটেছে।
তাই পরিশেষে বলা যায়, স্নায়ুযুদ্ধের আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও সামরিক জোটের রাজনীতিই বর্তমান বিশ্বের নতুন মেরুকরণের মূলভিত্তি।