ক.
পুষ্টিহীনতা হলো খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত ভারসাম্যহীনতার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি।
খ.
সাধারণভাবে একজন স্ত্রী ও একজন পুরুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একসাথে বসবাস করলে তাকে পরিবার বলা হয়- সমাজবিশ্লেষকদের মতে, বিবাহের মাধ্যমে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈধ যৌন সম্পর্ক সৃষ্টি হয় এবং এ সম্পর্কই নারী-পুরুষের সম্পর্কের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করে এবং সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালনের সুযোগ প্রদান করে। স্বামী-স্ত্রীর এরূপ বন্ধনের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে পরিবার। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার পরিবার সম্পর্কে বলেন, “পরিবার হচ্ছে এমন একটি গোষ্ঠী, যাকে সুস্পষ্ট জৈবিক সম্পর্কের দ্বারা সুনির্দিষ্ট করা যায় এবং এটি সন্তান-সন্ততির জন্মদান ও তাদের লালন-পালনের একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান।”
গ.
উদ্দীপকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সামাজিক সমস্যাকে বোঝানো হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও মানুষের কর্মকাণ্ড দ্বারা এই স্বাভাবিক পরিবর্তনটি সমস্যায় রূপান্তরিত হয়েছে। সাধারণত জলবায়ু হলো কোনো এলাকার কমপক্ষে ৩০ বছরের গড় আবহাওয়া। আর জলবায়ু পরিবর্তন হলো বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহের গতিপ্রকৃতি ও পরিসংখ্যাগত মানের সাধারণ অবস্থার তাৎপর্যপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন। কানাডিয়ান সরকারের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন হলো দীর্ঘ সময়ব্যাপী আবহাওয়ার অবস্থানগত পরিবর্তন। আর এ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, বায়ুপ্রবাহ ও আবহাওয়ার অন্যান্য সূচকগুলোর মধ্যে। তাই বলা যায়, গ্রিন হাউস প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিরাজমান আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতিতে যে পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকে জলবায়ু পরিবর্তন বলে।
সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, কৃষিজমি হ্রাস, খাদ্য উৎপাদন ব্যহত, নদী শুকিয়ে যাওয়া, মরুকরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা— ঝড় অতি বৃষ্টি, খরা, ভূমিকম্প বৃদ্ধি, ভূমিধস, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলাফল। জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। ভৌগোলিক অবস্থনাগত কারণে বাংলাদেশ জলবায়ু সংকটের স্বীকার সবচেয়ে বেশি। উদ্দীপকের সমস্যাটিতেও একে বৈশ্বিক সংকট হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে উক্ত সমস্যাটির প্রভাবে কথা বলা হয়েছে তা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক ফলাফলেরই আওতাভুক্ত। তাই উদ্দীপকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সামাজিক সমস্যার কথা বলা হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা তথা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার ফলে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সমাজকর্মীর ভূমিকা বহুমুখী।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ যেমন বেশি, তেমনি এ থেকে উদ্ভূত সমস্যাও অসংখ্য। সামাজিক বিশৃঙ্খলা, পুষ্টিহীনতা, চুরি, ছিনতাই, অপরাধ, মাদকাসক্তি, মানসিক “ ভারসাম্যহীনতা, বিভিন্ন রোগের প্রকোপসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা “দেয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে মারাত্মক আকারে দেখা দেয় অভিযোজন (Adaptation) জনিত "সমস্যা। কারণ দুর্যোগজনিত যে পরিবর্তন হয়ে থাকে তার সাথে মানুষ সহজে মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় সমাজকর্মী তিন ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকেন—
(ক) দুর্যোগ-পূর্ববর্তী সময়ে;
(খ) দুর্যোগকালীন এবং
(গ) দুর্যোগ- পরবর্তী সময়ে।
দুর্যোগের হাত থেকে রেহাই পেতে বা দুর্যোগ প্রতিরোধে সমাজকর্মীগণ সচেতনতা ও প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন । এক্ষেত্রে জনগণকে দুর্যোগের পূর্বলক্ষণ সম্পর্কে ধারণা প্রদান, দুর্যোগের হাত থেকে রেহাই পেতে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ, শুকনা খাবার ও পানীয় জল সংরক্ষণ, সম্পদ ও গবাদিপশু সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতন করে তোলেন।
দুর্যোগকালে সমাজকর্মীগণ ত্রাণ বিতরণ, আহত লোকদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় নেতৃত্ব এবং স্বেচ্ছাসেবীদের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকেন।
দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে তার আলোকে পুনর্বাসন ও সক্ষমতা সৃষ্টিতে সমাজকর্মীগণ সমাজকর্মের পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করে থাকেন। এক্ষেত্রে ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি পর্যায়ে ব্যক্তির অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, দলীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ এবং সমষ্টির সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে দুর্যোগজনিত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেন। এ সকল কাজে সমাজকর্মীগণ স্থানীয় স্বেচ্ছাচারী সংস্থা, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করে থাকেন।