ক.
কযেসব শিল্প পারিবারিক শ্রমের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় তাকে কুটিরশিল্প বলে। বাস্তবে বা পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতায় যে শিল্প পরিচালিত হয় তা কুটিরশিল্পের মধ্যে পড়বে। এসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ টাকার নিচে হবে এবং সর্বোচ্চ ১৫ জন শ্রমিক কাজ করবে।
খ.
পৃথিবীর অপরাপর দেশ হতে আমদানিকৃত পণ্যদ্রব্য হ্রাস করে উক্ত দ্রব্য উৎপাদনে দেশের অভ্যন্তরে শিল্প স্থাপন, উৎপাদন এবং যোগান দেওয়াই হলো আমদানি বিকল্প শিল্প। আমদানি বিকল্প বলতে শুধু অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি দ্বারা দেশীয় চাহিদা মেটানো বোঝায়। এরূপ শিল্পায়নের ফলে একটি দেশে তার বৈদেশিক বাণিজ্যিক ঘাটতি ব্যবধান হ্রাস করে স্বয়ংসম্পূর্ণতার সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে উন্নয়নের দিকে ধাবিত হতে পারে। কৃষি, শিল্প ও সেবা প্রতিটি ক্ষেত্রে আমদানি বিকল্প ধারণা প্রয়োগ করা যায়। কোনো দেশের জনগণ যখন দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হয়, তখন সেখানে এ নীতি প্রয়োগ করা সহজ হয়।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে বর্তমানে বিরাজমান কিছু উল্লেখযোগ্য সমস্যা রয়েছে। যদিও বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্প দ্রুত বিকাশমান এবং উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় শিল্প, তথাপি এতে বিবিধ সমস্যা বিদ্যমান। এসব সমস্যার মধ্যে একটি অন্যতম সমস্যা হচ্ছে দক্ষ শ্রমিকের অভাব। শ্রমনিবিড় এ দেশের পোশাক শিল্পে যথেষ্ট শ্রম যোগান থাকলেও এসব শ্রমিকের অধিকাংশই অদক্ষ, কম উৎপাদনশীল ও প্রশিক্ষিত নয়। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কাঁচামালের যোগান সীমিত। এছাড়াও আমদানিকৃত কাঁচামালের মান নিম্ন। ফলে এ শিল্প যথাযথভাবে বিকশিত হতে ব্যর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশে এখনও পর্যাপ্ত মূলধনের প্রবাহ সম্ভব হচ্ছে না। তাই নতুন ও পুরাতন উদ্যোক্তাদের জন্য শিল্পঋণ সরবরাহ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু এদেশে আর্থিক ঋণ সুবিধার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা বিদ্যমান। যার ফলে পোশাক শিল্পের উৎপাদন ও উন্নয়ন যথেষ্ট বাধাপ্রাপ্ত হয়। আবার সম্ভাবনাময় এ শিল্প বর্তমানে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। বিদ্যমান তীব্র প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে ও টিকে থাকতে অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারে না। ফলে এ শিল্পের দেশীয় সুনাম নষ্ট হচ্ছে, যা বাজারকে সংকীর্ণ করে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যের কোটা পদ্ধতির কারণে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে, যা দেশে শিল্পের স্বাভাবিক সম্প্রসারণকে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে বিদ্যমান অসংখ্য সমস্যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এসব কারণই উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ.
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সমস্যাবলি সমাধানের জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। এদেশের তৈরি পোশাকের আইটেম সংখ্যা কম ও পণ্যের গুণগত মান স্থির নয়। তাই আমার প্রথম সুপারিশ হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাজার দখল করতে পণ্যের আইটেম সংখ্যা বৃদ্ধি ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে শ্রমের পর্যাপ্ত যোগান থাকলেও এসব শ্রমিক অদক্ষ ও প্রায়ই কারিগরি জ্ঞানশূন্য। এসব অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অধিক উৎপাদনশীল শ্রমিক তৈরি করা আবশ্যক। একই সাথে এসব শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির সুপারিশ করব। কেননা এতে শ্রমিকের কর্মনৈপুণ্য বৃদ্ধি পায়। শ্রমিকের কর্মপরিবেশ নিরাপদ ও উন্নত করা এবং মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন করতে হবে। পোশাক শিল্পের সমস্যাসমূহ দূরীকরণে অন্যান্য ব্যবস্থার সাথে সাথে শিল্পের কারিগরি উন্নতির প্রয়োজন। এজন্য শিল্পে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। বর্তমানে পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল বস্ত্র শিল্প প্রায় সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। তাই দেশীয় বস্ত্র শিল্পের উন্নয়নসহ অন্যান্য কাঁচামালের সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে। পোশাক শিল্পের বড় সমস্যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, লোডশেডিং, অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ ইত্যাদি। এক্ষেত্রে আমার সুপারিশ হচ্ছে পোশাক শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ প্রভৃতির সরবরাহ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তথা হরতাল- ধর্মঘট প্রভৃতির বাইরে পোশাক শিল্পকে রাখতে মতৈক্য গ্রহণ করতে হবে। পোশাক শিল্পে পর্যাপ্ত ঋণের সুবিধা ও করমুক্ত বাণিজ্য সীমা প্রসার করতে হবে। রপ্তানিকে উৎসাহিত করে ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের সুবিধা প্রদান করতে হবে, যা এ শিল্পকে দ্রুত প্রসারিত করবে। এছাড়াও এ খাতের সমস্যা সমাধানে ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করব, যা শিল্পটিতে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান পর্যাপ্ত হবে।